শেষ আটের চৌকাঠে পা রেখে ফেলল রেয়াল, বায়ার্ন

0
80

রেয়াল মাদ্রিদ- ৩ (বেঞ্জিমা, ক্রুস, ক্যাসামিরো)   নাপোলি -১ (ইনসিগনিয়া)

বায়ার্ন মিউনিখ -৫ (থিয়াগো-২, লেওয়ানডস্কি, রবেন, মুলার)   আর্সেনাল-১ (স্যাঞ্চেজ)

সানি চক্রবর্তী:

ফুটবল খেলাটা আসলে ৯০ মিনিটের নয়। অন্তত ভারতীয় সময়ের বুধবার মধ্যরাত দেখল তেমনটাই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াইয়ের প্রথম পর্বে মাদ্রিদের ম্যাচে আসল খেলা হল ৫ মিনিট। আর মিউনিখে ৩ মিনিট। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দু’টি গোল প্রতিপক্ষের উপরে চাপিয়ে দিয়ে কাজের কাজ করে গেল রেয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ। বেঞ্জিমা, ক্রুস, ক্যাসামিরোর গোলে ভর করে রেয়াল জিতল ৩-১ ব্যবধানে। আর গত বারের গ্রুপস্তরের লজ্জা নতুন মোড়কে আর্সেনালকে উপহার দিল জার্মান চ্যাম্পিয়ানরা। ফের একবার লন্ডনের দলটিকে তারা বিধ্বস্ত করল ৫-১ ব্যবধানে। থিয়াগোর জোড়া গোলের পাশাপাশি গোলের খাতায় নাম তুললেন রবেন, লেওয়ানডস্কি ও মুলার। হোম ম্যাচে জিতে কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের স্থানটা পাকা করে ফেলল রেয়াল আর বায়ার্ন।

প্রথমার্ধের শেষে যদিও দুই ম্যাচেরই চরিত্রটা ছিল ভিন্ন। ১-১ ব্যবধানে ফিরে সাজঘরে ফিরেছিল চার দলই। দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই রোনাল্ডো-হামেসদের ব্যক্তিগত ও দলগত নৈপুণ্যের কাছে যেখানে হার মানল নাপোলি, সেখানে রক্ষণ-মাঝমাঠের শিক্ষানবিশ সুলভ ভুলে ফের অ্যালিয়াঞ্জ এরিনাতে গার্নাসদের অস্ত্রাগার লুট করলেন লেওয়ানডস্কি-থিয়াগোরা। ফের একবার রক্তাক্ত হয়ে যে ভাবে ফিরল আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল, তাতে আরও এক বার বায়ার্নের হাতে তাদের ইউরোপের স্বপ্ন ধুলোয় মিশছে বলাই যায়।

চোরা গতি, দুরন্ত প্রতি-আক্রমণের পালটা পজেশনাল ফুটবল। একেবারে এন্ড টু এন্ড ফুটবল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে স্বপ্নের ফুটবল শুরু করেছিল দুই দলই। খেলার আড়মোড়া ভাঙার আগেই বেঞ্জিমার শট আটকান পেপে রেইনা। রেয়ালের বিরুদ্ধে নাপোলি পালটা লড়াই উপহার দেবে জানাই ছিল। কিন্তু দ্রুত গোল তুলে নিয়ে গ্যালাকটিকোসদের উপরে চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল ইতালির দলটি। দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে নাভাসকে টপকে ৮ মিনিটের মাথায় ইনসিগনিয়ে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে বাঁক খাওয়ানো শটে গোল করে যান। যদিও ১১ মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরায় রিয়াল। কার্ভাহালের দুরন্ত আউটস্টেপে রাখা ক্রসে হেডে গোল করেন বেঞ্জিমা। প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ শেষ দিকে নষ্ট করেন বেঞ্জিমা। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু চার মিনিটের মধ্যেই রোনাল্ডো ম্যাজিক। ডান দিক থেকে বল ধরে এগিয়ে পুরো ডিফেন্সকে টেনে নিয়ে মাপা ক্রস বাড়ান সিআরসেভেন। যা থেকে দুরন্ত পোস্টঘেঁষা শটে গোল করেন ক্রুস। ৫৪ মিনিটের মাথায় ক্যাসামিরোর বিশ্বমানের ভলি হাসি চওড়া করে রাফায়েল নাদালের মতো গ্যালারিতে থাকা রিয়াল সমর্থকদের। তিন গোলে এগিয়ে থাকা রিয়ালের তার পরে অসংখ্য গোল মিস আবার কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয় মাঠে থাকা দিয়াগো মারাদোনার মতো প্রাক্তন নাপোলি কিংবদন্তিকে।

মিউনিখেও ম্যাচের আসল ৩ মিনিট ঠিক দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রসে লাফিয়ে উঠে ৫৩ মিনিটে লেওয়ানডস্কির দলকে এগিয়ে দেওয়া থেকে শুরু। তার ঠিক তিন মিনিট পরে দুরন্ত মুভ থেকে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের ব্যাকফ্লিকে আর্সেনাল ডিফেন্সকে দাঁড় করিয়ে রেখে পোলিস অধিনায়কের পাসে থিয়াগোর গোল। ৩ মিনিটের মধ্যে ২টো গোলেই কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে যায় ওয়েঙ্গারের দলের রক্ষণ। প্রথমার্ধের ১১ মিনিটের মাথায় আর্জেন রবেনের বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক গোলে লিড নিয়েছিল ব্যাভারিয়ান জায়ান্টসরা। স্যাঞ্চেজ পেনাল্টি নয়ারের হাতে মারলেও মাথা ঠান্ডা রেখে সেই প্রয়াসেই ৩০ মিনিটের মাথায় সমতা ফিরিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে দু’টি গোল তুলে নেওয়ার পরে কার্যত বায়ার্ন আক্রমণের সুনামি আছড়ে পরে। এই সময়ে আর্সেনাল গোলরক্ষক ওস্পিনা ডজনখানেক দুরন্ত সেভ না করলে, ঠিক কতটা লজ্জা নিয়ে ইংল্যান্ডের বিমান তার দলকে ধরতে হত তা বলা মুশকিল। ৬৩ মিনিটের মাথায় থিয়াগো আলকান্তারার শট পায়ের জঙ্গলে লেগে দিক পালটে জালে জড়ায়। আর সম্প্রতি গোলক্ষরার মধ্যে চলা টমাস মুলারও পরিবর্ত হিসেবে নেমে ৮৮ মিনিটে দলের পঞ্চম গোলটি করে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি সম্পূর্ণ করেন।

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here