লিগের দৌড়ে ফিরতে তিন পয়েন্ট চাইছেন সঞ্জয়

0
121

সানি চক্রবর্তী:

অঙ্কটা এখনও সোজাসাপটা। বাকি ৬ খানা ম্যাচের সবক’টাতেই জয়। তা হলেই আর বাকি কারোর উপর ভরসা না করে ফের এক বার চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান। কিন্তু ফুটবলের মাঠের লড়াইয়ের হিসেবনিকেশ তো আর এতটা সহজ নয়। আপাতত লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ বেঙ্গালুরু ম্যাচে জিতে আইজলের উপরে চাপটা বজায় রাখা। কারণ ১৪ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে লিগের মগডালে রয়েছে মিজোরামের দলটি। মোহনবাগান সেখানে ১২ ম্যাচে ২৩ পয়েন্টে তৃতীয় স্থানে। এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের শুরু ম্যাচেই বেঙ্গালুরুর কাছে এগিয়ে থেকেও হেরে ফিরেছে মোহনবাগান। তাই সপ্তাহ দুয়েকের বিরতির পরে তাদের হারিয়েই ফের লিগে শ্রেষ্ঠত্বের বৃত্তে ফিরতে চাইছেন সঞ্জয় সেন। পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, “পূর্ণ শক্তির দলই নামাব। ম্যাচটা জেতাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।” প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গলের কোচ ট্রেভর মরগ্যান সরাসরিই বলেছিলেন, বাগান পয়েন্ট নষ্ট করলে খুশি হবেন তিনি। তার পালটা হিসেবে সঞ্জয় বললেন, “ভগবান ওঁর মঙ্গল করুন। তাঁর ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় তো সব কিছু হয় না। আমরা আমাদের কাজে নামছি। আর সেটা তিন পয়েন্ট পাওয়া।”

শুধু আগের হারের বদলাই নয়, আরও বেশ কয়েকটি বিষয় ঘিরে বাড়তি উদ্যমে রয়েছেন সবুজ-মেরুন জার্সিধারীরা। আগামী ২৫-২৬ দিনে তাদের খেলতে হবে ৮টা ম্যাচ। যার মধ্যে আগামী ১৮ দিনেই ৬টি। তাই এই পর্বের শুরুটা ফের নতুন উদ্যমে করতে চাইছে বাগান শিবির। কারণ, এখনও আইজল, মিনার্ভার মতো দলের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ বাকি। আর আই লিগের পরের ম্যাচটাই ডার্বি। আই লিগের শুরুতে টানা ৮ ম্যাচ অপরাজিত ছিল তারা। সেই ট্র্যাক রেকর্ডই এখন তাতাচ্ছে তাদের। এমনিতেই টিকিট বিভ্রাটের পর্বে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি ম্যাচের টিকিট বিক্রি। বরং সুনীল-বিনীথদের বিপক্ষে গলা ফাটাতে ভালোই ভিড় আশা করা হচ্ছে। ক’দিন আগে মায়ানমারের বিরুদ্ধে যে উদান্তা-সুনীল জুটি ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল, তারাই এখন চিন্তা বাড়াচ্ছে সঞ্জয়ের। বিশেষ করে তার দলের রক্ষণ। এমনিতেই লেফট ব্যাকে শুভাশিস নেই। চোট সারিয়ে ওঠা রাজুকে লেফট ব্যাকে খেলানোর সম্ভাবনা। ম্যাচের আগের দিনের অনুশীলনে দু’টো দল করে খেলানোর মাঝে আনাস-এডুর বোঝাপড়ার অভাব দেখা গেছে। ভুলের সঙ্গে সঙ্গে তা শুধরে দিয়েছেন বাগান কোচ। তবে ম্যাচে এ রকম একটা ভুল থেকেই বড়োসড়ো শাস্তি দিয়ে যেতে পারে বেঙ্গালুরু শিবির। অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী হুঙ্কার ছেড়ে বলেছেন, “কঠিন লড়াই উপহার দিতে প্রস্তুত আমরা। আই লিগের লড়াইয়ে সে ভাবে না থাকলেও ম্যাচ কোনো মতেই ছেড়ে দেব না। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলতে নামাটাই দলের কাছে বাড়তি মোটিভেশন।” বেঙ্গালুরু প্রশিক্ষক যদিও কিছুটা রক্ষণাত্মক। তার দল যে আই লিগের খেতাবি দৌড়ে নেই, তা ভালোমতেই জানেন স্প্যানিশ কোচ। তা ছাড়া তাঁর দলকে তিন দিন পরেই এএফসি কাপের ম্যাচের জন্য মলদ্বীপে উড়ে যেতে হবে। তাই হয়তো বাগানের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তির দল নামানোর ঝুঁকি নেবেন না তিনি। সঞ্জয় অবশ্য এই সব ঘিরে ভাবতে নারাজ। বলছেন, “বেঙ্গালুরু যথেষ্ট ভালো দল। তাদের কোচ কাদের নামাবেন তার ব্যাপার। তবে আই লিগের কোনো ম্যচকেই হালকা ভাবে নেওয়ার জায়গা নেই।” এ দিকে, বাগানের জার্সিতে অনূর্ধ্ব-২২ কোটায় খেলতে পারেন আজহারউদ্দিন মল্লিক। শুরুটা হয়তো করবেন ডাফি-বলবন্ত। পরে নামবেন আজহার। সেটা নির্ভর করবে সনির খেলার উপরে।

বিজ্ঞাপন

বাগান জনতার নয়নের মনি সনি নর্ডি তার দেশ হাইতির হয়ে বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন পর্বের ম্যাচে খেলতে গিয়েছিলেন। শুক্রবার ভোররাতে শহরে পৌঁছে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েই চলে এসেছিলেন অনুশীলনে। দলের সঙ্গে ম্যাচ না খেললেও ফিজিক্যাল ট্রেনিং করেছেন পুরোদমে। ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে দীর্ঘ বিমানযাত্রায় জেরে কিছুটা বিশ্রাম প্রয়োজন। সনি ১৮ জনের দলে থাকবেন, তবে শুরু করবেন কিনা তা নিয়ে যদিও ধোঁয়াশা রাখলেন সঞ্জয়।

মোহনবাগান বনাম বেঙ্গালুরু এফসি

রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম

টেন ২ চ্যানেলে সন্ধে ৭টা ৫ মিনিট থেকে সরাসরি সম্প্রচার।

 

একঝলকে বাগানের বাকি মরশুমের সূচি

আই লিগ-

১ এপ্রিল – বেঙ্গালুরু এফসি (হোম)। ৯ এপ্রিল – ইস্টবেঙ্গল (হোম-শিলিগুড়ি)। ১২ এপ্রিল – শিলং লাজং (অ্যাওয়ে)। ১৫ এপ্রিল – মিনার্ভা পাঞ্জাব (অ্যাওয়ে)। ২২ এপ্রিল – আইজল এফসি (অ্যাওয়ে)। ২৫/২৬ এপ্রিল – চেন্নাই সিটি (হোম)।

এএফসি কাপ-

৪ এপ্রিল – ঢাকা আবাহনী (হোম)। ১৯ এপ্রিল – মাজিয়া (হোম)। ৩ মে – মাজিয়া (অ্যাওয়ে)। ১৭ মে – বেঙ্গালুরু (হোম)। ৩১ মে – ঢাকা আবাহনী (অ্যাওয়ে)

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here