হরিয়ানার দুই দলিত নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-সহ ধৃত আট

0
180
rape haryana dalit

ওয়েবডেস্ক : বাকি যা কিছু নিয়েই লড়াই আর মতবিরোধ থাকুক না কেন, নারী নির্যাতনের চেহারাটা সীমানার এ-পার ও-পারে প্রায় একই রকম। হরিয়ানায় দুই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনার মধ্য দিয়ে ফের প্রমাণ হয়ে গেল এই সত্য।

মাত্র সপ্তাহ খানেক আগেই সংবাদমাধ্যম তোলপাড় করেছিল পাকিস্তানের পঞ্জাব এলাকার আট বছরের একটি মেয়ের নিখোঁজ, ধর্ষণ আর তার পর খুন করে ফেলে রাখার ঘটনাটাকে ঘিরে।

তার পরই সীমানার এ পারে প্রায় একই রকম দু’টি ঘটনায় হাড় হিম করে দিল সুস্থ বুদ্ধির মানুষের। আজ থেকে ছ’ বছর আগে ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এমনই এক শীতের রাতের একটা হাড় হিম করা ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল গোটা সংবাদমাধ্যম। বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। ধিক্কার আর দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। বিচারের জন্য গলা তুলে ছিল বিভিন্ন মহল। কিন্তু তার পরও কি বদলেছে পরিস্থিতি? এত টুকুও না। উলটে পরিসংখ্যান ক্রমশ বেড়েই গিয়েছে। ২০০৪ সালের ভারতে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ১৮২৩৩। ২০১০ সালে সেই সংখ্যা চড়চড়িয়ে বেড়ে হয়েছে ২২১৭২। আর ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান বলছে ধর্ষণের সংখ্যা গোটা ভারতে ৩৮৯৪৭। এই হিসেব অনুযায়ী ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন জায়গার ১০৬ জন মেয়ে প্রতি দিন ধর্ষিত হয়েছেন। আর বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে ডুকরে কেঁদে উঠেছে। আর শ’য়ে শ’য়ে নির্যাতিতা চিৎকার করেছে বাঁচার চেষ্টায়। কিন্তু নিরাপত্তাকে কলা দেখিয়ে পরিস্থিতি পরিবেশ আরও জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা আরও গভীরতর হয়ে উঠেছে। বদলেছে সরকার, বদলেছে সাল তারিখ মাস দিনের হিসেব। কিন্তু মেয়েদের ওপর নৃশংস অত্যাচারের পদ্ধতি বদলায়নি এতটুকু।

বিজ্ঞাপন

দু’টি নাবালক দলিত মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ আর খুন করা হয়েছে হরিয়ানায়। এক জনের বয়স এগারো, আর একজন ১৫ বছরের। একাধিকবার ধর্ষণ করার পর সাংঘাতিক শক্ত আর ভোঁতা অস্ত্র ঢুকিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে তাদের যৌনাঙ্গ। তার পর খুন করে ফেলে রাখা হয়েছে। মাস খানেক আগেই হরিয়ানার হিসার জেলার উকলাতেই এমন ঘটনা ঘটেছিল একটি ছ’ বছরের শিশুর সঙ্গেও।

পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট রাহুল শর্মা জানিয়েছেন, রবিবার সকালে ১১ বছরের কিশোরীর দেহ পাওয়া গিয়েছে পানিপথ জেলার একটা গ্রামে। শনিবার সন্ধেবেলায় সে যখন জঞ্জাল ফেলতে বাড়ি থেকে বের হয় তখন দু’জন তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এলাকার দু’ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে রবিবার। দুষ্কৃতীরা প্রমাণ লোপাটের জন্য নাবালিকার পোশাক পুড়িয়ে ফেলেছে।

আর একটি ঘটনা জিন্দ জেলার। নাবালিকার দেহ পাওয়া গিয়েছে বুদ্ধখেরা গ্রামে। মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ কুরুক্ষেত্র গ্রামের ১৫ বছরের এই নাবালিকা। দশম শ্রেণির এই পড়ুয়া টিউশন পড়তে বেরিয়েছিল। তার পর আর বাড়ি আসেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে ১৯টা ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে তার শরীরে। তা ছাড়া শরীরের ভেতরে একাধিক ক্ষত। সঙ্গে ভোঁতা শক্ত অস্ত্রের সাহায্যে যৌনাঙ্গে নৃসংশভাবে আঘাতের চিহ্ন। ঘটনায় ঝাসা এলাকার সন্দেহভাজন ছ’ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা প্রত্যেকেই নাবালিকার প্রতিবেশী। মূল অভিযুক্ত দ্বাদশ শ্রেণির এক পড়ুয়া।

ঘটনা দু’টির তদন্তের জন্য তদন্তকারী দু’টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।

হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভুপিন্দর সিং হুডা বলেন, বিজেপির আমলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।

কিন্তু এই ভাবে দায় ঠেলাঠেলি করে আর কত দিন? বয়সের গাছ পাথর ভুলে দু’ বছরের শিশু থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধাও এই নৃশংসতা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। সমাজ কোন অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে? তা নিয়ে কি শাসকমহলের কপালে চিন্তার ভাঁজ একটুও পড়ছে না? কেন এই নিরাপত্তাহীনতা? অপরাধীদের কেন হচ্ছে না কোনো কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি? নারীজাতির প্রতি এই নৃশংসতার ইতি কি আসবে না কোনো দিনও?

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here