হঠাৎই প্রয়াত প্রাক্তন গোলরক্ষক শিবাজি বন্দ্যোপাধ্যায়

0
116

সানি চক্রবর্তী:

চলে গেলেন শিবাজি ব্যানার্জি। মোহনবাগানের স্বর্ণযুগের বিশ্বস্ত প্রহরীর অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রীড়ামহল। শুধু ময়দানই নয়, তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত সকলেই। অত্যন্ত ভালো গোলরক্ষকের পাশাপাশি খুব ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১১ বছর মোহনবাগানের জার্সি পরে খেলার সময় থেকেই যে টান গঙ্গাপারের ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর গড়ে উঠেছিল, তা বজায় ছিল আজীবন। বর্তমানে মোহনবাগান টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। এই সে দিনও মাঠে গিয়ে সনি-বলবন্তদের পেপটক দিয়ে এসেছিলেন যে মানুষটা, তিনি আর নেই ভাবতেই পারছেন না কেউ।

sib-4
রবিবার সকালে বালিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর।

রবিবার দুপুরে বালিতে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সেখান থেকে গিয়েছিলেন এন্টালিতে এক বন্ধুর বাড়িতে। সেখানেই অসুস্থ বোধ করেন। তখনই বড়োসড়ো হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে তাঁকে

নিয়ে পৌঁছোনোর আগেই মারা যান তিনি। বয়স হয়েছিল ৬৮। রেখে গেলেন স্ত্রী ও এক পুত্রকে।

sib-1পাঁচের দশকে বাংলার দাপুটে গোলরক্ষক সুবোধ ব্যানার্জির সুপুত্র শিবাজি ব্যানার্জি পরিচিত ছিলেন ট্রাইব্রেকার মাস্টার হিসেবে। ইস্টবেঙ্গল, হাওড়া ইউনিয়ন, এরিয়ান্সের মতো ক্লাবে খেললেও ফুটবলার হিসেব প্রতিষ্ঠা পান মোহনবাগানে খেলে। ১৯৭৩ সালে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেললেও সে ভাবে নজর কাড়তে পারেননি। ১৯৭৬ সালে এরিয়ান্সের জার্সিতে তাঁর পারফরম্যান্সের জেরে নজর কাড়েন। তার পরের মরশুমেই তাঁকে দলে নেয় মোহনবাগান। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৫, একটানা ৯ বছর সবুজ-মেরুনের জার্সি পরে খেলেছেন তিনি। ১৯৭৭ থেকে টানা ৪ বছর ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে কোনো গোল হজম করেননি। মোহনবাগানের স্বর্ণযুগের এই ফুটবলার ক্লাবকে বহু ট্রফি দিয়েছেন। কিন্তু কখনও দলের অধিনায়কত্ব করার সুযোগ পাননি। টাইব্রেকারে তাঁর গ্লাভসজোড়া ছিল বিশ্বস্ততার প্রতীক। কোনো ম্যাচে না খেললেও ট্রাইব্রেকারের দিকে গড়ালেই কোচেরা নামিয়ে দিতেন তাঁকে। এ রকম জায়গা থেকে অনেক বার দলকে জিতিয়েছেন তিনি।

২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭। ফুটবলসম্রাট পেলের পা থেকে বল তুলে নিচ্ছেন গোলরক্ষক শিবাজি ব্যনার্জি।

১৯৭৭ সালে ফুটবলসম্রাট পেলে কলকাতায় খেলতে এসে প্রশংসা করে গিয়েছিলেন শিবাজি ব্যানার্জির। পেলের পা থেকে আক্রমণ ছিনিয়ে নিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন সে বার। ম্যাচের পরে ফুটবলসম্রাট তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন। মোহনবাগান মাঠের আড্ডায় এখনও সেই প্রসঙ্গ উঠলে তৃপ্তির এক হাসি বয়ে যেত তাঁর ঠোঁট বেয়ে।

শিবাজি ব্যানার্জির সেই হাসিমুখে বিচরণ আর দেখা যাবে না মোহনবাগান তাঁবুতে। সোমবার শেষ বারের জন্য ক্লাব তাঁবুতে যাবে তাঁর নিথর দেহ। আপাতত দেহ রাখা আছে ‘পিস ওয়ার্ল্ড’-এ। সোমবার ক্লাব তাঁবু হয়ে নেতাজি  ইনডোর স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হবে দেহ। সেখানে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তাঁকে সম্মান জানানো হবে। সাধারণ মানুষও তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে যেতে পারেন। 

 

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here