জানেন কি, বাজেট পেশ করার সময় সব অর্থমন্ত্রীরা কেন ব্রিফকেস নিয়ে আসেন?

0
4149
budget

ওয়েবডেস্ক: ঔপনিবেশিকতা যে আমাদের মজ্জায় মজ্জায় প্রবাহিত হচ্ছে, তা কি অস্বীকার করার জো আছে?

তা করবেন না কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তিই! আমাদের পোশাক থেকে শুরু করে আদবকায়দা- সবেরই পরাকাষ্ঠা এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিমি দুনিয়া। সেখানে যা হয়, সেটাই আমরা ভালো বলে লুফে নিই।

কিন্তু তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার সময় ভারতীয় অর্থমন্ত্রীদের একটা চামড়ার ব্রিফকেস সঙ্গে রাখার সম্পর্ক কী?

উত্তর দেওয়ার জন্য আগে বাজেট শব্দটার উৎপত্তির দিকে তাকাতে হবে। যা এসেছে ফরাসি শব্দ বুজেট থেকে। বুজেট মানে আর কিছুই নয়, স্রেফ একটা চামড়ার বাক্স!

এ বার চলে যাওয়া যাক ঔপনিবেশিক অতীতে। সময়টা ১৮৬০ সাল। মহারানির শাসনের যুগ। আচমকাই চোখে পড়ল, অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম এওয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন একটা চামড়ার বাক্স নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকছেন দরবারে। লাল রঙের সেই বাক্সে সোনার জলে মহারানির নাম আর শাসনযন্ত্রের লোগো খোদাই করা। ব্যাপারটা কী?

আসলে গ্ল্যাডস্টোন কুখ্যাত ছিলেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর ভাষণের জন্য। বাজেট পেশ করার সময় প্রত্যেকটি কাগজপত্র ধরে ধরে অর্থনীতির বিশ্লেষণ করতেন তিনি। সঙ্গে চলত কোন খাতে কতটা কেন বরাদ্দ হল, তার মূল্যায়ণ! ফলে, তাঁর সঙ্গে সব সময়েই থাকত প্রচুর কাগজপত্র, যা রাখা এবং বহন করার জন্য বুজেটটি দিয়েছিলেন খোদ মহারানি ভিক্টোরিয়াই!

এর পর এক ধাক্কায় চলে আসা যাক সদ্য স্বাধীনতা লাভ করা এই দেশে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গ্ল্যাডস্টোনের অনুকরণে ১৯৪৭ সালের ২৬ নভেম্বর দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী আর কে ষণ্মুখম চেট্টি একটা চামড়ার ব্রিফকেস নিয়ে বাজেট পেশ করতে এসেছেন। সেই শুরু, যে ঐতিহ্য আজও সমানে চলেছে।

তবে বৈচিত্র্যের মধ্যে একতাই তো ভারতজীবনের মূল সুর! সেই রীতি মেনেই সম্ভবত, বাকিটা ব্যক্তিপছন্দনির্ভর বিষয়, এক এক অর্থমন্ত্রীকে দেখা গিয়েছে এক এক রঙের ব্রিফকেস হাতে বাজেট পেশ করতে। যেমনটা দেখতে পাচ্ছেন ছবিতে!

তবে এ ব্যাপারে সবাইকে টেক্কা দিয়েছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর হাতের বুজেটটা একবার ভালো করে দেখুন দেখি! বুঝতেই পারছেন স্পষ্ট- এ হুবহু গ্ল্যাডস্টোনের লাল বুজেটের অনুকরণ!

তা, পুরোটাই যখন অনুসরণ, তখন রঙের ব্যাপারেও সেটা হলে ক্ষতি কী!

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here