চার্চিলের থেকেও প্রত্যাশার পাহাড়ই বড়ো চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের

0
97

সানি চক্রবর্তী :

প্রতিপক্ষ চার্চিল ব্রাদার্সে একঝাঁক চেনা মুখের সারি। মোহনবাগানে খেলে যাওয়া ব্রেন্ডন ফার্নান্ডেজ, রৌউলসন রডরিগেজ, ডেনজিল ফ্রাঙ্কো, ক্লিফোর্ড মিরান্ডা থেকে কলকাতা ময়দান থেকে প্রতিষ্ঠা পাওয়া প্রিয়ন্ত সিং, সুরাবুদ্দিনরা। নবগঠিত দলটি চার্চিল কর্তারা তৈরি করেছেন মাত্র পাঁচ দিনে, অনুশীলনের সময় পেয়েছেন দিন-সাতেক। তার মাঝেই বিদেশিহীন দলটি নামছে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। হ্যাঁ, প্রবল প্রতিপক্ষ মোহনবাগানের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের পরিচয় দিয়েই শুরু করতে হচ্ছে ম্যাচের পূর্বাভাস। চার্চিলের এ বারের বেশির ভাগ ফুটবলারের কাছেই লড়াইটা নিজেদের প্রমাণ করার। তাই রক্ষণাত্মক খোলসে মোহনবাগানকে রুখে দেওয়া ছাড়া বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কলকাতায় আসেনি তারা। এমন অবস্থায় সবুজ-মেরুন শিবির প্রথম ম্যাচে আটকে গেলে, সেটাই হবে অঘটন। তাই সহজেই বোঝা যাচ্ছে, চার্চিল নয়, আই লিগে অভিযান শুরুর আগে সঞ্জয় সেন ব্রিগেডের প্রতিপক্ষ তাদের ঘিরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশার পাহাড়। অনুশীলনে কোনো ফুটবলার ভুলচুক করলেই উড়ে আসছে ময়দানি বিভিন্ন বিশেষণ। আবার, দারুণ একটা গোল বা সেভে ভেসে যাচ্ছে করতালিতে। এতটাই চনমনে মেজাজ ম্যাচের আগে মোহন অনুশীলনের। সহকারী কোচ শঙ্করলালা চক্রবর্তী অবশ্য প্রতিপক্ষকে এতটা সহজ ভাবে দেখতে নারাজ। বললেন, “আমরাও তো খুব বেশি দিন অনুশীলন করছি না। সতর্ক হয়েই শুরু করতে হবে। এটা ফুটবল, আগে থেকে কিছু ভেবে নিয়ে মাঠে নামলে ঠকতে হবে।”

ময়দানের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেলফির আবদার প্রায় রোজই মেটাতে হচ্ছে প্রায় সমস্ত ফুটবলারকে। গোটা বিষয়টা এ বারেই প্রথম দেখছেন আনাসের মতো ফুটবলার। তাই মেনে নিচ্ছেন, “চাপ যে কিছুটা আছে অস্বীকার করব না। তবে শুরুটা জিতেই করতে মরিয়া। কোচ সুযোগ দিলে সবটা উজাড় করে দেব।” প্রত্যাশা ও সমর্থকদের ভালোবাসার সঙ্গে পরিচিত বিক্রমজিতের মতে, “কোচ কাকে প্রথম একাদশে রাখবেন জানি না, তবে যেই খেলুক দলের সবাই তাঁর সঙ্গে আছে। ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা এখন এ রকমই।” আবার বার্থডে বয় জেজেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা দেওয়ার পাশাপাশি গোল করার আবদারটাও করছেন সমর্থকরা। অন্য দিকে, কোচ সঞ্জয় সেন ও অধিনায়ক কাটসুমি চাপের ব্যাপারটা মানতে চাইলেন না। প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করাটাতেই নজর, বাকি কিছুতে নয়। একই সুর কোচ-অধিনায়কের। পাশাপাশি, পরিবেশ আদালতের ধাক্কায় বারাসতে কৃত্রিম ঘাসে খেলা নিয়েও চিন্তিত নন তাঁরা। চার্চিল অবশ্য কিছুটা মনমরা অনুশীলন ঘিরে। তাদের সম্মতিতেই বারাসত ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে ঠিক হলেও ম্যাচের আগের দিন সেখানে অনুশীলন না করতে পেরে হতাশ তারা। প্রত্যেক জায়গাতেই ম্যাচের আগের দিন ৪৫ মিনিট মাঠে অনুশীলনের সুযোগ থাকে, তা না পেয়ে হতাশ দলের সহকারি কোচ আলফ্রেড ফার্নান্ডেজ। পাশাপাশি প্রতিপক্ষ শিবিরের মাঠে এসে অনুশীলনের বন্দোবস্ততেও তারা বেশ অখুশি। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে তারা কোনো অভিযোগের রাস্তায় হাঁটছে না।

কিন্তু মোহন-কর্তাদের অপেশাদারিত্ব এ ক্ষেত্রে ফের এক বার প্রকট হল। যেমন হল আরও একটি ক্ষেত্রে। যেখানে হয়তো জরিমানাও হতে পারে তাদের। এ দিনের গোটা সাংবাদিক সম্মেলনটি হল গত বারের ফেডারেশন কাপের সময় থেকে লাগানো বিলবোর্ডের সামনে। আই লিগের বিল বোর্ড কোথায়, উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে মোহনবাগান মাঠে আসা এআইএফএফ প্রতিনিধির কিন্তু চোখ এড়ায়নি বিষয়টি। এখন দেখার মাঠের বাইরে নতুন কী অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। মাঠের মধ্যে যদিও চনমনে সঞ্জয় সেন ব্রিগেড।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here