৫০ জন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে, দাবি পন্নিরসেলভমের

0
94

চেন্নাই : যতটা সহজে সিংহাসনে আরোহণ করবেন বলে ভেবেছিলেন, পথ যে ততটা সহজ নয়, এখন বুঝতে পারছেন ভি কে শশিকলা। যতই তিনি পন্নিরসেলভমকে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে দিন, তাঁকে বিশ্বাসঘাতক, মিথ্যাবাদী আখ্যা দিন, তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষ, এআইএডিএমকে-র কর্মীরা ততই ক্রমশ পন্নিরসেলভম তথা ওপিএস-এর দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে জয়ললিতার সমাধিস্থলের বাইরে জনতা যে ভাবে ওপিএস-কে ঘিরে ধরেছিল, তাতে বোঝাই যাচ্ছে তাঁর দিকে সমর্থনের পাল্লাটাও কম জোরদার নয়।  সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল সাড়া পড়ে গিয়েছে ওপিএস-এর পক্ষে। দলের আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) শাখা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। ওপিএস জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দিকে ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন আছে। তিনি চান, বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হোক। ইতিমধ্যে শশিকলা কী ভাবে দলের শীর্ষ পদে গেলেন সে ব্যাপারে খুঁটিনাটি জানতে চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ভাবেই পন্নিরসেলভমের বিদ্রোহের পর জল অনেক দূর গড়িয়ে গিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতেই তাঁর পয়েস গার্ডেনের বাসভবনে দলের জরুরি মিটিং ডেকে পন্নিরসেলভমকে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেন শশিকলা। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভার সাম্প্রতিকতম অধিবেশনে ডিএমকে নেতা স্টালিন ও পন্নিরসেলভমকে হাসাহাসি করতে দেখা গিয়েছে। শশিকলার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ডিএমকে-র হাত আছে বলে তাঁর অভিযোগ। শশিকলা বলেছেন, তিনি কখনও মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে বাধ্য করেননি পন্নিরসেলভমকে। শশিকলা সাংবাদিকদের একই কথা বলেছেন বুধবার দলের জরুরি বৈঠকের পর।

lineশশিকলা তাঁকে দলের কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর পালটা আঘাত হানেন ওপিএস। বলেন, “আম্মা আমাকে কোষাধ্যক্ষ করেছিলেন। সেই পদ কেউ কেড়ে নিতে পারেন না। আমি কাউকেই ভয় পাই না। ডিএমকে এর মধ্যে আদৌ জড়িত নয়। আর ‘হাসি’ নিয়ে পন্নিরসেলভম যে মন্তব্য করেছেন তাতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি বলেছেন, “বিরোধীদলের নেতার দিকে তাকানো, তাঁর দিকে তাকিয়ে হাসা কোনো অপরাধ নয়। আমি মনে করি হাসা কোনো অপরাধ নয়। মানুষের সঙ্গে জন্তুর সব চেয়ে বড়ো তফাত হল, মানুষ হাসতে জানে, মুখ্যমন্ত্রী হাসেন।” এর পর নানা ধরনের মন্তব্যের ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বিদ্রোহের ধ্বজা তোলার সঙ্গে সঙ্গে রাতারাতি জনগণের প্রিয় হয়ে উঠেছেন ওপিএস। তামিলনাড়ুর রাজনীতি সম্পর্কে যাঁরা খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা বলেন, শশিকলা তামিলনাড়ুর মানুষের কাছে খুব একটা গ্রহণযোগ্য নন। বিশেষ করে মান্নানগুড়ি মাফিয়াদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং নানা ধরনের দুর্নীতির মামলায় জড়িয়ে থাকার জন্য রাজ্যবাসী তাঁকে খুব একটা পচ্ছন্দ করেন না। ওপিএস যখন মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন তখন তাঁরা শশিকলার উত্থান্ মুখ বুঁজে মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু ওপিএস বিদ্রোহ করে সাধারণ মানুষের মনে আশার আলো জাগিয়েছেন। তাঁর প্রতি আবেগটা কত তা প্রতিফলিত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ‘হ্যাশট্যাগ আই সাপোর্ট ওপিএস’ এখন ভারতে সব চেয়ে বেশি ট্রেন্ডিং। রাতারাতি পৌঁছে গিয়েছে দুবাইতেও। ওপিএস-কে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সম্মান, সমর্থন, ধন্যবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন টুইটার ভোটে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ওপিএস অনেক এগিয়ে আছেন।

ইতিমধ্যে বুধবার সকালে নিজের বাড়ির বাইরে সাংবাদিক সম্মেলন করে ওপিএস জানিয়ে দিয়েছেন, আম্মার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হবে। বলেছেন, দলের কর্মীরা চাইলে তিনি পদত্যাগপত্র তুলে নেবেন। তিনি আম্মার ভাইঝি দীপা জয়কুমারের সঙ্গে দেখা করে তাঁর সমর্থন চাইবেন। ওপিএস বলেছেন, “আম্মার ভাইয়ের ছেলেমেয়েদের তিনি বরাবর শ্রদ্ধা করে এসেছেন। দীপাকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে।

রাজ্যপাল সি বিদ্যাসাগর ফিরে এলেই তিনি তাঁর সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করবেন। তিনি তাঁর সমর্থকদের একটি তালিকা তাঁর হাতে দিয়ে বোঝাবেন কী ভাবে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন তাঁর দিকে আছে। তাঁর সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য তিনি বিধানসভায় শক্তি পরীক্ষা দাবি করবেন।

ইতিমধ্যে আর একটি ব্যাপারে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন শশিকলা। এআইএডিএমকে-র যে প্রস্তাব অনুসারে তাঁকে শীর্ষ পদ দেওয়া হয়েছে তার কপি চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন বলেছে, “শশিকলাকে দলের অস্থায়ী সাধারণ সম্পাদক করার ব্যাপারে কোনো নিয়মনীতি পালন করা হয়নি।”

ইতিমধ্যে বুধবার সকালে দলের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করার পরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন শশিকলা। তাতে তিনি পন্নিরসেলভমকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেন। তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “রবিবার আমার পাশে বসেই তিনি পরিষদীয় দলের নেতা হওয়ার জন্য আমার নাম প্রস্তাব করেন। তার পর ৪৮ ঘণ্টা পরে বলছেন, তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। কী ঘটল এই সময়ের মধ্যে? কার সঙ্গে কী আলোচনা হল? এআইএডিএমকে যখন প্রথম ভাঙে তখনও জানকী গোষ্ঠীর হয়ে ওপিএস অনেক কিছু করেছিলেন। আম্মা তাঁকে ক্ষমা করে দেন। ওপিএস যতই বলুন তাঁর সঙ্গে ৫০ জন বিধায়ক আছেন, দল ঐক্যবদ্ধই আছে।”     

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here