ডার্বি-ডঙ্কা: বড়ো লড়াইয়ে ছোটো যুদ্ধগুলো

0
79

সানি চক্রবর্তী:

সনি নরডি বনাম রবিন গুরুং

sony-vs-rabin

নিঃসন্দেহে মোহনবাগান আক্রমণের প্রাণভোমরা। ফাঁকা জায়গা পেলেই ভয়ংকর এই হাইতিয়ান। তাঁর বাম প্রান্তিক দৌড় শুরু করে ভিতরে ঢুকে আসা আটকানোর উপরে অনেকাংশে নির্ভর করবে বাগান আক্রমণকে আটকানো। গত চেন্নাই ম্যাচে রাহুল ভেকের পরিবর্তে নেমে রবিন গুরুং যে ফুটবল খেলে দেখিয়েছেন, তাতে প্রথম একাদশে সনির বিরুদ্ধে তিনি না নামলেই অবাক হতে হবে। পাশাপাশি সনির পা থেকে বল দ্রুত কেড়ে নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে লাল-হলুদের মিডফিল্ড জেনারেল, তথা রবিবারের ডার্বিতে অভিজ্ঞতম মেহতাব হোসেনের উপরে।

মেহতাব হোসেন বনাম শৌভিক চক্রবর্তী

mehtb-vs-souvik

শুধু সনিকে নয়, কাটসুমিকে আটকানোরও দায়িত্ব থাকবে মেহতাবের উপরে। ইস্টবেঙ্গলের খেলার মূল মেরুদণ্ড ঢাকুরিয়া নিবাসী এই ফুটবলারই। তাঁকে টপকে বিপক্ষ আক্রমণ এগোলেই রক্ষণে চাপ পড়ে। তাই ডিফেন্সিভ স্ক্রিন হিসেবে বিপক্ষের আক্রমণকে আটকানো ও ইস্টবেঙ্গলের যাবতীয় আক্রমণ শুরু করার দায়িত্ব থাকে মেহতাবের উপরে। আর বাগান শিবিরের ক্ষেত্রে বিপক্ষ আক্রমণকে থমকে দিয়ে পালটা আক্রমণ তৈরি করার মূল দায়িত্ব থাকে শৌভিক চক্রবর্তীর উপরে।

ওয়েডসন আনসেলমে বনাম প্রণয় হালদার

pronoy-vs-wedson

মেহতাবের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ গড়ার মূল ভার থাকবে ওয়েডসন আনসেলমের উপরে। সনির হাইতিয়ান বন্ধুর কাছে লাল-হলুদ জনতার মনে স্থান করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এটাই। তবে সে ক্ষেত্রে তাঁকে টপকাতে হবে হার্ড ট্যাকলার প্রণয় হালদারের বাধা। আগে মাথা গরম করে বাজে ফাউল ও ট্যাকেল করার দুর্নাম ছিল প্রণয়ের সঙ্গে। এখনও তা থেকে পুরোপুরি মুক্ত না হলেও, আগের থেকে অনেক বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে খেলেন তিনি। তাই মাঝমাঠ দখলে রেখে খেলার দখল নিজেদের দখলে রাখার লড়াইটা হবে উপাদেয়।

কাটসুমি উসা বনাম নারায়ণ দাস

katsumi-vs-narayan

বাগানের বাঁ দিকে আক্রমণে যদি থাকেন হাইতিয়ান ম্যাজিসিয়ান, ডান দিকে রয়েছেন ধারাবাহিক জাপানি মিশাইল। টানা ওয়ার্কলোড নিয়ে খেলে চলা এই মরশুমের বাগান অধিনায়ক কাটসুমি দলের প্রয়োজনে খেলতে পারেন দুই উইংয়েই। সনি থাকায় ডান দিকেই খেলবেন তিনি। বাগান আক্রমণের বেশির ভাগটাই উইং দিয়ে ঢোকে। তাই জাতীয় দলের বাঙালি রাইট ব্যাক নারায়ণ দাসকে ব্যস্ত থাকতে হবে কাটসুমিদের সামলাতে। সঙ্গে নারায়ণের কাছে চ্যালেঞ্জ থাকবে বিপক্ষকে থমকে দিয়ে ডিকাকে সাহায্য করা।

