পেশাদারিত্বের নিষ্ফলা হিসেবনিকেশে আবেগের আঁকিবুকি সনি-ওয়েডসনের

0
97

সানি চক্রবর্তী:

হিসেব-নিকেশ কষা ট্যাকটিক্যাল ফুটবল, প্রতিপক্ষকে বিপজ্জনক হতে দেখলেই কড়া ট্যাকেল। অসমান মাঠের পাশাপাশি অতিরিক্ত সাবধানী ফুটবল। সব কিছুর নিট ফল আবেগের বিস্ফোরণটা মাঠের বাইরে হলেও কাঞ্জনজঙ্ঘায় দুই প্রধান উপহার দিল ম্যাড়ম্যাড়ে ফুটবল। তবে আবেগের খাতায় কিন্তু নাম তুলে গেলেন দুই প্রধানের সেরা দুই তুরুপের তাস। সনি চোট নিয়েও খেলে গেলেন, আর সমর্থকদের জন্য তার হৃদয় যে কাঁদে বুঝিয়ে দিলেন ওয়েডসন।

ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান দুই শিবিরই নজর দিয়েছে আই লিগের ট্রফিটায়। তাই অতি আক্রমণত্মক খেলতে গিয়ে হেরে যেতে চায়নি কোনো পক্ষই। একটা দু’টো ক্ষেত্র বাদ দিলে তো দেবজিত-রেহানেশদের বলই ধরতে হয়নি। এতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, শিলিগুড়ির উৎসবের মেজাজ সঞ্জয়-মরগ্যানের গেমপ্ল্যানে পড়েনি। ড্র করে তাই কোনো কোচই হতাশ নন। কারণ, ২ পয়েন্ট করে হারালেও ইস্টবেঙ্গল ৮ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে রইল শীর্ষেই। আর মোহনবাগান ৭ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে। লিগে এখনও অনেক ম্যাচ বাকি দুই প্রধানেরই, তাই এ রকম খেলা হতেই পারে বলে মনে করছেন বহু ডার্বির নায়ক বাইচুং। বলছিলেন, “ডার্বি সব সময় একটা স্নায়ুর লড়াই। লিগের প্রথম দিকের ম্যাচ। তাই এ রকমটা হতেই পারে। দুই দলই সাবধানী ফুটবল খেলেছে, তাই ফলাফল সেই অনুযায়ীই হয়েছে।”

এ বারের আই লিগে বেঙ্গালুরুর পদসঙ্খলন মাথায় রাখলে বলতে হয়, এই মুহূর্তে লিগ জয়ের দাবিদার হিসেবে দৌড়ে রয়েছে কলকাতার দুই প্রধান। বারাসাত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের পর থেকেই মানসিক ভাবে ধাক্কা খেয়েছিলেন সুনীল-বিনীতরা। সেই ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি অ্যালবার্ট রোকার দল। লিগে ৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট খুইয়েছে তারা। তাই মরগ্যান-সঞ্জয় দু’জনেই সাবধানী ছিলেন। তবে সঞ্জয়কে আরও সাবধানী করে তুলেছিল মাঠের বাইরের ঘটনা। গত বারের শিলিগুড়ি ডার্বির মতোই ম্যাচের আগে চোটের সমস্যার কথা জানান সনি নর্ডি। হাঁটুর চোট সারিয়ে এএফসি কাপের ম্যাচে ফিরে কড়া চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হয়েছিল সনিকে। এ দিন ম্যাচের আগে তিনি কোচকে জানান, পুরোনো চোটের জায়গায় ব্যথা লাগছে। সমর্থকদের কথা ভেবে ও কর্তাদের কথায় শেষ পর্যন্ত মাঠে নামলেও হাইতিয়ানের ম্যাজিক দেখা যায়নি। মাঝে প্রথমার্ধে কিছুটা সপ্রতিভ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে মোটেই সে ভাবে খেলতে পারেননি তিনি। সঞ্জয় তাঁকে বাধ্য হয়েই ৮৫ মিনিটে তুলে নেন। দলের সেরা তারকা নিষ্প্রভ থাকলেও বাগান কোচ কিন্তু তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, “সনি পুরো ফিট ছিল না। তবে ওর মাঠে থাকাটাই প্রতিপক্ষের কাছে চাপ। আক্রমণে সে ভাবে ভালো না খেলতে পারলেও বিপক্ষকেও সে ভাবে বিপজ্জনক হতে দেয়নি সনি। দলের প্রয়োজনে রক্ষণে নেমে এসে খেলেছে ও।” সনি নিজে জানিয়েছেন, মুম্বইগামী দলের সঙ্গে গেলেও ১৫ তারিখের অ্যাওয়ে ম্যাচে খেলবেন কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত নন। ম্যাচসেরা রেহানেশ যদিও জানিয়েছেন সনির কর্নার থেকে রাখা শট বাঁচানোটাই সেরা শেভ।

চারটে ডার্বি খেলা হয়ে গেলেও এখনও ডার্বিতে কোনো গোল করতে পারলেন না সনি। বলা ভালো সে ভাবে ছাপও ফেলতে পারেননি বড়ো ম্যাচে। অপর দিকে, সনির বন্ধু ওয়েডসন কিন্তু প্রথম ডার্বিতেই ছাপ রাখলেন। মাঝমাঠে দাপিয়ে খেললেন। সনির সঙ্গে ডুয়েলে তাঁকে টপকে যাওয়াটা মনে রাখবেন ফুটবল সমর্থকরা। খেলার শেষে ওয়েডসন বলে গেলেন, “জিততে না পেরে হতাশ লাগচে। এটা বড়ো ম্যাচ ছিল। আমরা চেষ্টা করব পরের ম্যাচে জিতে শীর্ষস্থানটা ধরে রাখতে।” মাঠ-ছাড়ার আগে হতাশ হাইতিয়ান যদিও হোটেলে ফিরে মানবিক। দুই লাল-হলুদ সমর্থকের বাইক অ্যাক্সিডেন্টে মৃত্যুর খবর নাড়া দিয়েছে তাঁকেও। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করলেন ওয়েডসন।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here