স্পিন মন্ত্র বুমেরাং, ভাঙার মুখে ভারতের অপরাজেয় থাকার রেকর্ড

0
79

পুনে: ২০০৪-এর অক্টোবর, এই মরাঠাভূমিতেই শেষ বার ভারতের মাটিতে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এর পর কেটে গিয়েছে তেরোটা বছর, হয়েছে দশটি টেস্ট, কিন্তু একটাতেও ভারতের বিরুদ্ধে দাঁত ফোটাতেই পারেনি অজিরা। কিন্তু তেরো বছর পর আবার সুযোগ এসেছে। সুযোগ এসেছে ভারতের মাটিতে জেতার। কাদের এসেছে সেই সুযোগ? না, গত তেরো বছরে ভারত সফররত সব থেকে দুর্বল অস্ট্রেলিয়া দলই।

শেষ বার অস্ট্রেলিয়া যেখানে জিতেছিল, নাগপুরের সেই পিচ তৈরি করা হয়েছিল অস্ট্রেলীয় ধরনে। সবুজ পিচে ব্রেট লি-গ্লেন ম্যাকগ্রারা ভারতীয় ব্যাটিং-এ বুলডোজার চালিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখানে তো ঘূর্ণি পিচ, এই পিচে তো দাপট দেখানোর কথা ছিল ভারতের। এটা কী ভাবে হল? যে স্পিন মন্ত্রে অস্ট্রেলিয়াকে কাত করার আশায় ছিলেন বিরাট কোহলি, সেই স্পিন মন্ত্রই বুমেরাং হয়ে গেল। যে পিচে অশ্বিন-জাদেজা এখনও সে ভাবে দাগ কাটতে পারেননি, সেই পিচেই ছ’উইকেট নিয়ে নিলেন বাঁ হাতি অজি অফ স্পিনার স্টিভ ও’কিফ।

মাত্র এগারো রানে শেষ সাতটি উইকেট পড়ল ভারতের। এর জন্য অনেকাংশেই দোষী কেএল রাহুল। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে মিচেল স্টার্কের রিভার্স সুইং-এর সামনে দাঁড়াতে পারেননি পুজারা এবং কোহলি। দু’জনের সংগ্রহ যথাক্রমে ৬ এবং ০। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে রাহানে এবং রাহুলের মধ্যে একটা ভালো জুটি তৈরি হচ্ছিল। তিন উইকেটে ৪৪-এর বিপজ্জনক অবস্থা থেকে ভারত তখন মোটামুটি ভালো একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। স্কোর বোর্ডে দেখাচ্ছে তিন উইকেটে ৯৪। এখানেই ভুল করে বসলেন রাহুল। ও’কিফকে স্টেপ আউট করে তুলে দিলেন। শটে টাইমিং ছিল না। বল তা ধরতে কোনো ভুলই করেননি ওয়ার্নার। ওই ওভারেই ফিরলেন আরও দু’জন, রাহানে এবং ঋদ্ধিমান। বাকি ব্যাটসম্যানদের ফেরাতে বিশেষ কাঠখড় পোহাতে হয়নি। মূলত ভয় এবং আশঙ্কাই ভারতের বাকি উইকেটগুলো দিয়ে দিল। ১০৫ রানে শেষ ভারত।

১৫৫ রানের লিড পাওয়া অস্ট্রেলিয়াকে আটকানোর একমাত্র উপায় ছিল উইকেট। অশ্বিন সেটা করলেনও। দ্রুত ফিরিয়ে দিলেন ওয়ার্নার এবং শন মার্শকে। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর যখন ৬১, পড়ল তাদের তিন নম্বর উইকেট। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক স্মিথের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন রেনশ। রেনশ ফিরে যাওয়ার পর দিনের শেষ পর্যন্ত স্মিথকে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে যাচ্ছেন মিচেল মার্শ। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর চার উইকেটে ১৪৬।

লিড এখনই ৩০১ ছুঁয়ে গিয়েছে। টেস্টের প্রথম দু’দিনের খেলা দেখে বলতে হয় ভারতের উনিশ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভাঙতে চলেছে। তবুও ক্রিকেট বড়োই অনিশ্চয়তার খেলা। চারশো রান তাড়া করেও জিতে যায় কোনো দল। ভারতের এখন আর হারানোর কিছু নেই, তাই ভালো কিছুর আশা করাই বরং ভালো।    

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here