ডাফি-ঝলকে জয়ের ধারা অব্যাহত মোহনবাগানের

0
92

সানি চক্রবর্তী :

মোহনবাগান ২ (ডাফি ২)      শিলং লাজং ০

দুই অর্ধে দু’টি গোল। আর তাতেই কেল্লাফতে। আই লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে শিলং লাজং এফসিকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল মোহনবাগান। পাশপাশি ১৬ বছর পরে খাস কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে জাতীয় স্তরের ম্যাচের ফেরাকে স্মরণীয় করে রাখল সঞ্জয় সেনের দল। ম্যাচের আগের দিন জ্বরের কারণে অনুশীলনে নামতে না পারলেও শুক্রবারের ম্যাচের হিরো কিন্তু ড্যারেল ডাফিই। স্কটিশ এই স্ট্রাইকারই এ দিন জোড়া গোল করে ম্যাচের সেরা। লাজংকে হারিয়ে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে আপাতত লিগের মগডালে সঞ্জয় সেনের দল। তবে তাঁকে নিশ্চয়ই স্বস্তি দেবে না তাঁর দলের খেলা। তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক শুরুটা করেও জাঁকিয়ে বসতে ব্যর্থ তারা। বরং প্রথম গোলের পরে যে ভাবে গা-ছাড়া ভাবটা গ্রাস করল তাদের খেলায়, তাতে চাপ বাড়ল ডিফেন্সের উপরে। শেহনাজ, শৌভিকরা হঠাৎই চলে গেলেন রক্ষ্মণাত্মক ভঙ্গিতে। তাই ম্যাচের দীর্ঘ সময় মাঝমাঠ থেকে কার্যত অদৃশ্যই রইল বাগান দল। প্রীতম, কাটসুমিরা উইংকে সচল রেখে আক্রমণের চেষ্টা করলেও মাঝে মাঝেই বলবন্ত ও ডাফির সঙ্গে বাকিদের দূরত্বটা বেড়ে যাচ্ছিল। তরুণ লাজং দলও কিন্তু লড়াই করে গিয়েছে সমানে। কোচ থংবই সিংটো হাতে থাকা চার বিদেশিকেই প্রথম একাদশে নামিয়ে দিয়েছিলেন বাগানের থেকে পয়েন্ট চুরি করতে। মাঝে এক বার দেবজিতের ভুল ছাড়া বাকি ক্ষেত্রে নিজেদের দোষে যদিও সমতা ফেরাতে পারেনি পাহাড়ের দলটি। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ফ্যাবিও পেনা ভালো ক্রস পেয়েও হেডে গোলে বল রাখতে ব্যর্থ হন। আর বাকিটা সে ভাবে কারসাজি করতে পারেননি তাঁরা। কিংশুক, আনাসের সঙ্গে শেহনাজ, শৌভিক জমাট রক্ষণ উপহার দিয়ে গেছেন। শেষ দিকে স্ট্রাইকাররা বল না পাওয়ায় ৪-৪-২ বদলে ৪-৪-১-১ ছকে চলে যান সঞ্জয়। বলবন্ত উইথড্রয়াল হিসেবে খেলেন তখন। ম্যাচে সে ভাবে দখল দেখিয়ে না জিতলেও, খেলার রাশ কখনও নিজেদের হাত থেকে চলে যেতে দেননি বাগান ফুটবলাররা।

লাজং তাদের দলে একাধিক পরিবর্তন করলেও সেই রাস্তায় হাঁটেননি বাগান কোচ। শুভাশিসের সরাসরি বদলি শৌভিক ঘোষ ছাড়া মাঝমাঠে কিনকে বসিয়ে রেইনিয়ারকে নামান তিনি। এ ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব-২২ নিয়মরক্ষার খাতিরই বেশি কাজ করেছে। রেইনয়ার ডান দিকে খেলায় স্থান পরিবর্তন করে কাটসুমি চলে গিয়েছিলেন লেফট উইংয়ে। খেলার শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলে মোহনবাগান। ১৭ মিনিটে কাটসুমির শট কয়েক ইঞ্চির ব্যবধানে বাইরে দিয়ে চলে যায়। যদিও তার ৫ মিনিটের মধ্যেই গোল তুলে নেয় বাগান। কিংশুকের লম্বা ক্লিয়ারেন্স সোজা এসে পড়ে ডাফির পায়ে। তিনি চমৎকার বল রিসিভের পরে চকিতে হাফটার্নে ড্যান ইগনাটকে টপকে বাঁ পায়ের নিঁখুত প্লেসিংয়ে প্রথম পোস্টের পাশ দিয়ে গোল করে যান। গোলরক্ষক এ ক্ষেত্রে পুরো শরীর ছুড়েও বলের নাগাল পাননি। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৭ মিনিটে আবার খেলার গতির কিছুটা বিপরীতে গিয়ে দ্বিতীয় গোল ডাফির। প্রণয়ের ক্রস বলবন্ত রিসিভ করার আগেই আটকে যান ইগনাটের কাছে। ক্ষিপ্রতার সঙ্গে পড়ে যেতে যেতেই পাশে থাকা ডাফির দিকে বল এগিয়ে দেন পঞ্জাবি স্ট্রাইকারটি। যা থেকে দলের ব্যবধান বাড়ানোর পাশাপাশি জয় নিশ্চিত করতে কোনো ভুল করেননি। ম্যাচের পরে ডাফি জানান, “পরবর্তী হোম ম্যাচে জিতেই অ্যাওয়ে খেলতে যেতে চাই। বাইরের ম্যাচ সব সময় কঠিন হয়। তার আগে যত বেশি সম্ভব পয়েন্ট ঝুলিতে রাখতে হবে। এ দিনের দলের পারফরম্যান্সের পরে সেই ব্যাপারেই আশাবাদী আমরা।”  উল্লেখ্য, পরের সপ্তাহের মঙ্গলবার মিনার্ভা পঞ্জাবের বিরুদ্ধে তৃতীয় হোম ম্যাচ বাগানে। যে ম্যাচে খেলতে পারেন সনি নর্ডি। এ দিন মাঠে বসে দলের জয় উপভোগ করেছেন হাইতিয়ান তারকা।

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here