‘অপহরণকারী’ মাসির হাত থেকে মায়ের কাছে ফিরল ছোট্ট পিয়ালি

0
109

জলপাইগুড়ি : একরত্তি মেয়েকে ফিরে পেয়ে খুশি হবেন, না দুঃখে কাঁদবেন, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না সুমিতাদেবী। কোলে তখন তাঁর ‘অপহরণ’ হয়ে যাওয়া ১ বছর ১ মাসের শিশুকন্যা। সামনে দাঁড়িয়ে ‘অপহরণকারী’ তাঁর নিজের দিদি চৈতি।

বছর ২৫-এর সুমিতা রায়। বাড়ি জলপাইগুড়ির ক্রান্তিতে। স্বামী চন্দন রায় পেশায় কৃষক। গত নভেম্বর মাসে বোনের বাড়িতে আসেন দিদি চৈতি রায়। চৈতি তাঁর দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে দিল্লিতে থাকেন। সেখানে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজও করেন। অনেক দিন পর দিদি বাড়িতে ঘুরতে আসায় বেজায় খুশি হয়েছিলেন সুমিতা। যতটা সম্ভব আদর-আপ্যায়ণ করেছিলেন দিদিকে।

তাঁর কষ্ট-কল্পনাতেও আসেনি যে, আপন দিদিই তাঁকে সব চেয়ে বেশি আঘাত করবে।

বিজ্ঞাপন

১৫ ডিসেম্বর, দিনটা ছিল বৃহস্পতিবার। একমাত্র কন্যা পিয়ালিকে নিয়ে স্থানীয় একটি ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন সুমিতা, টাকা তুলতে। সঙ্গে ছিলেন দিদি চৈতিও। নোটবন্দির জন্য ভিড় থাকায় দিদির কোলে সন্তানকে দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ঘন্টা দু’য়েক পর ফিরে এসে দেখেন দিদি উধাও। নেই একমাত্র মেয়েও। তখনও তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ঘটনাটা কী ঘটে গেল।

সে দিন রাতেই ক্রান্তি ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তড়িঘড়ি তদন্তে নামে পুলিশ। কিন্তু প্রথমেই হোঁচট খায় পুলিশ। কারণ, চৈতিদেবীর দেওয়া দিল্লির ঠিকানা ভুয়ো। সুইচ অফ মোবাইলের। এর পরে স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হন জেলার পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি। দুই পুলিশ আধিকারিককে দিল্লি পাঠিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে চৈতি রায়ের সন্ধান পায়। গত ১৩ জানুয়ারি দিল্লির সুলতানপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় চৈতিকে। তাঁর কাছ থেকেই উদ্ধার হয় হারানো পিয়ালি। মঙ্গলবার তাঁদের নিয়ে আসা হয় জলপাইগুড়িতে। সেখানেই প্রথমে জেলা শিশু সুরক্ষা সমিতির হাতে তুলে দেওয়া হয় শিশুটিকে। তার পর মায়ের কাছে সন্তানকে ফিরিয়ে দেয় শিশু সুরক্ষা সমিতি।

এ দিকে জেরার মুখে মাসি চৈতি রায় জানিয়েছে, তাঁর সন্তান নেই, সেই কারণে বোনের সন্তানকে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। লালনপালন করার জন্য। যদিও এই স্বীকারোক্তিতে সন্তুষ্ট নয় পুলিশ। যে হারে মোটা টাকার বিনিময়ে শিশু পাচারচক্রের ঘটনা সামনে আসছে, তাতে উদ্বিগ্ন সব মহল। তাই এই ঘটনায় সে রকম কিছু রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে চান পুলিশ সুপার। সেই কারণে ধৃত মাসিকে আদালতে তুলে, নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে পুলিশ সুপার ও উদ্ধারকারী দলকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি সন্তান হারানো মা। ঈশ্বর যেন তাঁদের মঙ্গল করেন, হাত জোড় করে সেই প্রার্থনা জানিয়েছেন তিনি। হারানো একরত্তি মেয়েকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বারবার দিদির দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলেন সুমিতা দেবী। ঘটনাটা বোধ হয় এখনও বিশ্বাস হচ্ছিল না তাঁর। মায়ের পেটের দিদি কি এমনটা করতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর যিনি দিতে পারেন, তিনি তখন পুলিশের জিম্মায়, আদালতের পথে ‘অপহরণকারী’ মাসি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here