কেন ‘পদ্মাবত’-এর বিরুদ্ধে গুন্ডামি চালাচ্ছে কর্নি সেনা

0
416
Karni-sena and Lokendra Singh Kalvi
chiranjib paul
চিরঞ্জীব পাল

স্কুলবাসের মধ্যে কুঁকড়ে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে দুই পড়ুয়া। ‘পদ্মাবত’কে কেন্দ্র করে কর্নি সেনার প্রতিবাদের ঢিল তাদের বাসের কাচ ভেঙে দিয়েছে। তার পরেও থামেনি, একের পর এক ছুটে আসছে ঢিল। ওই ঢিলের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেছ বাচ্চা দু’টি। ‘পদ্মাবত’ মুক্তির আগে সারা দিন যে তাণ্ডব চালিয়েছে কর্নি সেনা এই ছিল তার একটা নুমনা।

তবে এই প্রথম নয়, ‘যোধা আকবর’, ‘বীর’ সিনেমার বিরুদ্ধে তাণ্ডবে ফেটে পড়েছিল শ্রী রাজপুত কর্নি সেনা। তবে এ বার প্রতিবাদ মাত্রাটা অনেকটাই বেশি। কেন? তবে কি ২০১৯ লোকসভা নিবার্চনকে টার্গেট করে প্রাসঙ্গিক হতে চাইছে রাজপুতদের এই সংগঠন?

শ্রী রাজপুত কর্নি সেনার প্রতিষ্ঠাতা ৬৭ বছর বয়সি লোকেন্দ্র সিং কালভি কখনও ‘পদ্মাবত’-এর নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বনশালীর বিরুদ্ধে আগুন ছোটাচ্ছেন কখন  আবার সাংবাদিক বৈঠকে বলছেন, ‘‘আমি গতকাল গান্ধীর জন্মস্থানে গিয়েছিলাম। বাপু আমাকে শক্তি দিয়েছেন। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, তুমি যে ভাবে ভারত থেকে ব্রিটিশদের তাড়িয়েছিলে আমিও সে ভাবে যেন পদ্মাবত তাড়াতে পারি।’’

প্রতিষ্ঠার পর তিন বার ভেঙেছে রাজপুত কর্নি সেনা। ২০০৫ সালে রাজপুত গোষ্ঠীর কয়েক জনকে জড়ো করে লোকেন্দ্র সিং একটি সংগঠন তৈরির উদ্যোগ নেন। ২০০৬ সালে রাজস্থানের জয়পুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৈরি হয় শ্রী রাজপুত কর্নি সেনা। সে সময় বেকার রাজপুত যুবকদের চাকরির জন্য সংরক্ষণের দাবিতে সরব সংগঠন। সংগঠনের প্রথম সভাপতি হন অজিত সিং মামডোলি।

২০০৮ সালে রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে সমর্থন করে তারা। শর্ত দেয়, একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট রাজপুত প্রার্থীদের দিতে হবে। লোকেন্দ্র সিং কালভি কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন আর মামডোলি চাইছিলেন কংগ্রেসের টিকিট পেয়ে নির্বাচনে লড়তে। এই রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই দু’জনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। মামডোলির অভিযোগ, ‘‘ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ভেবে কর্নি সেনা তৈরির সময় কোনো পদেই থাকেননি কালভিজি। পরে বিভিন্ন জনসভায় লোক সমাগম দেখে সংগঠনের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াতে শুরু করেন।’’

কালভি কর্নি সেনা ছেড়ে দেন। পরে ২০১০-এ তিনি কংগ্রেসে যোগদান করেন এবং শ্রী রাজপুত কর্নি সেনা নামেই আলাদা দল তৈরি করেন।  নামটি তিনিই নথিভুক্ত করিয়েছিলেন, এই দাবি করে আদালতে মামলা করেন মামডোলি। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন।

কালভি নিজের সংগঠনের সভাপতি করেন সুখদেব সিং গোগামোদিকে। রাজপুতদের জন্য সংরক্ষণের দাবিকে কেন্দ্র করে কালভি এবং গোগামোদির মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। অপরাধমূলক কাজকর্মের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত হন গোগামোদি। তিনি আবার একটি নতুন সংগঠন তৈরি করেন। নাম দেন ‘শ্রী রাষ্ট্রীয় রাজপুত কর্নি সেনা। অজিত মামডোলিও শ্রী রাষ্ট্রীয় রাজপুত কর্নি সেনা সমিতি নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন।

কালভি দু-দু’বার লোকসভা নির্বাচনেও দাঁড়িয়েছেন। ১৯৯৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসাবে নাগৌর থেকে এবং ১৯৯৮ সালে বারমের থেকে বিজেপির টিকিট নিয়ে। দু’বার হেরেছেন।  ২০০৩ সালে কালভি অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা উচ্চবর্ণের জন্য সংরক্ষণের দাবিতে রাজপুত এবং ব্রাহ্মণদের নিয়ে ‘সোশ্যাল জাস্টিস ফ্রন্ট তৈরি করেন। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজস্থানের প্রবীণ রাজপুত রাজনীতিবিদ দেবী সিং ভারতী। সেই ভোটে ৫০টি আসনে প্রার্থী দেন তাঁরা জেতেন মাত্র একটিতে। তার পর তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

এই ইতিহাস দেখলেই স্পষ্ট হয় ভোটের রাজনীতিতে শরিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা কালভি বরাবরের। তাই আসন্ন লোকসভা নিবার্চনকে টার্গেট করেই কি ‘পদ্মাবত’-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝাঁঝ নিজের বোতলবন্দি করে রাখতে চাইছেন? তাঁর মতিগতি তো সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here