কবিগুরুর টানে স্পেনের শিক্ষক হয়ে উঠলেন বাংলার শান্তিদা

0
100

saptamiসপ্তমী ঘোষ : রবীন্দ্রনাথের আকর্ষণ যুগে যুগে পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষকে টেনে এনেছে এই বাংলায়। সুদূর গালিসিয়া প্রদেশ থেকে আগত খোশে পাজ তাই বাংলার মানুষের কাছে হয়ে উঠেছেন শান্তিদা। বইমেলার তৃতীয় দিন কোস্তা রিকার প্যাভিলিয়নে তিনি এ পার বাংলার মানুষের সঙ্গে কথা বললেন বাংলায়। গান গাইলেন রবীন্দ্রনাথের, সঙ্গে কিছুটা বাংলায় কিছুটা স্প্যানিশে ভাগ করে নিলেন তাঁর জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা।

স্প্যানিশে ‘পাজ’ শব্দটির অর্থ ‘শান্তি’। তাই স্পেনের খোশে পাজ বাংলার মানুষের কাছে ‘শান্তিদা’। অক্টোবর থেকে এপ্রিল – বছরের ছ’টি মাস তাঁর কাটে শান্তিনিকেতনে, পূর্বপল্লিতে তাঁর নিজের বাড়িতে। বছরের বাকি সময়টা স্পেনে ফিরে যাওয়ার মূল কারণ বাংলার গরম হাওয়া।

এ দেশে আসার ইতিহাস শোনাচ্ছিলেন খোশে পাজ। জানালেন, ২০০১ সালে এখানে প্রথম আসেন। তার পর ২০০২ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বছরে তিন মাস করে শান্তিনিকেতনে থাকার অনুমতি দেয় তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১০ সাল থেকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ভাবে যোগদান করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন উপচে পড়া ভিড়ের পর শুক্রবার বইমেলা ছিল কিছুটা খালি। এই দিন বইমেলায় পালিত হল কোস্তা রিকান দিবস। ‘থিম কান্ট্রি’ কোস্তা রিকা প্রসঙ্গে শান্তিদা সে দেশের এক শিক্ষকের কথা বললেন। তাঁর নাম আপুই। তিনি কী ভাবে তাঁর ছাত্রী সোলের রবীন্দ্রচর্চায় সাহায্য করেছিলেন তার কথা শোনালেন।

শান্তিদার রবীন্দ্রচর্চা শুরু ১৬ বছর বয়সে। স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত ‘গোরা’, ‘নৌকাডুবি’ পড়ে তিনি রবীন্দ্রনাথের লেখার ভক্ত হয়ে পড়েন। ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথের স্পেন যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপে তাঁর যাওয়া হয়ে ওঠেনি সে দেশে। খুব মর্মবেদনা ঝরে পড়ল শান্তিদার কথায়। কিন্তু তা বলে তাঁর সাহিত্য, কাব্যের প্রচার থেমে থাকেনি স্পেনে। স্পেনের নোবেলজয়ী কবি খুয়ান রামোন খিমেনেজ ও তাঁর স্ত্রীর হাত ধরে রবীন্দ্রসাহিত্য পৌঁছে গিয়েছে স্পেনে।

স্পেনে শান্তিদার নিজস্ব গ্রন্থাগারে আছে ৩০ হাজারেরও বেশি বই। আছে কবিগুরুর রচনাবলির বেশ কয়েকটি খণ্ড। এই স্প্যানিশ শিক্ষক তাঁর জীবনের পথচলাকে আলোকিত করেছেন রবীন্দ্রনাথের বলা তিনটি শব্দের মধ্য দিয়ে – জীবন, আনন্দ ও শান্তি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here