প্রার্থী তালিকায় ‘ঘোড়া’ পুরনো কেন? অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে ত্রিপুরা সিপিএমে

0
tripura cpim

ওয়েবডেস্ক: গত মঙ্গলবার ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল সিপিএম। কিন্তু ওই প্রার্থী তালিকায় চোখ বুলিয়েই রীতিমতো অবাক হয়ে যাচ্ছেন দলের অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব। ৬০ আসনের বিধানসভায় শরিক দলগুলিকে মাত্র তিনটি আসন ছেড়ে বাকি ৫৭টিতেই প্রার্থী দিতে চলেছে সিপিএম। কিন্তু ওই দীর্ঘাকার প্রার্থী তালিকায় দেখা যাচ্ছে, নতুন ১১ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও বাকিরা সেই পুরনো মুখই। তার উপর ওই ১১ জন নতুন প্রার্থীর প্রায় প্রত্যেকেরই বয়স ৫০-এর ঊর্ধ্বে। স্বাভাবিক ভাবেই দলের তরুণ প্রজন্ম উচ্চ নেতৃত্বের সামনে মুখ খুলতে না পারলেও আড়ালে-আবডালে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।

সম সাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ভাবে সিপিএম দলের তরুণ প্রজন্মকে তুলে ধরার কথা দীর্ঘ দিন ধরেই বলে চলেছে। এ ব্যাপারে গত ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ সিপিএম অনেক চেষ্টা করেও সে ভাবে সফল হতে পারেনি। আর ত্রিপুরার সাম্প্রতিক নির্বাচনে তো দল তার ধারেকাছেই যেতে পারল না। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব দাবি করেছেন, ত্রিপুরায় এ মূহূর্তে সিপিএমের যে অবস্থান, তাতে পরীক্ষা মূলক প্রয়োগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

কিন্তু নেতৃত্বের এই যুক্তিকে মান্যতা দিতে নারাজ তরুণ নেতৃত্ব। তাঁরা আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলের ভূমিকাকেই অস্বীকার করছেন। তাঁদের দাবি, হাতে গোনা কয়েক জন নেতা নিজেদের মর্জি মতো এই তালিকা তৈরি করেছেন। তাঁদের পছন্দসই ব্যক্তিকে প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই দিয়ে তা দলের সিদ্ধান্ত হিসাবে চালানো হচ্ছে। তা হলে আপাতত কী করবেন তাঁরা?

বিজ্ঞাপন

দলের যুব সংগঠনের এক নেতা জানিয়েছেন, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো ছবিটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। বহু কেন্দ্রেই যোগ্য ব্যক্তিরা প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই পাননি। আবার এমনও দেখা গেছে, বয়স জনিত এবং অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এমন কয়েক জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে, রাজনৈতিক ভাবে তাঁদের গ্রহণ যোগ্যতা অনেক বেশি। সব মিলিয়ে এ বারের ভোটে আন্তর্ঘাতের সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রচারের কাজে কিছু নেতা যে নিজেদের সরিয়ে রাখার চিন্তাভাবনা করছেন, তা ক্রমশ প্রকাশ্য।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here