ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ হোক শুধুই খেলা, বজায় থাকুক শালীনতা

0
156

wrivuশ্রয়ণ সেন :  

সাড়ে ষোলো বছর পর অবশেষে এল ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এই সাড়ে ষোলো বছরে গঙ্গা এবং পদ্মা দিয়ে প্রচুর জল গড়িয়েছে। বাংলাদেশকে টেস্টের সরণিতে আনতে আপ্রাণ লড়েছিলেন জগমোহন ডালমিয়া। অথচ তাঁর নিজের বোর্ড বিসিসিআই কখনও বাংলাদেশকে টেস্টের জন্য আমন্ত্রণ জানায়নি, এমনই অভিযোগ ছিল ওপার বাংলার।

২০০০ সালে টেস্টে বাংলাদেশের অভিষেক হয় সৌরভের নেতৃত্বাধীন ভারতের বিরুদ্ধে। সে বার প্রথম ইনিংসে চারশো তুললেও, অভিজ্ঞতার অভাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ভরাডুবি হয় তাদের। সেই ম্যাচটি ছিল অধিনায়ক হিসেবে সৌরভের প্রথম টেস্ট। এর পর যত দিন এগিয়েছে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু টেস্টে কখনোই সে ভাবে সাফল্যের স্বাদ তারা পায়নি। এখনও পর্যন্ত ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে আটটি টেস্ট হয়েছে যার মধ্যে ছ’টিই জিতেছে ভারত। যে দু’টি টেস্ট ড্র হয়েছে তাতেও ভারতের আধিপত্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। অন্য দিকে এক দিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট শক্তিশালী দল। ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর থেকেই তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে গিয়েছে, যার নেপথ্যে ছিলেন তাদের একদিনের অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজা। বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাওয়ার পর, ঘরের মাঠে সিংহগর্জন শুরু করে বাংলাদেশ। একদিনের সিরিজে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি ধোনির ভারতকেও হারিয়ে দেয় তারা। বদলা নেয় বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে হারের। টেস্টেও বিপক্ষদের ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। গত বছরই স্পিনের ফাঁদে ফেলে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। গত মাসে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সাকিবের দ্বিশতরানে ভর করে প্রায় ৬০০ রান করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের ফলে হেরে যায় তারা।


highlightসুতরাং, খাতায় কলমে টেস্ট র‍্যাঙ্কিং-এ এক বনাম নয়-এর লড়াই হলেও বাংলাদেশকে কোনো মতেই হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয় টিম কোহলির। তামিম-মমিনুল-সাকিব-মুশফিকদের ব্যাট যদি কথা বলে আর মেহেদি হাসান মিরাজের বল যদি ভেল্কি দেখাতে শুরু করে তা হলে ভারতের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে নিউজিল্যান্ড আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতে টগবগে থাকা বিরাট কোহলি চাইবেন অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষার আগে বাংলাদেশকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তি ঝালিয়ে নিতে।

ভারত-বাংলাদেশ লড়াই হলে ইদানীং যে ব্যাপারটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে সেটা সোশ্যাল মিডিয়া দ্বৈরথ। শুধু খেলা সংক্রান্ত দ্বৈরথ হলে কিছু বোলার থাকত না, কিন্তু এই লড়াইটা অধিকাংশ সময়ই শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর সূত্রপাত হয়েছিল বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে। সে দিন আম্পায়ারদের অনেকগুলো ভুল সিদ্ধান্ত ভারতের পক্ষে গিয়েছিল। বাংলাদেশের সমর্থকদের অভিযোগ সিদ্ধান্তগুলো ভারতের পক্ষে না গেলে ম্যাচ জিতত বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতত কি না সেটা তো এখন আর জানা যাবে না, কিন্তু সেই ম্যাচের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। দু’দেশের সমর্থকই একে অপরের বিরুদ্ধে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেছেন। এই ‘যুদ্ধে’ ইন্ধন জুগিয়েছে মিডিয়াও।

cricketএই ঐতিহাসিক টেস্টের সন্ধিক্ষণে একটাই আশা, ক্রিকেট চলুক ক্রিকেটের মতো। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘যুদ্ধ’ও চলুক, কিন্তু কখনোই তা যেন শালীনতার মাত্রা না ছাড়ায়।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here