কী করে বলছ ধর্ষণ? রক্ত কোথায়? নিহত ছাত্রীর বন্ধুকে প্রশ্ন বিধায়কের

0
99

পটনা : কেউ কম যায় না। সে কর্নাটকের মন্ত্রী হোক বা বিহারের বিধায়ক। কুৎসিত, অশালীন, জঘন্য মন্তব্যে ফুটে ওঠে সেই পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের কদর্য ছবি।

এ বারের বিতর্কিত মানুষটি বিহারের বিধায়ক লালন পাসোয়ান। ইনি বিজেপির মিত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপেন্দ্র কুশওয়াহার দল লোক সমতা পার্টির বিধায়ক। বৈশালীতে সরকারচালিত একটি আবাসিক স্কুলে ক্লাস টেনের এক ছাত্রী নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ইনি সেখানে গিয়েছিলেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে। উদ্দেশ্য, সরেজমিনে ঘটনার তদন্ত করা। অভিযোগ ছিল, ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই নিহত ছাত্রীর এক বন্ধুকে লালন বললেন, “কী করে বলছ ওকে ধর্ষণ করা হয়েছে? পরিষ্কার করে বলো তো রক্ত কোথায়?” তাঁর ‘জিজ্ঞাসাবাদের’ সময় লালন পাকেপ্রকারে বুঝিয়ে দেন হত্যাকারী এই মেয়েদেরই কারও কারও পরিচিত।

ছাত্রী ও শিক্ষিকারা তাঁকে ঘিরে রয়েছেন। তার মাঝেই তাঁর নানা প্রশ্নে বিব্রত বোধ করছে এক ছাত্রী। তাঁকে বলছেন, “তোমরা শিক্ষিত। তোমাদের তো স্পষ্ট উত্তর দেওয়া উচিত। সব কিছু যদি পরিষ্কার করে না বল, তা হলে কাল তোমাকে কেউ যদি ধর্ষণ করে, তখন কী করবে? যদি ধর্ষণকারী তোমার ঘরে আসে, তখন কী হবে?”

বিজ্ঞাপন

বিধায়কের অনুমান, ছেলেদের সঙ্গে আবাসিক ছাত্রীদের সম্পর্ক আছে। এবং তাঁকে একটা সুযোগ দেওয়া হলে তিনি ছাত্রীদের জেরায় জেরবার করে সহজেই রহস্যের

সমাধান করে দেবেন। তিনি বেশ গর্বভরেই বলেন, তাঁর থার্ড ডিগ্রিতে মুখমন্ত্রী নীতীশ কুমারেরও ঘাম ঝরবে।

পরে ওই বিধায়ক আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, তাঁর উদ্দেশ্যে কোনো ভুল ছিল না, পদ্ধতিতে হয়তো ভুল হয়ে গিয়েছিল। “দলিত আবাসিক স্কুলের ছাত্রীদের সাহায্য করাই আমার উদ্দেশ্য ছিল, তাই আমি ঘটনা সম্পর্কে নানা তথ্য সংগ্রহ করছিলাম… মিডিয়া নানা কিছু মিশিয়ে আমার নামে এই ভিডিও প্রচার করছে।”       

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here