সিরিজ জিতলে র‍্যাঙ্কিং শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া, এই অঘটন নিয়ে আশঙ্কার কারণ নেই

0
87

পুনে: শেষ লগ্নে এসে পড়ল ভারতের ঘরোয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মরশুম, গত বছর সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে যা শুরু হয়েছিল। কিউয়ি নিধন, ইংল্যান্ডকে দুরমুশ, বাংলাদেশকে হারানোর পর বিরাটবাহিনীর টার্গেট অস্ট্রেলিয়াকে এক্কেবারে সাবড়ে ফেলা।

২০১৩-তে শেষ বার ভারত সফরে এসেছিল অজিরা। মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বে সেই দলকে চারটে টেস্টের চারটেতেই মাত করে দিয়েছিল ধোনিবাহিনী। সেই দলে থাকা নবাগত স্টিভ স্মিথ এখন অধিনায়ক হয়েছেন, কিন্তু টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার খেলার মান এখনও সে ভাবে উন্নত হয়নি। ঘরের মাঠে ভালো খেললেও, বিদেশে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স আহামরি কিছু নয়।

আরও পড়ুন: জীবন চলিয়া গিয়েছে তিরিশ-তিরিশ বছরের পার, ভারতের একমাত্র টাই টেস্টের স্মৃতি

এই চার বছরের মধ্যে ইংল্যন্ডের মাঠে দু’বার অ্যাসেজ সিরিজ খুইয়েছে অস্ট্রেলিয়া। উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ডে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যন্ডের সাফল্যে ভারতে কিছু হবে না। ভারতে খেললে যেটা বিবেচিত হয় তা হল উপমহাদেশের স্পিন সহায়ক পিচে তাদের খেলার মান। সেই খানে ডাহা ফেল অস্ট্রেলিয়া।

জয় বা ড্র নয়, উপমহাদেশে শেষ ন’টি টেস্টের সবক’টিতে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য, গত বছর শ্রীলঙ্কার হাতে হোয়াইটওয়াশ। ভারত বা পাকিস্তান নয়, ভাবা হয়েছিল দুর্বল শ্রীলঙ্কাকে বাজি ধরেই উপমহাদেশে জয়ের রাস্তায় ফিরবে স্মিথবাহিনী। কিন্তু সেখানে এই দুর্দশার ফলে, নিঃসন্দেহে ভারতের পিচে তাদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে নিয়ে গিয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় একার হাতে অজিদের পেড়ে ফেলেছিলেন রঙ্গনা হেরথ। ভারতে তো আবার রয়েছে দু’জন। রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং রবীন্দ্র জাদেজা। আইসিসি তালিকায় তাঁদের র‍্যাঙ্কিং যথাক্রমে এক এবং দুই।

বিশ্বের দ্রুততম বোলার হিসেবে আড়াইশো উইকেটের গণ্ডি পেরিয়েছেন অশ্বিন, অন্য দিকে জাদেজার ১১৭ উইকেটের ৯৬টিই এসেছে ভারতে। সূত্রের খবর, স্পিন বোলিং-এর একেবারে আদর্শ পিচ বানানো হয়েছে পুনেতে। পুনের পিচ দেখে তিন নিম্বর স্পিনার নামানোর চিন্তাভাবনা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। যতই দু’টো স্পিনার খেলাক, স্মিথ ভালোই জানেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধান অস্ত্র পেস বোলিং।

শেন ওয়ার্ন অবসর নেওয়ার পর, প্রায় এক ডজন স্পিনারে পরীক্ষানিরীক্ষা করে অবশেষে একটা বলার মতো স্পিনার পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ৬৩টি টেস্টে ২২৮ উইকেট নেওয়া সেই নাথান লিয়ন আদৌ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিপাকে ফেলবেন কি না সেই সন্দেহ থেকেই যায়। অস্ট্রেলিয়ার বাজি বরং মিচেল স্টার্ক আর জশ হ্যাজেলউডের রিভার্স সুইং।

দু’দেশের সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে ভারতের থেকে সাংঘাতিক পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া। এক দিকে ২০১৫-এর আগস্টের পর কোনো টেস্ট হারেনি ভারত। উনিশটি টেস্ট অপরাজিত থেকে করে ফেলেছে রেকর্ড, অন্য দিকে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর, ঘরের মাঠেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হেরেছে তারা। তবে বছর শেষে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর কিছুটা অক্সিজেন পেয়েছে স্মিথবাহিনী।

ভারতকে হারানোর জন্য প্রয়োজনে স্লেজিং-এর পথে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এখনকার ব্যাটসম্যান অনেক স্মার্ট। স্লেজিং-এ বিরক্ত হয়ে নিজের উইকেট দিয়ে আসার দিন এখন শেষ। বরং সেই স্লেজিং এখন বিরাট কোহলি-অজিঙ্ক রাহানেদের উদ্বুদ্ধ করে আরও ভালো করার।

সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার কাছে উদ্বুদ্ধ হওয়ার একটা রসদ আছে। ভারতকে যদি ০-৩ ব্যবধানে হারিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে টেস্ট র‍্যাঙ্কিং-এ শীর্ষ স্থানে চলে যাবে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু অশ্বিন-জাদেজার আক্রমণ, ব্যাটসম্যানদের দাপট এবং বিরাট কোহলির অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্বে এমন ‘অঘটন’ ঘটবে, এই আশঙ্কা না করাই ভালো।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here