৮০ লক্ষ টাকায় কেকেআরে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহকারীর ছেলে

0
2678
kkr ipl

ওয়েবডেস্ক: একেই বলে ভাগ্য! আইপিএল কী ভাবে একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে রিঙ্কু সিংহকে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। বাড়ি বাড়ি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁর বাবা। সেই রিঙ্কুই এখন ৮০ লক্ষ টাকার মালিক, সৌজন্যে কেকেআর।

রিঙ্কুর আইপিএল অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত বছর তিনি পঞ্জাবের হয়ে খেলেছিলেন। কিন্তু এ বার যে ব্যাপারটা নজর কেড়েছে, সেটা হল টাকার অঙ্ক। গত বছর, তাঁকে তাঁর প্রাথমিক দরেই নিয়েছিল পঞ্জাব, এ বার তার দর উঠেছে প্রাথমিকের চার গুণ।

রিঙ্কুর এই সাফল্যে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত আলিগড় নিবাসী তাঁর পরিবার। তাঁর বৌদি আরতি বলেন, “গত বছর ওর প্রাথমিক দর ছিল দশ লক্ষ, তখন আমাদের পারিবারিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু এ বার প্রাথমিক দর কুড়ি লক্ষে থাকার পরেও সেই দর যে এতটা বাড়বে আমরা ভাবতে পারিনি। খুব ভালো লাগছে।”

বিজ্ঞাপন

রিঙ্কুদের পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ন’টা। টিনের চালের বাড়িতেই থাকেন তাঁরা। রিঙ্কুর এক দাদা অটো চালান, অন্য একজন কোচিং সেন্টারে কাজ করেন। ছোটোবেলা থেকে দারিদ্রের সঙ্গে ঝুঝতে থাকা রিঙ্কুর এখন স্বপ্ন, ধুমধাম করে বোনের বিয়ে দেবেন তিনি।

সম্প্রতি শেষ হওয়া সঈদ মুস্তাক আলি টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে মোট ৮৮ বলে ১৩০ রান করেছেন রিঙ্কু। তাঁর এই সাফল্যের জন্য চার জনের কোচের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন রিঙ্কু। তিনি বলেন, “অনূর্ধ্ব ১৬ স্তরে জিসান ভাই আমাকে সাহায্য না করলে আমি এখানে আসতে পারতাম না। এখানেও আমার জীবনে তিন জনের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরা হলেন আমার তিন কোচ, মাসুদ-উদ-জাফর আমিনি, সুরেশ স্যার এবং মনসুর আহমেদ।”

এক গরিব পরিবারের ছেলের জীবন বদলে ফেলার জন্য নিঃসন্দেহে কেকেআর কর্তৃপক্ষের এই অবদান অনস্বীকার্য। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, যে দরে সুদুর উত্তরপ্রদেশের এক অনামি ছেলের ওপরে এ ভাবে ভরসা দেখাতে পারল তারা, তা হলে বাংলার ছেলেরা কী দোষ করল!

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here