পেশাদারিত্বের বর্ম ফুঁড়ে ডার্বি উত্তাপ ছড়াচ্ছে দুই শিবিরেই

0
68

সানি চক্রবর্তী:

সঞ্জয় সেন থেকে ট্রেভর জেমস মরগ্যান। সনি নরডি থেকে ওয়েডসন আনসেলমে, দুই পক্ষের বেশির ভাগই যেন কোথায় গিয়ে একটা বিন্দুতে মিলে যাচ্ছেন। সেটা হল, ডার্বি ম্যাচটা আই লিগের আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই। জিতলে তিন পয়েন্টের বেশি কিছু আসবে না।

সত্যিই তা-ই, পেশাদার হিসেবে একশোয় দু’শো দাবি করতে পারেন এই কথাগুলো বলার ক্ষেত্রে। তবে, ব্যাপারটা কি এতটাই সাদা-কালোর মতো হিসেবে ফেলে ভাগ করা যায়? হলফ করে বলে দেওয়া যেতে পারে, না। তা হলে হঠাৎ কেন এই বিশেষ পেশাদারি বর্মের আমদানি? সহজ করে বলতে গেলে, এটা চাপ কমানোর একটা কৌশল মাত্র। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান দুই শিবিরই দুরন্ত গতিতে ছুটে চলেছে এখন। ফর্মের চরমসীমায় না থাকলেও, দুই দলই রয়েছে নিজেদের সেরার কাছাকাছি। কারণ, লাল-হলুদ শিবির ৭ ম্যাচে অপরাজিত। টানা ৬ টা ম্যাচে জিতেছে তারা। আর সবুজ-মেরুন শিবির অপরাজিত টানা ৮ ম্যাচে। যার মধ্যে ৭টি জিতেছে তারা।

আই লিগ ও এএফসি মিলিয়ে টানা ৮ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড সঞ্জয় সেনের আমলে নেই। আবার প্রথম ম্যাচের পর থেকে এ হেন স্বপ্নের শুরু মরগ্যান তার আগের জমানায় পাননি। তাই আবেগের, স্নায়ুর, পেশাদারিত্বের, পরিকল্পনার ব্যাটল রয়্যালে পা হড়কাতে চাইছে না কোনো পক্ষই। কারণ, দুই দলের কোচই জানেন বাঙালির চিরন্তন লড়াইয়ে হারের স্বাদ কতটা কড়া হতে পারে। বাইরে পেশাদারিত্ব দেখানোর চেষ্টা করলেও ব্রিটিশ বনাম বাঙালি মস্তিস্কের লড়াই চলছে জোরকদমে। তাই তো বাগানের সেটপিস দূর্বলতা কাজে লাগাতে টানা নিজেদের সেট পিস অস্ত্র ঝালিয়ে নিচ্ছেন ডিকা-মেহতাবরা। আবার রক্ষণকে নিয়ে আলাদা অনুশীলন করানোর নামে তাদের হাল একপ্রকার খাটিয়ে খাটিয়ে বেহাল করে দিচ্ছেন সঞ্জয় সেন। মুখে যদিও ইস্টবেঙ্গলের প্রশংসা করে বলছেন, “এক শতাংশ হলেও ওরা আমাদের থেকে ভালো ফুটবল খেলেছে। তবে এগিয়ে বা পিছিয়ে কাউকে রাখছি না।” তবে অনুশীলন করানোর সময়ে সম্পূর্ণ আলাদাই চিত্র। আগের দিন পর্যন্ত চোট-আঘাতের জেরে যিনি হালকা ফাউল কেউ করলেই রে রে করে তেড়ে যেতেন, এখন ট্যাকেলে না গেলেই এক কথায় ঝেড়ে কাপড় পরিয়ে দিচ্ছেন। রীতিমতো কড়া টাস্ক মাস্টারের ভূমিকায় এখন চেতলার বাসিন্দা। এডু, আনাসকে নিয়ে আলাদা সময় দিলেন তিনি। চোট সারিয়ে ওঠা এডু খেলতে পারেন বড়ো ম্যাচে, যদিও এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলছেন না সঞ্জয়। তবে একটা ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। বললেন, “জয়ের জন্য পূর্ণশক্তি নিয়ে ঝাঁপাবে মোহনবাগান দল।”

উলটো দিকে, অনুশীলনে বরং অনেকটা হালকা ট্রেভর জেমস মরগ্যান। বলা ভালো, তাকে স্বস্তি দিচ্ছে তুলনামূলক সেট টিম। চোটের জেরে নিত্য দিন সঞ্জয়ের মতো তাঁকে দলে পরিবর্তন করতে হচ্ছে না। আস্তে আস্তে নিজের পছন্দের ফুটবলারদের খেলানো শুরু করে প্রায় সেট টিম বানিয়ে ফেলেছেন তিনি। তার দলের আক্রমণভাগের সেরা তাস উইলিস প্লাজা যেমন সমর্থকদের উদ্দেশে বলছেন, “প্রথম ডার্বিতে লক্ষ্য গোল পাওয়া। তবে আসল নজর ৩ পয়েন্টে।”

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here