দেশে ‘বেকারত্বের হার’ ৫ শতাংশ, পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ

0
302

২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে যা সর্বোচ্চ। শ্রমিক ব্যুরোর করা নিযুক্তি-বেকারত্ব সমীক্ষা থেকে এই তথ্য জানা গিয়েছে। সাধারণের চোখে বেকারত্বের এই হার খুব কম বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সমীক্ষায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এই ‘বেকারত্বের হার’ বা ‘আনএমপ্লয়মেন্ট রেট’ বলতে কী বোঝায়। এ ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার বলতে বোঝানো হয় কর্মক্ষম ব্যক্তি বা কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি অথচ কাজের অভাবে তাঁরা বেকার।

২০১৩-১৪ সালে বেকারত্বের হার ছিল ৪.৯ শতাংশ, ২০১২-১৩-এ ছিল ৪.৭ শতাংশ, ২০১১-১২ ছিল ৩.৮ শতাংশ। ছবিটা সব থেকে করুণ ছিল ২০০৯-১০-এ। সে সময় বেকারত্বের হার ছিল ৯.৩ শতাংশ। ২০১৪-১৫ সালে সার্ভে করা হয়নি। পাঁচ বছরের মধ্যে বেকারত্বের হার সর্বাধিক হওয়া মোদী সরকারের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন ওয়াকিবহাল মহল।

২০১৫-র এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণ আর শহরাঞ্চল মিলিয়ে মোট দেড় লক্ষেরও বেশি পরিবারে এই সমীক্ষা করা হয়। সমীক্ষায় দেখা যায় কর্মক্ষম মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার সব থেকে বেশি। সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করা মহিলাদের মধ্যে ৮.৭ শতাংশ বেকার। শহরাঞ্চলের মহিলাদের ছবিটা আরও খারাপ। সেখানে বেকারত্বের হার ১২.১ শতাংশ, গ্রামাঞ্চলে ৭.৮ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে পুরুষদের মধ্যে ৪ শতাংশের কোনো কাজ নেই, শহরে অবশ্য ছবিটা একটু ভালো। সেখানে বেকার পুরুষদের হার ৩.৩ শতাংশ।

সমীক্ষায় দেখা গেছে স্থায়ী আয়ের চাকরির হালও বেশ খারাপ দেশে। বেশিরভাগই এখন চুক্তিনির্ভর। প্রায় ৭৭ শতাংশ বাড়িতে কোনও স্থায়ী আয়ের চাকুরিরত ব্যক্তি নেই। স্থায়ী বেতনভুক ব্যক্তিদের প্রায় ৬৫ শতাংশের ক্ষেত্রে, ৬৭.৮ চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে আর ৯৫.৩ শতাংশ সাধারণ শ্রমিকের কোনো লিখিত চুক্তি নেই। গ্রাম এবং শহরাঞ্চলে রূপান্তরকামী মানুষের মধ্যে বেকারত্বের হার যথাক্রমে ৪.৩ আর ২.১ শতাংশ।

স্ব-নির্ভর ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষের মাসিক আয় ৭,৫০০ টাকা, ৫৭ শতাংশ স্থায়ী চাকুরিরত ব্যক্তির গড় আয় ১০ হাজার টাকা। পারিবারিক আয় ৫ হাজার টাকা বা তার কম, এই তালিকায় সব থেকে এগিয়ে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ। সেখানকার ৩৬ শতাংশ পরিবারেরই মাসিক আয় ৫ হাজার টাকা বা তার কম। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এখানকার ৩৪.৫ শতাংশ পরিবারের ৫ হাজারের কম মাসিক আয়। তিন আর চার নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে উত্তরপ্রদেশ আর ওড়িশা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here