এভারেস্ট জয়ের সত্যতা যাচাই-এ নয়া উদ্যোগ নেপাল সরকারের

0

কাঠমান্ডু: সামনেই পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ অভিযানের মরশুম। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।  এই এভারেস্ট অভিযানকে কেন্দ্র করে  কত লড়াই, স্বপ্ন, জেদ, প্রত্যাশা। পাশাপাশি একে ঘিরেই একটু একটু করে বাড়ছে এক ধরনের জালিয়াতি। শৃঙ্গ জয় না করেই তেমন দাবি করছেন পর্বতারোহীরা। প্রমাণস্বরূপ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়ছে শৃঙ্গ জয়ের ভুয়ো ছবি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে চলেছে নেপাল সরকার। এভারেস্ট অভিযান করবেন, এমন কয়েক জন পর্বতারোহীর সঙ্গে এ বার নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে একটি করে জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস। এটি সঙ্গে রাখলে এক দিকে যেমন পর্বতারোহীদের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে, অন্য দিকে দুর্গম হিমালয়ে হঠাৎ কোনো বিপদ হলে উদ্ধারকাজ চালানোও সুবিধাজনক হবে, তেমনটাই দাবি করেছে সে দেশের সরকার। 

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এভারেস্ট সামিট প্রমাণ করতে প্রয়োজন হয় ৮৮৫০মি উচ্চতা থেকে তোলা ছবি এবং তার সঙ্গে বেস ক্যাম্পে থাকা লিয়াজঁ আধিকারিকের রিপোর্ট। গত বছর পুনের এক দম্পতি সামিট না করে আরেক এভারেস্টজয়ী সত্যরূপ সিদ্ধান্তের ছবি এডিট করে শৃঙ্গজয়ের প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের কারসাজি ধরা পড়ে যাওয়ায় ওই দম্পতির এভারেস্ট জয়ের শংসাপত্র বাতিল করে দেয়  নেপাল সরকার।

বিজ্ঞাপন

পর্বতারোহীরা অভিযান সেরে কাঠমান্ডু ফিরে এলে জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইসটি দেখে শৃঙ্গ জয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কর্তৃপক্ষ। নেপালের পর্যটন বিভাগের এক আধিকারিক জানালেন, ভুয়ো দাবি রুখতে সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে পরের বছর থেকে প্রত্যেক পর্বতারোহীর ক্ষেত্রেই এই যন্ত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক হবে। 

পর্বতারোহী সত্যরূপ অবশ্য সন্তুষ্ট নন এই উদ্যোগে। তাঁর মতে, “যন্ত্র যদি শেষ কথা বলে, তবে নিজে না গিয়ে অন্য কারোর হাতে ওই যন্ত্র পাঠিয়ে দিলেও খুব সহজেই প্রমাণ দেওয়া যাবে শৃঙ্গ জয়ের। প্রতি বছর কারা কারা শৃঙ্গ জয় করলেন, তারিখ এবং সময় সহ তাঁদের সামিটের ছবি প্রকাশ্যে আনা দরকার কর্তৃপক্ষের। তা না হলে জালিয়তি ধরতে পারাই মুশকিল।”

গত কয়েক বছর ধরেই বেশ কিছু দুর্ঘটনার সাক্ষী থেকেছে এভারেস্ট। শৃঙ্গজয়ীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, বেড়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যাও। ২০১৬-তে  শুধু বাঙালি পর্বতারোহীদের মধ্যেই ঘরে ফেরা হয়নি তিন জনের। কেউ বা কোনো রকমে ফিরতে পেরেছেন জীবন হাতে নিয়ে। ২০১৫-র তুষারধ্বস কেড়ে নিয়েছিল ১৯টি তাজা প্রাণ। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে, অথবা সময় থাকতে উদ্ধারকাজ শুরু করতেও এই অত্যাধুনিক যন্ত্র কাজে আসবে, এমনই বিশ্বাস নেপাল সরকারের। 

 

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here