ইডেনের মন ভরালেও দলকে জেতাতে ব্যর্থ ধোনি

0
86

সানি চক্রবর্তী:

শনিবারের দুপুর। সারা সপ্তাহ খাটাখাটনির পরে ছুটির দিনের আলস্যে দুপুর কাটানোই আর পাঁচজনের পছন্দ। ওরা কিন্তু সেই দলে পড়ে না। ওরা বলতে, শনিবারের দুপুরে ইডেনে ছুটে আসা হাজারখানেক ক্রিকেটপাগল। না, বলা ভালো ধোনি-ভক্তরা। ক্রিকেটের নন্দনকাননে নিজের রাজ্য ঝাড়খণ্ডের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বার মাঠে মহেন্দ্র সিং ধোনি। আর তাঁকে দেখতেই ছুটে এসেছেন হাজার খানেক দর্শক। যে রকম উৎসাহ নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা, চোখের সামনে স্বপ্নের নায়ককে দেখে ততটাই খুশি হয়ে ফিরলেন তাঁরা। এমনই ধোনি-ম্যাজিক ব্যাকসিটে চলে গেল আস্ত একটা ম্যাচ। কর্নাটক-ঝাড়খণ্ড ম্যাচের থেকেও ধোনির ম্যাচের সাক্ষী হতেই যে নিজের আরামটা ফেলে ছুটে আসা।

টসে জিতে ধোনি প্রথমে ফিল্ডিং নেওয়ার খবরটা সকালেই ইন্টারনেটে চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলেন দমদম থেকে আসা কয়েকজন বন্ধুর দল। তাই কিছুটা দেরি করেই মাঠে আসেন তাঁরা। ধোনির কিপিং থেকেও তাঁরা যে দেখতে এসেছিলেন ব্যাট হাতে ইডেনের বাইশ গজে হেলিকপ্টারের বিচরণ। ব্যাট হাতে কর্নাটক ২৬৬ রানে ইনিংস শেষ করার পর থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা চলছিল এমএসের মাঠে নামার। পাশাপাশি ইডেনে বসেই মোবাইলে তাঁরা চোখ রেখেছিলেন বিরাটবাহিনীর ম্যাচের দিকে। একে একে বিরাট, রাহানে, ঋদ্ধিদের ফিরে যাওয়া দেখে ভবিতব্য আঁচ করেই ইডেনের ম্যাচে চোখ রেখেছিলেন তাঁরা। অদ্ভূত এক মেলবন্ধনে যেন তখন মিলে যাচ্ছিল কলকাতা ও পুনে। যেন ঝাড়খণ্ডের জার্সি গায়ে ম্যাচ জেতা নয়, ভারতের জার্সিতে ধোনিকে ম্যাচ জেতাতে নামতে দেখতে চাইছেন তাঁরা। সেটা কোনো ভাবেই সম্ভব না হলেও সমর্থকদের আবেগের ঘোরটা ছিল তেমনই।

মাঝে ঈশান কিষান ও সৌরভ তিওয়ারি যখন ঝাড়খণ্ড ইনিংসের মাঝপথে হাল ধরেছেন, তখন রীতিমতো বিরক্ত হয়ে উঠেছে ইডেনের জনতা। দ্রুত উইকেট চাইছেন তাঁরা, না সেই সময়ে কেকেআরের দুই সদস্যের জন্য কর্নাটকের পক্ষে তাঁরা ঘুরে যাননি। চাইছিলেন দ্রুত ধোনিকে ব্যাট হাতে দেখতে। ৭৯ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট পড়ার পরেই কার্যত ছোটোখাটো একটা শব্দব্রহ্ম উঠল। ব্যাট হাতে নেমে পড়লেন ধোনি। তার পরে কিছুটা থিতু হওয়ার পালা। ব্যাটসম্যান ধোনি ও ইডেন জনতারও। আস্তে আস্তে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে হাত খুলতে শুরু করলেন মাহি। সৌরভ তিওয়ারিকে সঙ্গে নিয়ে তার পর চড়চড় টেনে নিয়ে গেলেন দলের রান। তবে সেই যাত্রা দীর্ঘস্থায়ী হল না। ৫০ বলে ৪৩ রানে আউট হয়ে ফিরলেন দিনের ট্র্যাজিক নায়ক। তিনটে বাউন্ডারি ও ২টো ওভার বাউন্ডারি হাঁকানোর পথে একটা স্ট্যাম্পের কবল থেকে বাঁচা ছাড়া নিয়ন্ত্রিত ইনিংসই খেলছিলেন। হঠাৎ রানের গতি বাড়াতে গিয়ে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন। বোল্ড হয়ে ধোনি ফিরতেও কিন্তু থামল না তাঁর নামের জয়ধ্বনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর রাজ্য লড়াই করলেও শেষমেশ ২৬১ রানে থামত হল তাঁদের। বিজয় হাজারে ট্রফিতে প্রথম ম্যাচে ৫ রানে হেরে অভিযান শুরু করল তার দল।

ম্যাচের শেষ পর্যন্ত সমর্থকরা থাকায় ম্যাচটা কিছুটা গুরুত্ব পেল বটে। তবে তা ফের ঢাকা পড়ে গেল কয়েক মুহূর্ত বাদেই। গোটা ভিড়ের প্রায় পুরোটাই ইডেনের মূল গেটের সামনে হাজির। বাড়ির পথ ধরার আগে ধোনিকে ফের এক বার সামনে থেকে দেখেই তারা সে পথ ধরবে বলে। 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here