রাজীব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর খবরের পরেই এল ১১ বাঙালির এভারেস্ট জয়ের সংবাদ

0
93

খবর অনলাইন: এক দিকে বিষাদের খবর, অন্য দিকে খুশির। পর্বতারোহী রাজীব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর খবরে বাংলার পর্বতারোহণ মহলে যখন শোকের ছায়া, ঠিক তখনই এল খুশির খবর – ১১ বাঙালি পর্বতারোহীর এভারেস্ট জয়। এটা একটা রেকর্ড।

রাজীব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে। ৮১৬৭ মিটার উঁচু ধৌলাগিরি শৃঙ্গ ছুঁয়ে ফেরার পথে মারা যান ৪৩ বছরের রাজীব। এই সেই ধৌলাগিরি যেখানে মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে এসেছিলেন এভারেস্ট-জয়ী বসন্ত সিংহ রায়। রাজীবের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী তাশি শেরপা জানিয়েছেন, শৃঙ্গ ছোঁয়ার পরে পরেই রাজীবের চোখে যন্ত্রণা শুরু হয়। দেখা দেয় স্নো ব্লাইন্ডনেস। অসহ্য যন্ত্রণায় চোখ খুলতে পারছিলেন না রাজীব। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর চলার গতি কমে এসেছিল। চতুর্থ ক্যাম্প আর তৃতীয় ক্যাম্পের মাঝামাঝি এসে প্রচণ্ড ক্লান্তিতে লুটিয়ে পড়েন রাজীব। কিছু ক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্নো ব্লাইন্ডনেস হওয়া মানেই প্রায় অন্ধের মতো হাতড়ে হাতড়ে পথ চলা। এতে চলার গতি অনেক কমে যায়। ফলে অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পর্বতারোহীর শারীরিক ক্লান্তিও অনেক বেড়ে যায়। ফলে তাঁর মৃত্যু হতেই পারে।

বিজ্ঞাপন

আশ্চর্যের ব্যাপার, দু’ বছর আগে কাঞ্চনজঙ্ঘা জয় করে হারিয়ে যাওয়া ছন্দা গায়েনের খবর বেস ক্যাম্প থেকে দিয়েছিলেন এই রাজীবই আর সে দিনও ছন্দার দুর্ঘটনার এক মাত্র সাক্ষী ছিলেন রাজীবের মৃত্যুর সাক্ষী তাশি শেরপা।

এই দুঃখের খবরের মাঝেই এল আনন্দের খবর – বাঙালি পর্বতারোহীদের এভারেস্ট জয়। দু’ দিনে মোট ১১ জন বাঙালি পর্বতারোহী এভারেস্টের শীর্ষে উঠে রেকর্ড গড়লেন। এঁদের মধ্যে পর্বতারোহী দম্পতি কলকাতার প্রদীপ ও চেতনা সাহু এবং তাঁদের সঙ্গী দেবরাজ দত্ত বৃহস্পতিবার এভারেস্ট শৃঙ্গে আরোহণ করেন। গত তিন বছর ধরে তাঁরা এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করছেন। তৃতীয় বারের চেষ্টায় সফল হলেন।

শনিবার হাওড়ার রামরাজাতলার বাসিন্দা মলয় মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আরও যে ৮ জন এভারেস্ট শৃঙ্গে উঠলেন তাঁরা হলেন সত্যরূপ সিদ্ধান্ত, রমেশ রায়, গৌতম ঘোষ, সুভাষ পাল, পরেশ নাথ, রুদ্র প্রসাদ হালদার এবং দলের একমাত্র মহিলা সদস্য সুনীতা হাজরা। এর মধ্যে ৫৮ বছর বয়সি পরেশ নাথের একটি হাত নেই।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here