রাষ্ট্রপতি ভোটে অভিন্ন প্রার্থী নিয়ে বিরোধীদের আলোচনা এগোচ্ছে

0
147

saibal-biswasশৈবাল বিশ্বাস :

আগামী জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বিজেপি-বিরোধী দলগুলির মধ্য‌ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। প্রণব মুখোপাধ্য‌ায়কেই ফের রাষ্ট্রপতি পদে বসানোর ব্য‌াপারে গোড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী ঐক্য‌ের চেষ্টা করে। এ ব্য‌াপারে রাইসানা হিলসের বর্তমান বাসিন্দা কিন্তু কোনো আগ্রহ দেখাননি। তিনি সর্বসম্মত প্রার্থী হতে পারলে ভোটে দাঁড়াবেন, নচেৎ নয়। বিজেপি যে তাঁকে মেনে নেবে সে সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তিনি যে বিজেপির পছন্দের নন, তাঁর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি পদক্ষেপে। রাষ্ট্রপতিকে নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক আধিকারিক চিঠি পাঠিয়ে কোন বাংলো তাঁর পছন্দ তা জিজ্ঞাসা করেছিল। এটি রুটিন ঘটনা হলেও এর থেকে বিজেপির মনোভাব স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে। আসলে বিজেপি চায় আরএসএস-ঘনিষ্ঠ কাউকে এই পদে বসাতে। সেই পরিকল্পনায় তারা সফল হবে যদি পাঁচ রাজ্য‌ের নির্বাচনের ফল বিজেপির অনুকূলে যায়।

সম্প্রতি বিহারের মুখ্য‌মন্ত্রী তথা জেডিইউ নেতা নীতীশকুমার দিল্লি গিয়ে সম্মিলিত বিরোধী প্রার্থীর ব্য‌াপারে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআই নেতা ডি রাজার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরাও মমতার নির্দেশে দিল্লিতে একাধিক বিরোধী দলের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে। কংগ্রেস এখনও চায় প্রণববাবুই দ্বিতীয় বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হন। সম্প্রতি কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীর নির্দেশে এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রণব-ঘনিষ্ঠ এক ব্য‌ক্তির সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিলেন বলে খবর। কিন্তু তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সে ক্ষেত্রে সম্মিলিত বিরোধী প্রার্থী যাতে নবীন পট্টনায়েক এবং এডিএমকেরও সমর্থন পায় সে দিকটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনডিএ-ভুক্ত শিবসেনা এবং অকালি দলও বিজেপিকে ছেড়ে একলা চলো রে নীতির দিকে ঝুঁকেছে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র পুরনির্বাচনে বিজেপির ভূমিকা দেখে শিবসেনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে্ ভবিষ্য‌তে আর কখনও বিজেপির সঙ্গে তাঁরা গাঁটছড়া বাঁধবে না। পঞ্জাব নির্বাচনের পর অকালি দলও যে এনডিএতে থাকবে না, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। যে কারণে পাঞ্জাবে নির্বাচনী প্রচারে নরেন্দ্র মোদি বা অমিত শাহকে তেমন সক্রিয় হতে দেখা যায়নি।

এ বারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটের পরিমাণ ১০ লক্ষ ৯৮ হাজার। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন জিততে গেলে অন্তত অর্ধেক ভোট অর্থাৎ ৫ লক্ষ ৪৯ হাজার ভোট পেতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদের দু’টি কক্ষে্র সমস্ত সদস্য‌। রাজ্য‌গুলির নির্বাচিত বিধায়করা এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন। রাজ্য‌ের জনসংখ্য‌াকে (১৯৭১-এর সেনসাস অনুযায়ী) ১০০০ দিয়ে ভাগ করে তাকে আবার বিধায়কের সংখ্য‌া দিয়ে ভাগ করলে রাজ্য‌ের এক জন বিধায়কের ভোটের মূল্য‌ পাওয়া যায়। রাজ্যের বিধায়কদের মোট ভোটকে রাজ্য‌ের মোট সাংসদ সংখ্য‌া (লোকসভা ও রাজ্য‌সভা মিলিয়ে) দিয়ে ভাগ করলে এক একজন সাংসদের ভোটের মূল্য‌ পাওয়া যায়। এই মুহূর্তে সংসদের মোট সদস্য‌ সংখ্য‌া ৭৭৬। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজ্য‌ের মোট বিধায়ক সংখ্য‌া ৪১২০। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এ বার ভোট দেওয়ার অধিকারী মোট ৪৮৯৬ জন। ২৯টি রাজ্য‌ের বিধায়করা প্রত্য‌েকে তো বটেই এমনকি দিল্লি ও পুদুচেরির মতো কেন্দ্রশাসিত রাজ্য‌ের বিধায়করাও ভোট দেওয়ার অধিকারী।

হিসেব করে দেখা যাচ্ছে, এ বার উত্তরপ্রদেশের বিধায়কদের মোট ভোটের মূল্য‌ ৮৩ হাজার ৮২৪। এই রাজ্য‌ের এক একজন বিধায়কের ভোটের মূল্য‌ ২০৮। পাঞ্জাবে বিধায়কদের ভোটমূল্য‌ ১১৬, উত্তরাখণ্ডে ৬৪, গোয়ায় ২০ এবং মণিপুরে ১৮টি। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে বিজেপি প্রার্থীকে জিততে হলে উত্তরপ্রদেশের বেশির ভাগ ভোট পাওয়া প্রয়োজন। সে রাজ্য‌ে ক্ষমতায় আসতে না পারলে সম্মিলিত বিরোধী প্রার্থীই জিতে যাবেন। বিজেপি এই মুহূর্তে দেশে ১২টি রাজ্য‌ে ক্ষমতায় আছে। তাদের মোট বিধায়ক সংখ্য‌া ১১২৬। লোকসভায় তাদের সদস্য‌ সংখ্য‌া ২৮২। কিন্তু রাজ্য‌সভায় তাদের গরিষ্ঠতা নেই। ফলে মনোমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে গেলে পাঁচ রাজ্য‌ে, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে ভালো ফল করতেই হবে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here