ডার্বি মহড়ায় সনি ম্যাজিক, লঙ্কা বিজয় সম্পূর্ণ মোহনবাগানের

0
75

মোহনবাগান ২ (সনি, ডাফি)    কলম্বো এফসি ১ (ইয়াপো)

(দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানে জয়ী মোহনবাগান)

সানি চক্রবর্তী:

৩১৫৬। খাস কলকাতার বুকে রবীন্দ্র সরোবরে এএফসি কাপের অভিষেক ম্যাচে দর্শকসংখ্যা এটাই। তাও অনেকের মতে চলতি আই লিগে মোহনবাগান ম্যাচগুলিতে যে রকম দর্শকসংখ্যা হচ্ছিল, টিকিটের দাম কমাতে বরং তা একটু বেড়েছে। এএফসি কাপের যোগ্যতাঅর্জন পর্বের ম্যাচে অবশ্য সমর্থকসংখ্যার খুব একটা প্রভাব পড়েনি মোহনবাগানের খেলায়। ডার্বির আগে এই ম্যাচটাকে বরং প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবেই দেখেছিল সবুজ-মেরুন শিবির। সেই ম্যাচে পুরো স্বস্তি না এলেও সনি ম্যাজিকে অনেকটাই চিন্তা কমল সঞ্জয় সেনের।

ইংল্যান্ডের ফুটবলে একটা চলতি কথা প্রচলিত। গোলদাতাকে প্রতিপক্ষরা বরণ করে নেয় ট্যাকেলের মালা দিয়ে। মঙ্গলবার হাইতিয়ান তারকার ক্ষেত্রেও কথাটা একশো শতাংশ মিলে গেল। সনিকে এমন সব ট্যাকেলের সামনে পড়তে হচ্ছিল, যে তাঁকে বাধ্য হয়েই ৬২ মিনিটের মাথায় তুলে নিলেন সঞ্জয়। তার পর থেকেই খেলার শেষলগ্নে যেন কিছুটা গা ছাড়া হয়ে গেল বাগানের ফুটবল। শেষলগ্নে এসে একটা গোলও হজম করে বসল তারা। তবে সনি মাঠ ছাড়ার আগেই কাজের কাজটা সেরে ফেলেছিল বাগান শিবির। প্রাথমিক যোগ্যতাঅর্জন পর্বের বাধা টপকে গিয়েছে তারা। এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে খেলতে এ বার তাদের খেলতে হবে প্লে অফ রাউন্ডে। যেখানে মালদ্বীপের ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে ২১ ফেব্রুয়ারি অ্যাওয়ে ও ২৮ ফেব্রুয়ারি হোম ম্যাচ।

এ দিন খেলার প্রাথমিক পর্ব বাদ দিলে বেশির ভাগ সময়টাতেই দাপট ছিল মোহনবাগানের। আর যাবতীয় আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সনি নরডি। ২৮ মিনিটের মাথায় তাঁর গোল থেকে লিড নেয় বাগান শিবির। কাটসুমির ক্রস থেকে ডাফির ফ্লিক ধরে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে যান তিনি। সনির খেলায় সঞ্জয় সেন যে খুশি হয়েছেন জানিয়ে দিলেন। আর সনি বললেন, “নিজে গোল পেয়েছি, তার থেকেও আনন্দ দলের জয়ে।” প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সনির পাশ থেকে বিক্রমজিত চমৎকার গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তখনই ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে পারত মোহনবাগান। কিন্তু তিনি সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে মেরে বসেন। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১১ মিনিটের মাথায় সনিরই দুরন্ত মাইনাস থেকে ব্যবধান বাড়ান ডাফি। সনির পরিবর্তে নামা বলবন্ত পেনাল্টি মিস করেন মাঝে। যা নিয়ে খাপ্পা সঞ্জয়। তবে তার থেকেও বেশি রেগে, শেষ মুহূর্তের ভুলে গোল হজম করে বসাতে।  দলের ডিফেন্স ঠিকমতো খেলতে পারেনি তাঁর মতে। যদিও জানালেন, “টানা জিততে হবে, আবার ছেলেদের বিশ্রামও দিতে হবে। তাই কিছু পরিবর্তনের পাশপাশি পুরোটা দিয়ে খেলতে বলেনি। তবে ডিফেন্সের খেলায় খুশি নই।” সামনেই ডার্বি, তার আগে কম সময়ে কী ভাবে সামলাবেন জানতে চাওয়াতে সোজাসাপটা সঞ্জয় বলে দিলেন, “ভুল শোধরাতে দ্রুত না পারলে হারব। আবার কি। ছেলেদের সতর্ক করে দিয়েছি। এ বার অনুশীলনে নেবে বাকিটা।”

এ দিকে মোহন জনতার নয়নের মণি সনি বলে গেলেন, “ডার্বি জেতাটা লক্ষ্য নয়, নজর চ্যাম্পিয়নশিপে। কিন্তু ডার্বি সমর্থকদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে, তাই সেরাটা তো দিতেই হবে।” আর বন্ধু ওয়েডসনের তুলনা টানা নিয়ে হালকা খোঁচার সুরে, “বাগানের জার্সিতে দীর্ধদিন খেলছি আমি। আই লিগ, ফেড কাপ জিতেছি। আগে ও খেলুক লম্বা সময়।”  

রবিবাসরীয় রবীন্দ্র সরোবর ছাড়ার আগে সনির এই হালকা খোঁচাই যেন বাগান ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা বাতলে দিয়ে গেল। আসলে মাঠের বাইরে যত ভালোই বন্ধুত্ব থাক, ডার্বিতে মাঠের ওই ৯০ মিনিটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করাটাই চ্যালেঞ্জ। বাঙালির চিরন্তন এই দ্বন্দ্বের প্রভাব কি তা হলে এ বার হাইতির জাতীয় দলের দুই তারকার বন্ধুতেও। প্রশ্নটা যেন উঠে গেল এ দিনই।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here