জনসংখ্যা বাড়িয়ে হিন্দু হটিয়ে দেশ কবজা করতে মেয়ে কেনে মুসলিমরা: বিজেপি বিধায়ক

0
2112
bjp

ওয়েবডেস্ক: সোমবারেই তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট যথেষ্ট ইন্ধন জুগিয়েছিল বিতর্কে। সেই পোস্টে দাবি করেছিলেন রাজস্থানের আলওয়াড়ের ভারতীয় জনতা পার্টির বিধায়ক বনওয়ারি লাল সিঙ্ঘল- মুসলিমরা জনসংখ্যা বাড়িয়ে হিন্দুদের কোণঠাসা করতে চাইছে! এ ভাবে চলতে থাকলে একদিন গোটা দেশটাই মুসলিমদের কবজায় চলে যাবে! সেই নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও মঙ্গলবার নিজের এই বিবৃতি থেকে এক চুলও সরে এলেন না বিধায়ক। বরং যা বললেন, তা বিতর্ককে আরও উসকে দিল।

“আমি ভুল কিছু বলিনি। এক মুসলিম পুরুষকে যদি তার স্ত্রী যথেষ্ট সন্তান দিতে না পারে, তবে সে আরেকটা বিয়ের দিকে এগোয়। তাতেও কাজ না হলে সে বিহার বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে মেয়ে কিনে আনতেও দ্বিধা করে না। এ পরিসংখ্যানেই দেখা যায়”, মঙ্গলবার নতুন করে দাবি সিঙ্ঘলের।

আরও পড়ুন: গো-হত্যা বা গরু পাচার করলে মরতে হবে, হুঁশিয়ারি রাজস্থানের বিজেপি বিধায়কের

যদিও সিঙ্ঘল বক্তব্যে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এই ভাবনা তাঁর একার নয়। এই ভাবনার খোরাক তিনি পেয়েছেন নতুন বছরের প্রথম দিনের এক টেলিভিশনের টক শো থেকে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ‘হিন্দু স্বাভিমান গোষ্ঠী’-র প্রাণপুরুষ ধর্মগুরু যতি নরসিংহ নন্দ সরস্বতী। “সরস্বতী সেই শো-তে উদাহরণ দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, যে সব দেশে মুসলিমরা জনসংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে নিজেদের মধ্যে, পরে সেই দেশ তাদের দখলে চলে গিয়েছে। এ অতীতেও হয়েছে, ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই যদি চলতে থাকে, তবে দেখবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রী- সব জায়গায় মুসলিমরাই আছে”, বলছেন সিঙ্ঘল। অন্তত সেরকম পরিকল্পনা নিয়েই জনসংখ্যা বাড়াচ্ছে মুসলিমরা বলে দাবি বিধায়কের।

পাশাপাশি সিঙ্ঘল আরও বলেছেন যে ভারতীয় অর্থনীতিতে মুসলিমদের ভূমিকা খুবই নগণ্য। “করের বেশির ভাগটাই দিয়ে থাকেন হিন্দুরা। ওরা শুধু সন্তান উৎপন্ন করে যায়। গরিব পরিবার কেন এ ভাবে সন্তান উৎপাদন করবে, ভেবে দেখেছেন কখনও?” পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।

সিঙ্ঘল যা-ই বলুন না কেন, রাজস্থানে ভারতীয় জনতা পার্টির উগ্র হিন্দুত্ববাদ ক্রমশই উঠে আসছে খবরের শিরোনামে। মালদহের আফরাজুলের হত্যা তো বটেই, কিছু দিন আগেই গো-হত্যাকারীদের পাল্টা হত্যার হুমকিও এসেছে রাজস্থানের এক বিধায়কের কাছ থেকে। সেই সব দিকে তাকিয়ে বিশেষজ্ঞদের অনুমান- এ সবের পুরোটাই হিন্দুত্ববাদের টোপ ফেলে ভোটব্যাঙ্ক সুনিশ্চিত করার চেষ্টা। ২০১৮-তেই রাজস্থানের বিধানসভা ভোট। সে দিকে লক্ষ্য রেখেই এখন এ সব প্রচার করে বেড়াচ্ছেন ওই রাজ্যের বিধায়করা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here