কর্নাটকে কী পথ খোলা রয়েছে রাজ্যপালের কাছে?

0
613
karnataka government formation

বেঙ্গালুরু: ভোটগণনা মিটতে কর্নাটকের নাটক এখন আরও জমে উঠেছে। বিজেপি বৃহত্তম দল হলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। অন্য দিকে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে খুব আরামেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেরিয়ে গিয়েছে জেডিএস। সবার নজর এখন রাজ্যপালের দিকে। তিনি নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন না কি পুরোনো দল বিজেপিকে মান্যতা দেবেন সেটাই দেখার জন্য মুখিয়ে তামাম ভারতবাসী।

এমনিতে বিধানসভায় সব থেকে বৃহত্তম দলকেই প্রথমে সরকার গড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা রাজ্যপাল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিগত এক বছরে গোয়া, মণিপুর এবং মেঘালয় বিধানসভার নজির তুলে ধরছে কংগ্রেস, যেখানে একক বৃহত্তম দল হলেও কংগ্রেসকে আহ্বান জানাননি রাজ্যপাল। উলটে আসনসংখ্যা বেশ কম থাকা সত্ত্বেও জোটবদ্ধ হওয়ার ফলে বিজেপিকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল।

সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন আইনজীবী তথা সংবিধান বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় হেগড়ে বলেন, “যদি আদর্শ মেনে চলা হয়, তা হলে রাজ্যপাল সেই দল বা জোটকেই সরকার গড়ার আমন্ত্রণ জানাবেন যাঁকে তিনি মনে করবেন যে পাঁচ বছর স্থায়ী সরকার চালাতে তারা সক্ষম।”

এ দিকে লোকসভার প্রাক্তন সচিব জিসি মলহোত্রা বলেন, “রাজ্যপাল আর যা-ই করুন না কেন, এমন কিছু তাঁর করা উচিত নয়, যাতে ঘোড়া কেনাবেচাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে।” অর্থাৎ মলহোত্রা আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজেপিকে সরকার গড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালে ঘোড়া কেনাবেচা হবেই। সে ক্ষেত্রে জেডিএসের বিধায়ক ভাঙাতে নেমে পড়বে বিজেপি।

তবে তিনি যা-ই সিদ্ধান্ত নিন না কেন, কর্নাটকের রাজ্যপালের কাছে অনির্দিষ্টকাল সময় নেই বলে মনে করেন হেগড়ে। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের এসআর বোমানির নির্দেশিকা থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট যে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্যপালকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিজের সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখলে চলবে না।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রিশঙ্কু বিধানসভায় রাজ্যপালের কাছে তিনটে পথ থাকে। প্রথমে প্রাক-নির্বাচনী কোনও জোট যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তা হলে তিনি তাকে আমন্ত্রণ জানান, সেটা না হলে নির্বাচন-পরবর্তী জোটের দিকে তাঁর নজর যায়। সেটাও যদি না হয় তা হলে বিধানসভায় বৃহত্তম দলকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

বিজেপির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে হেগড়ে আরও বলেন, “আস্থা ভোটে জয়ের সম্ভাবনা নেই, এ রকম বৃহত্তম দলকেও সরকার গড়ার আমন্ত্রণ করা উচিত নয় রাজ্যপালের।”

এই ব্যাপারে ১৯৮৯-এর একটি উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। বৃহত্তম দল হলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না কংগ্রেসের। তাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কংগ্রেসের রাজীব গান্ধীকে সরকার গড়ার জন্য ডাকলেও সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন রাজীব। এমন ঘটনা ১৯৯৬-তেও হয়েছিল। সে বার অটলবিহারী বাজপেয়ীকে সরকার গড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানালেও ১৩ দিনের মধ্যে সেই সরকার পড়ে যায়।

১৯৯৮ সালে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কেআর নারায়ণন। অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের সমর্থনে যত দল ছিল, তাদের সমর্থনের চিঠিও সরকার গড়ার দাবি পেশের সময়ে দিতে বলেন নারায়ণন। তখন থেকেই ‘লেটার অফ সাপোর্ট’ বা সমর্থনের চিঠির প্রথা চালু হয়ে যায়।

মঙ্গলবার রাজ্যপালের সমর্থনে সেই ‘লেটার অফ সাপোর্ট’ও পেশ করেছে জেডিএসের এইচডি কুমারস্বামী। এখন দেখার ‘দলীয় নির্দেশ’ অমান্য করে কোনো দৃষ্টান্ত একদা মোদীর কাছের মানুষ এই বাজুভাই বালা নিতে পারেন কি না।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here