দ্বিতীয় বৃহত্তম বায়ুসেনা ঘাঁটি হয়ে উঠছে বর্ধমানের পানাগড়, নজর থাকবে চিনের!

0
3497
c130j-hercules aircraft

ওয়েবডেস্ক: ডোকলাম নিয়ে চিন-ভারত বিরোধ নিষ্পত্তির পর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নিল দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। বর্ধমানের পানাগড়ে অবস্থিত অর্জন সিংহ বায়ুসেনা ঘাঁটির সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেমন দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড়োসড়ো আধুনিকীকরণ ঘটবে তেমনই সারা বিশ্বের কাছে দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরা যাবে।

১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতা থেকে মাত্র ১৫০ কিমি দূর্ বর্ধমানের পানাগড়ে নির্মাণ করা হয় বায়ুসেনা ঘাঁটি। তার পর থেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে রয়েছে এই এয়ারবেস। ১৯৬৫-১৯৭১, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধেও এই ঘাঁটি এক গরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এখানে বর্তমানে আমেরিকার তৈরি সি১৩০জে হারকিউলিস যুদ্ধবিমান মজুত রয়েছে। এই যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যেই ইরাক এবং আফগানিস্তানের যুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। এই বিশেষ যুদ্ধ বিমানের ব্যাপারে নয়াদিল্লির কাছে গাজিয়াবাদে অবস্থিত হিন্দোন ঘাঁটির পরই পানাগড়ের স্থান। সে দিক থেকে সারা বিশ্ব বিশেষত প্রতিবেশী দেশ চিনের নজরে সর্বদাই রয়েছে এর উপর। গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন বায়ু সেনাপ্রধান অর্জন সিংহের মৃত্যুর পর এটির নামকরণ হয় তাঁর মতো এক বীর যোদ্ধার নামে।

সম্প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ঘাঁটির সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় জমি চেয়ে রাজ্যের কাছে আবেদন জানিয়েছে। বর্তমানে যে জায়গায় এয়ারবেসটি অবস্থিত তার লাগোয়া গ্রামগুলি থেকেই জমি নেওয়া হবে বলে প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজকুসুম, বান্দ্রা, ফরাকিডাঙা গ্রামগুলি থেকে প্রয়োজনীয় জমি নেওয়া হতে পারে বলেও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। জমির ব্যাপারে এখনও কোনো স্থির সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও সূত্রের খবর, এখানে জমি নিতে খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এই অঞ্চলের জমিতে সে ভাবে চাষের কাজ হয় না। ফলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেলে জমিমালিকরা দেশের প্রতিক্ষার স্বার্থে তা ছেড়ে দিতে দ্বিধা করবেন না। এ ব্যাপারে সমীক্ষার কাজ চলছে।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সব কিছু ঠিকঠাক চললে দ্বিতীয় বৃহত্তম বায়ুসেনা ঘাঁটির স্বীকৃত পাবে অর্জন সিংহ এয়ারবেস। এর সম্প্রসারণে আনুমানিক ব্যয় ধার্য করা হয়েছে ৬৪,৭০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় এখানে ৯০০০০ সশস্ত্র সেনার থাকার বন্দোবস্ত করা যাবে আগামী পাঁচ বছরে। ভারত-চিন বর্তমান সম্পর্কের রেশ ধরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো ঘটনার উপর যে ওদের নজর থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here