‘লঙ্কা’ জয় দিয়ে এশীয় পর্বের সূচনা মোহনবাগানের

0
71

সানি চক্রবর্তী

মোহনবাগান: ২ (কেন, শেহনাজ)         কলম্বো এফসি: ১ (ওলায়েমি)        

প্রয়োজনে গতির প্যাডেলে চাপ দিয়ে বিপক্ষকে দিশহারা করা, আবার কখনও পজেশনাল ফুটবলে গতি কমিয়ে দিয়ে বিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলা। চোখ-ধাঁধানো বোঝাপড়া, আত্মবিশ্বাসী ফুটবল ও সর্বোপরি দুরন্ত রিজার্ভ বেঞ্চের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো। সব মিলিয়ে কার্যত এএফসি কাপের মূলপর্বে একটা পা দিয়ে ফেলল মোহনবাগান। কলম্বো এফসিকে তাদের হোম ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দিল সঞ্জয় সেনের দল। খেলায় প্রাধান্য বেশি থাকলেও মোহনবাগানকে কিন্তু মোটেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার অবকাশ খুব একটা দেয়নি শ্রীলঙ্কার বর্তমান সেরা দলটি। সবুজ-মেরুন শিবিরের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের হালকা তালমিলের অভাবকে কাজে লাগিয়ে বারবার প্রতিআক্রমণ-নির্ভর ফুটবলে বাগান-ডিফেন্সকে চাপে রেখে গেছে মহম্মদ রোমির প্রশিক্ষণাধীন শ্রীলঙ্কার দলটি। বাগান-ডিফেন্সের বাঁ দিকে তূলনামূলক কম খেলা শৌভিক ঘোষ ও বিক্রমজিত সিংয়ের মাঝ দিয়ে বারবার ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে লোকও বাড়িয়েছে তারা। কিন্তু একটি ক্ষেত্র ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি ভালোমতোই সামাল দিয়েছে বাগান-রক্ষণ। আর ডাফি-কাটসুমি-জেজে-প্রবীর সমৃদ্ধ ঝাঁঝালো আক্রমণভাগের জন্য বেশির ভাগ সময়ে কলম্বো দলটিকে বাধ্য হতে হয়েছে নিজেদের দুর্গ সামলাতে। আর মাঝমাঠে শৌভিক চক্রবর্তী ও শেহনাজের দাপুটে বিচরণ হাসি চওড়া করেছে সঞ্জয় সেনের মুখে। পাশাপাশি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে শেহনাজের যে গোলার মতো শটে বাগানের জয় নিশ্চিত হয়েছে, তা অনেক দিন মনের ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখতে পারেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা।

বিজ্ঞাপন

খেলার শুরু থেকেই রীতিমতো ফুলস্পিডে গাড়ি ছোটানো শুরু করে বাগান শিবির। ১৩ মিনিটের মাথায় গোলের খাতা খোলে বাগান শিবির। ডানপ্রান্ত থেকে প্রবীরের সঙ্গে জায়গা পালটে ভিতরে ঢোকেন পাস রাখেন ডাফি। ভিতরে থাকা প্রবীর বিপক্ষ ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ছোট্টো মাপা চিপ রাখেন, যা থেকে বাকি কাজটা করে যান কেন লুইস। পুরো শরীর ভাসিয়ে দিয়ে হেডে গোল করে যান তিনি। গোল করার জেরে বিপক্ষের টার্গেটও হতে হয় তাঁকে। বারবার ট্যাকেলের মুখে পড়েন কেন। ৪১ মিনিটের মাথায় বাজে ট্যাকেলের শিকার হওয়ায় তাঁকে তুলে নিয়ে জেজেকে নামাতে বাধ্য হন সঞ্জয় সেন। তার মিনিট দশেক আগেই যদিও সমতা ফিরিয়েছিল কলম্বোর দলটি। বিক্রমজিতকে বোকা বানিয়ে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত শটে শিলটনকে পরাস্ত করে যান আফিজ ওলায়েমি। এ ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও কাঠগড়ায় উঠবেন বিক্রম। বল নিয়ে বিপক্ষকে ঢুকতে দেওয়াটা ঠিক হয়নি তাঁর। প্রথমার্ধের বাকি সময়েও চলে তুল্যমূল্য লড়াই।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে লোক বাড়ায় কলম্বো এফসি। এই সময়ে কিছুটা খেলার গতি হালকা করে দিয়ে ফের বাড়ায় বাগান শিবির। তার মাঝেই শেহনাজের বিশ্বমানের গোল ৭১ মিনিটে। জেজে বলের দখল পুরো না পেলে তা এসে পড়ে পাঞ্জাবি মিডফিল্ডারটির সামনে। বক্সের বাইরে অরক্ষিত স্থানে বল পেয়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে গোলার মতো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন শেহনাজ। বিপক্ষ গোলরক্ষক ইমরানের হাতে বল লাগলেও গতির জেরে পুরোপুরি পরাস্ত হন তিনি। দুই গোল করার পরেও থেমে থাকেনি বাগান শিবির। ডাফিকে তুলে বলবন্তকে নামিয়ে বিপক্ষের উপরে চাপ বজায় রাখেন সঞ্জয়। কলম্বো এফসিও এই পর্যায়ে মরিয়া চেষ্টা করলেও হিসেব-নিকেষ করা পেশাদারি ফুটবলে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন কাটসুমিরা। এই ম্যাচে জিতে থাকায় পরের হোম ম্যাচে ড্র করলেই মূলপর্বের টিকিট পাকা করতে পারবে সবুজ-মেরুন শিবির। ৭ তারিখে রবীন্দ্র সরোবরে ১-০ ব্যবধানে হারলেও অ্যাওয়ে গোলের ভিত্তিতে পরের রাউন্ডে যাবে তারা। তবে সঞ্জয় সেনের ইঙ্গিতেই স্পষ্ট, সরাসরি দুই ম্যাচে জিতেই পরের ধাপের প্রস্তুতি চাইছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here