লালরিনডিকা রালতে বনাম প্রীতম কোটাল

dika-vs-pritam

ইস্টবেঙ্গলের বেশির ভাগ আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু এ বারে ডিকাই। মিজো এই ফুটবলার ইস্টবেঙ্গলের আর্ম ব্যান্ড পরার পাশাপাশি যে ফুটবলটা এ বারে খেলছেন, তাতে জ্যাকিচাঁদ, অবিনাশের মতো ফুটবলাররা লাল-হলুদের হয়ে বাঁ দিকে খেলার লড়াইয়েই নেই। বাঁ পায়ের এই ম্যাজিসিয়ানকে ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা আদর করে ডাকছেন ‘টনি ক্রুস’ বলে। বাঁ পায়ে পাসিং থেকে সেট পিস, ডিকার এ বারে আই লিগের ফর্ম এক কথায় দুরন্ত। এ হেন ডিকাকে আটকানোর দায়িত্ব বর্তাবে প্রীতম কোটালের উপরে। জাতীয় দলের এই রাইট ব্যাক বাগান আক্রমণের ডান দিকে শক্তি বাড়ান। ডিকাকে সামলে উপরে উঠে সেই সাহায্য করার কাজটা মোটেই সহজ হবে না।

নিখিল পূজারি বনাম শুভাশিস বোস

nikhil-vs

নিঃসন্দেহে এ বারের আই লিগে সেরা দুই অনূর্ধ্ব-২২ ফুটবলারের লড়াই। ডিকার মতোই উইং থেকে ভিতরে ঢুকে আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রে চোখ টানছেন নিখিল। আর প্রতিপক্ষকে রুখে দিয়ে বাঁ প্রান্ত ধরে উপরে উঠে সনিকে সাহায্য করে নজর কেড়েছেন শুভশিস।

ড্যারেল ডাফি বনাম ইভান বুকেনিয়া

ivan

আই লিগের সর্বোচ্চ স্কোরার তিনি। প্রায় নিয়ম করে প্রত্যেক ম্যাচে গোল পাচ্ছেন ড্যারেল ডাফি। সনি থেকে সঞ্জয় সেন সকলেই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আবার মরগ্যান থেকে ওয়েডসন সবাই মজে বুকেনার ঠান্ডা মাথায়। লম্বা এই ফুটবলারটি ঠান্ডা মাথায় রক্ষণকে সামলান যেমন, তেমনই সেটপিসের সময়ে উঠে গিয়ে গোল করতে তাঁর জুড়ি নেই। কিছুটা স্লথ হলেও বুকেনায় মজে লাল-হলুদ সমর্থকরা, তেমনই ডাফির গোল করার ক্ষমতায় মজে সবুজ-মেরুন সমর্থকরা।

উইলিস প্লাজা বনাম অ্যানাস এডাথোডিকা

anas-vs

দুই দলের কোচকেই যেমন নিশ্চিন্ত করছে তাদের আক্রমণভাগ। তেমনই কিছুটা চিন্তায় রেখেছে ডিফেন্স। ইস্টবেঙ্গলের গোল করার আসল লোক উইলিস প্লাজার বিরুদ্ধেই তাই আসল পরীক্ষা আনাসদের। প্লাজার চকিতে দৌড়, হাফটার্নে বিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করা ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের চোখ উজ্জ্বল করেছে। তেমনই জাতীয় দলে খেলার পাশাপাশি শান্ত মাথায় ডিফেন্সকে নেতৃত্ব দেওয়া কেরালা ডিফেন্ডার আনাস-ভাইয়ায় ভরসা রাখছেন মোহনবাগান সমর্থকরা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here