গোলশূন্য ড্রয়ের শিলিগুড়িতে খলনায়ক মাঠই

0
103

শিলিগুড়ি: ৭৫ মিনিটের মাথায় জেজে-কে তুলে বলবন্তকে নামালেন সঞ্জয় সেন। উপায় ছিল না। পুরোটাই নিষ্প্রভ ছিলেন জেজে। কিন্তু ৪৩ মিনিটের মাথায় যদি গোলের সামনে থেকে শটটা নিতে পারতেন তিনি। তাহলে হয়তো এদিনের নায়ক হিসেবে তাঁর নামই লেখা হতো। কিন্তু পারেননি, কারণ মাঠের অসমান বাউন্স। পুরো ম্যাচ জুড়ে বারবার বল ধরতে অসুবিধায় পড়েছেন খেলোয়াড়রা। দৌড়তে দৌড়তে পড়ে গেছেন। কারণ ওই মাঠ। বড়ো ম্যাচের আবেগ দর্শকদের বিষয়। কিন্তু সেই আবেগকে মর্যাদা দেওয়ার দায় তো শুধু খেলোয়াড়দের নয়, ক্রীড়া প্রশাসনের কর্তাদেরও। এই সমস্যা না মিটলে ভারতীয় ফুটবল এক কদমও এগোবে না। তা সে ফিফা যতই ৪৮ দলের বিশ্বকাপ করুক।

এবার খেলার কথা। ম্যাচের সেরা হয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার রেহনেশ। এর থেকে মনে হতেই পারে ম্যাচে প্রাধান্য ছিল সবুজমেরুনের। কিন্তু বাস্তবে, প্রথমার্ধে যেমন দাপটে খেলল সঞ্জয় সেনের দল, দ্বিতীয়ার্ধে সেই দাপটের অনেকটাই কেড়ে নিয়েছিল মরগ্যানের ছেলেরা। ৫৫ মিনিটে রবীন সিং-এর হেড থেকে বল পেয়ে প্লাজা যে শটটা নিয়েছিলেন, সেটা গোলে পরিণত না হওয়ার একমাত্র কৃতিত্ব দেবজিতের। প্রথমার্ধটা মোহনবাগান প্রাধান্য রাখার পর ইস্টবেঙ্গল আরও বেশি বেশি করে মাঝমাঠকে এড়িয়ে লম্বা বল নিয়ে খেলার স্ট্র্যাটেজিতে মন দিল। এই ছক নিয়েই সফল মরগ্যান। কিন্তু কল তো বিগড়োতেও পারে।  

সোনি নর্দে কেন দেশের সবচেয়ে দামি ফুটবলার, তা বারবার বুঝিয়ে দিলেন খেলার প্রথমার্ধে। ১৬ মিনিটে বাঁদিক থেকে যে অসাধারণ রিভার্স পাসটি বাড়ালেন, তা থেকে গোল করতে না পারার হতাশা নিশ্চয় প্রীতম কোটালকে তাড়া করবে। তারপর ৩৩ মিনিটের কর্নার। ভলিটা তেকাঠিতে রাখতে না পেরে মাথা চাপড়ালেন এডুয়ার্দো।

প্রথমার্ধে অল্প সময়ের জন্য গোলমালও বাধল দুই দলের খেলোয়াড়দের। ডাফিকে ধাক্কা মারলেন ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক লালরেন্ডিকা। হলুদ কার্ডও দেখলেন।

ম্যাচের শেষ লিগশীর্ষেই থাকল ইস্টবেঙ্গল। ৮ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ২০, মোহনবাগানের ৭ ম্যাচে ১৭।

সব মিলিয়ে যেন অপরাজিত থাকার লক্ষ্য নিয়েই প্রথম ডার্বিতে নেমেছিল সঞ্জয় সেন আর মরগ্যানের ছেলেরা। পরের ডার্বির সময় আই লিগের সোনালি স্বপ্ন আরও কাছে এসে যাবে। তখন আর এই বিলাসিতার সুযোগ থাকবে না।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here