একাকিত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে ৫৩ বছরের বিধবা মাযের বিয়ে দিল ছোটো মেয়ে!

0
2959
marriage

ওয়েবডেস্ক: বিধবা বিবাহের প্রচলন বীরসিংহের বীরপুরুষটি করে গিয়েছিলেন আজ থেকে কত শতাব্দী আগে! অথচ, বিধবার বিয়ে নিয়ে ভারতের সামাজিকতা এখনও পড়ে রয়েছে মধ্যযুগের অন্ধকারেই! বিশেষ করে বিধবা যদি বয়স্ক হন, তবে তো তাঁর একাকিত্ব দিন দিন দুর্বহ হয়ে উঠতে থাকে!

চোখের সামনে এর পুরোটাই দেখেছেন কর্মসূত্রে গুড়গাঁও-বাসী জয়পুরের সংহিতা গুপ্তা! ২০১৬-র মে মাসে হ‌দরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর বাবা মুকেশ গুপ্তা। তার পর থেকেই তাঁর মা গীতার কাছে জীবন যেন একাকিত্বের অভিশাপে পরিণত হয়েছিল। পরিণামে দিন দিন অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তে থাকেন গীতা।

‘মায়ের এই মানসিক সমস্যার জন্য আমি নিজেকেই দোষ দিতাম। আমি কর্মসূত্রে গুড়গাঁও চলে আসার পর থেকেই মায়ের অবসাদ এক জটিল আকার নেয়। তাই একদিন আর দ্বিধা করিনি। এক দিন এক ম্যারেজ পোর্টালে মায়ের ছবি দিয়ে একটা প্রোফাইল তৈরি করি। সঙ্গে ফোন নম্বরটা দিই নিজের’, জানিয়েছেন সংহিতা।

যদিও গীতাকে বিয়েতে রাজি করানোর কাজটা সহজ ছিল না। তাঁর পরিবারের সদস্যরা কেউই সমর্থন করেননি সংহিতাকে। এমনকী, তাঁর বড়ো বোন সাক্ষীও নন! আর ‘আমি তো প্রস্তাবটা শোনা মাত্র ঝাঁঝিয়ে উঠেছিলাম ছোটো মেয়েকে’, জানিয়েছেন গীতা। ‘কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি! সঙ্গীর দরকার আমাদের সবার হয়। একা একা বেঁচে থাকা যায় না। তা ছাড়া, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সব কিছু নিয়ে তো আর কথা বলাও যায় না’, বলেছেন সংহিতা।

এই টানাপোড়েনের মাঝেই এক দিন তাঁর কাছে বনসওয়ারার ৫৫ বছর বয়সি রেভেনিউ ইন্সপেকটর কে জি গুপ্তার ফোন আসে। স্ত্রীর মৃত্যুর পর ক্রীড়াপ্রেমী মানুষটি একাকিত্ব কাটাতে হাতে তুলে নেন ব্যাডমিন্টন। কিন্তু শরীর জবাব দেওয়ায় খেলা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। অবস্থা দেখে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফের বিয়ের পরামর্শ দেন। সঙ্গে ওই ম্যারেজ পোর্টালেই একটি প্রোফাইলও খুলে দেন!

কিন্তু গীতা কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না কে জি গুপ্তার বিবাহ-প্রস্তাবে। এ সবের মাঝেই গত বছরের নভেম্বর মাসে চিকিৎসার প্রয়োজনে গীতার অঙ্গচ্ছেদন হয়। সেই সময়টায় কে জি গুপ্তা সব সময় হাসপাতালে ছিলেন। সারাক্ষণ গীতার দেখাশোনা তিনিই করেন। যা দেখে গীতার মনের বরফ গলতে শুরু করে। সুস্থ হয়ে অবশেষে বিয়েতে মত দেন তিনি!

সাধে কী আর বলে, সব ভালো যার শেষ ভালো! নতুন বাবা আর মায়ের সঙ্গে সংহিতার ছবিটা তো দেখতেই পাচ্ছেন! এ বার তাঁদের শুভেচ্ছা জানাবেন না?

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here