আবেগের তীব্র লড়াইয়ে টেক্কা দিয়ে পেশাদারিত্বের সিঁড়িতে এগিয়ে চলার মহারণ

0
68

সানি চক্রবর্তী:

লাল-হলুদ দ্বীপে যেন উঁকি-ঝুঁকি মারছে সবুজ-মেরুন কিছু ক্ষেত্র। শিলিগুড়ির বর্তমান অবস্থা যেন এমনটাই। একটা তথ্য তুলে দিলে ব্যাপারটা বুঝতে সুবিধা হবে। উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ শহরে এখন ইলিশের দর ৩ হাজার, আর চিংড়ির ৫৫০। মাঠের বাইরের আবহে, স্মৃতিতে কিছুটা ব্যাকফুটে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে সেয়ানে-সেয়ানে টক্করে রয়েছে মোহনবাগান। আর মরগ্যান ব্রিগেডের আত্মবিশ্বাস যে আকাশচুম্বী, তা আর নতুন করে বলে দিতে হবে না। এত কিছুর মধ্যেও দুই শিবিরেরই একটাই লক্ষ্য, অলআউট ঝাঁপিয়ে তিন পয়েন্ট ঝুলিতে তোলা। কারণ, আবেগের মহারণে যে দলই অন্যকে টেক্কা দিতে পারবে, তারাই লিগের ইঁদুর দৌড়ে অ্যাডভান্টেজ পেয়ে যাবে। তাই সম্মানের লড়াইয়ে বাজিমাত করার পাশপাশি থাকছে, পেশাদারি ভঙ্গিতে ভারতসেরা হওয়ার পথে পা বাড়ানোর হিসেব-নিকেশ।

সঞ্জয় মুখে কিছু না বললেও অনুশীলনে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, তাঁর কাছে এই ম্যাচ বদলার। গতবারে নির্বাসিত থাকায় ডাগআউটে বসতে পারেননি। টিভিতেই দেখতে হয়েছে জেজের পেনাল্টি মিস, শঙ্করলালের লাল কার্ড। সর্বোপরি হেরে আই লিগ দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছিল সবুজ-মেরুন শিবির। তাই এ দিন প্রথম ১৫ মিনিটের পরেই ক্লোজড ডোর অনুশীলনে স্বভাববিরুদ্ধ সঞ্জয়। মুখে বলছেন, “ছেলেদের বলেছি ৩ পয়েন্ট দরকার। যদিও জিতলেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাব না, আবার হারলেও প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাব না। তাই চাপমুক্ত হয়ে খেল।” সঙ্গে যদিও বেরিয়েই আসছে, “হ্যাঁ, গত মরশুমের ঘটনা কষ্ট দিয়েছিল। তবে ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নই। আগামীকাল নতুন এক ৯০ মিনিটের লড়াই।”  মুখে চাপমুক্ত থাকার কথা বললেও সঞ্জয়ের কথাতেই মুখ বন্ধ বাগান শিবিরের ফুটবলারদের। অনুশীলনে ঢোকার সময়ে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের টিটকিরি-গালাগালির মুখে পড়তে হয়েছে সনি-কাটসুমিদের। তা যেন আরও তাতিয়ে দিয়েছে বাগান শিবির ও তাদের কোচকে। অনুশীলনে প্রায় ফিট এডুকে আনাসের সঙ্গে খেলিয়ে দেখিয়ে নিয়েছেন সঞ্জয়। জুনিয়ার বিক্রমজিতের সঙ্গে আনাসের জুটি ধীরে ধীরে দানা বাঁধলেও রক্ষণ নিয়ে চিন্তা ছিল তাদের। মুভমেন্টে এডুর কিছুটা অসুবিধা হলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও শারীরিক উপস্থিতিকে কাজে লাগাতে চাইছে বাগান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। প্লাজা-রবিনদের আটকানোর পাশাপাশি সেটপিসে ভয়ঙ্কর ইভান বুকেনাকে আটকানোটাও চ্যালেঞ্জ আনাস-এডু জুটির কাছে। কোচের পাশে বসে বাগান দলনায়ক কাটসুমি উসা যদিও জানিয়ে দিয়েছেন, “এ বারের আই লিগে সেরা দল আমাদের।”

ফোকাসড মোহনবাগানের থেকে অনেকটা উলটো প্রান্তে ইস্টবেঙ্গল। আত্মবিশ্বাসী হলেও বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে মরগ্যান শিবির। ব্রিটিশ কোচ তো তাঁর পেশাদারিত্বের বর্মকে রীতিমতো চেনা ছকের ঢাল করে ফেলেছেন। ড্রেসিংরুমের পরিবেশের কোনো ছাপই বাইরে পড়তে না দিয়ে ফের এ দিনও তিনি বললেন, “মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচটায় সমর্থকদের আবেগ জড়িয়ে। কিন্তু তা থেকে তো দল ৩ পয়েন্টের বেশি পাবে না। প্রত্যেক ম্যাচের মতোই সেটা পেতেই আমরা ঝাঁপাব।” কার্ড সমস্যা থেকে ফিরে আসা মেহতাব হোসেন এ দিনের ম্যাচে দলে ফিরছেন। তাঁর হাঁটুতে হালকা চোট থাকায়, একটা হালকা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। লাল-হলুদের মিডফিল্ড জেনারেল যদিও সমর্থকদের আশ্বস্ত করে জানিয়ে দিয়েছেন, “ডার্বিতে খেলব না, তা হয় নাকি। মাঠে নিজেদের পুরোটা উজাড় করে দেব। শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।” ডার্বিতে অভিষেক ঘটাতে চলা ওয়েডসন আনসেলমের মতে, “আসল লক্ষ্য তিন পয়েন্ট। ফুটবল দলগত খেলা, তাই শুধু নিজের পারফরম্যান্স নয় সবাই মিলে ভালো খেলতে তৈরি।” পেশাদার ভঙ্গিতে নিজেদের মাপা প্রতিপ্রিয়া জানালেও আসল কথাটা কিন্তু বলেছেন ওয়েডসনই। জানিয়েছেন, “ম্যাচটা জিততে পারলে, লিগের লড়াইতে আরও ভালো ভাবে এগোনোর রসদ পেয়ে যাব আমরা।”

দুই প্রধানের ড্রেসিংরুমের পরিবেশটাই আসলে তা-ই। নজরে আই লিগ, আর সেই পথে হাইওয়েতে লম্বা টানা ছুট শুরু করার আগে লক্ষ্য সব থেকে বড়ো বাধাটা টপকে এগিয়ে যাওয়া।

ইস্টবেঙ্গলের সম্ভাব্য একাদশ: রেহানেশ, রবিন গুরুং/রাহুল ভেকে, গুরবিন্দর, বুকেনা, নারায়ণ, মেহতাব, ডিকা, ওয়েডসন, নিখিল, রবিন সিং, প্লাজা।

মোহনবাগানের সম্ভাব্য একাদশ: দেবজিত, প্রীতম, এডু, আনাস, শুভাশিস, শৌভিক চক্রবর্তী, শেহনাজ/প্রণয়, কাটসুমি, সনি, জেজে, ডাফি।

ম্যাচ শুরু বিকেল ৪টে ৩৫ মিনিটে। টেন ২ চ্যানেলে সরাসরি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here