বড়ো ক্লাবদের বিদ্রোহ শেষ, আইএসএল-এই খেলতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী

0
শৈবাল বিশ্বাস

মঙ্গলবার সন্ধ্য‌ায় নবান্নের বৈঠকে দুই প্রধানের কর্মকর্তাদের বৈঠকে মুখ্য‌মন্ত্রী মমতা ব্য‌ানার্জি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন,আইএসএল খেলতেই হবে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে।আইএসএল-এর শর্ত নিয়ে দুই প্রধানের যে সব আপত্তি রয়েছে সে ব্য‌াপারে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র আইএসএলের পরিচালক আইজিএমআর সংস্থার কর্ণধার নীতা আম্বানির সঙ্গে কথা বলবেন। ফিকির প্রাক্তন সচিব হিসাবে নীতা আম্বানি এবং গোটা আম্বানি পরিবারের সঙ্গেই তাঁর অনেক দিনের যোগাযোগ। সেই যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সব শর্ত মেনে নিতে ওই সংস্থাকে রাজি করানো যাবেই বলে দুই প্রধানের কর্তাদের কথা দিয়েছেন মুখ্য‌মন্ত্রী।

এই মুহূর্তে রিলায়েন্সের সঙ্গে কোনও রকম ঝগড়ার রাস্তায় হাঁটতে চাইছে না রাজ্য‌ সরকার। তাতে রাজ্য‌ের শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যেতে পারে। তা ছাড়া রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্ট শিল্প থেকে যে বড় ব্য‌বসা ফাঁদতে চলেছে, তার একটা বড়ো অংশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।

এআইএফএফ-এর চাপ উপেক্ষা করে দুই বড়ো দল আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা কিছুতেই আইএসএলে খেলবে না। খেলতে পারে তবে নিজস্ব শর্তে, যে শর্ত মানাটা আইএসএলের মতো রিলায়েন্স পরিচালিত কর্পোরেট সংস্থার পক্ষে মেনে নেওয়া মুশকিল। এই পরিস্থিতিতে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল স্থির করে ফেডারেশন থেকে চাপ এলে তারা নিজস্ব লিগ বানিয়ে তাতে অংশ নেবে। নবান্ন বৈঠকে সেই লিগ এবং বেঙ্গল কাপের মতো একটি নতুন টুর্নামেন্ট করা নিয়েও আলোচনা হয়। আইএফএ সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্য‌ায় বলেন, এ ধরনের টুর্নামেন্টের দায়িত্ব নিতে তিনি প্রস্তুত। গোয়া এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের দলগুলিকে সেই লিগে নেওয়া হবে। সেই দলগুলি মোটামুটি রাজিও ছিল কারণ আইএসএলের চাপ তারাও নিতে রাজি হয়নি। কিন্তু শেষ পর্ন্ত পিছু হটতে বাধ্য‌ হলো দুই প্রধান।

দুই বড়ো দলের কাছে ভরসা ছিলেন মুখ্য‌মন্ত্রী মমতা ব্য‌ানার্জি। তিনি যদি আইএসএলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে এই দুই বড় দলের পাশে দাঁড়ান তাহলে নতুন লিগ তৈরি করতে বিশেষ বেগ পেতে হবে না। সেই আশায় টুটু বসু এবং নীতু সরকাররা মুখ্য‌মন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। কিন্তু মমতা এই বিদ্রোহে ইন্ধন জোগাননি। যতদূর জানা যাচ্ছে এই মুহূর্তে রিলায়েন্সের সঙ্গে কোনও রকম ঝগড়ার রাস্তায় হাঁটতে চাইছে না রাজ্য‌ সরকার। তাতে রাজ্য‌ের শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যেতে পারে। তা ছাড়া রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্ট শিল্প থেকে যে বড় ব্য‌বসা ফাঁদতে চলেছে, তার একটা বড়ো অংশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। তাই মঙ্গলবার রাজ্য‌ের ক্রীড়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং দুই বড়ো ক্লাবের প্রতিনিধিদের মধ্য‌ে বৈঠকই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়,অন্য‌ পথে হাঁটার সুযোগ খুব একটা নেই। তারপরই বড় দলের কর্তারা নবান্নে গিয়ে সরাসরি মুখ্য‌মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়ে যান। মুখ্য‌মন্ত্রী বলেছেন, শুধু এই বড়ো দল দুটিই নয়, মহামেডানকেও তিনি আইএসএলে ঢোকাতে চান। আসলে রাজ্য‌ সরকার যে আইএসএল বিরোধী অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখবে না সেটা বেশ ভাল করেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মুখ্য‌মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক বিরোধটাকে শিল্প বা ব্য‌ক্তিগত সম্পর্কের স্তরে আনতে চান না। এসব ক্ষেত্রে ট্র্য‌াক টু ডিপ্লোমেসির রাস্তা ধরে চলাটাই তাঁর পছন্দ। মুকেশ আম্বানি সহ শিল্প জগতে মমতার যে সব বন্ধু স্থানীয় প্রতিনিধি আছেন তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে পছন্দ করেন। এই পরিস্থিতে তিনি কোনও মতেই নীতা আম্বানির সাধের আইএসলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণায় সায় দেননি। ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মোহন-ইস্ট কর্তাকে ডেকে এই কথাটা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধার এই কাজটা অরূপ বিশ্বাসকেই করার দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। অতএব আইএসএলের সঙ্গে শর্ত নিয়ে যতই মতভেদ থাকুক না কেন, দুই দলকেই এই লিগ খেলতে হবে। ইতিমধ্য‌ে মোহনবাগানের সনি নরদে,কাতসুমির মতো স্টার প্লেয়াররা বলে দিয়েছেন যেহেতু আইএসএল না খেললে তাঁদের চলবে না তাই  এবার তাঁরা আর মোহনবাগানে থাকতে পারবেন না। তবে মোহনবাগান আইএসএল খেললে তাঁরা দলে থাকবেন। এই কঠিন পরীক্ষা সামলে ওঠা যে বেশ মুশকিল সেটা মানছেন মোহন-কর্তারা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here