জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু যুবকের

0
41
jalpaiguri super speciality hospital

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হল যুবকের। এই ঘটনা ঝাঁ চকচকে দশতলা হাসপাতালের নিরাপত্তার ফাঁকফোকর আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। সেই সঙ্গে উঠছে আরও একাধিক প্রশ্ন।

জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে ওই যুবককে কোতোয়ালি থানার পুলিশ নিয়ে এসে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি ভর্তি করে। তখন সে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিল। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে আজ দুপুরে খবর আসে রংধামালির লোটা দেবীর মন্দিরে এক যুবক মানুষকে উত্যক্ত করছে। একজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত করারও অভিযোগ উঠেছে যুবকের বিরুদ্ধে। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দেয় কোতোয়ালি থানায়। পুলিশ গিয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে পায়। পুলিশের সন্দেহ, নেশাগ্রস্ত ওই যুবকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে মারধর করে স্থানীয়রা। যদিও তা কেউ স্বীকার করেনি। এর পর পুলিশ তাকে নিয়ে আসে হাসপাতালে। তাকে সার্জিকাল ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ চিকিৎসা করার পর বিকেলে জ্ঞান ফেরে যুবকের। ওই ওয়ার্ডে থাকা অন্য রোগীরা জানিয়েছেন, জ্ঞান ফেরার পরই ওই যুবক অসংলগ্ন আচরণ করতে শুরু করে। নিজেই স্যালাইনের নল খুলে ফেলে হাত থেকে। এর পর কিছুক্ষণ ওয়ার্ডের মধ্যেই দাপাদাপি করে জানালার গ্রিল ভেঙে নীচে ঝাঁপ দেয়। তখন ওয়ার্ডবয় এবং নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে আসেন। তাকে তুলে ওয়ার্ডে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসক জানিয়ে দেন যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

ওয়ার্ডের অন্য রোগীরা চোখের সামনে এই ঘটনা দেখার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

the window with broaken grill
সেই গ্রিল ভাঙা জানলা।

ঘটনার পর অনেক প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়াই করে থাকেন হাসপাতালের কর্তারা। এই নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়েই সাংবাদিকদেরও খবর সংগ্রহে হাসপাতালের ভেতর ঢুকতে দেওয়া হয় না। এ দিনও যখন যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে সংবাদমাধ্যম সেখানে যায় তখন ঘটনা চাপা দিতে দুর্ব্যবহার করেন হাসপাতালের কর্মীরা। অথচ এত জন নিরাপত্তারক্ষী এবং ওয়ার্ডবয়দের চোখ এড়িয়ে যুবক কী ভাবে পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিলেন? এক জনের পক্ষে এক টানে জানালার গ্রিল কী ভাবে উপড়ে ফেলা সম্ভব? ঝাঁ চকচকে দশতলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের গ্রিলগুলি কি এতটাই পলকা? সেই সময় নিরাপত্তারক্ষীরা কোথায় ছিলেন?

এ সব প্রশ্নের সদুত্তর কিন্তু মেলেনি। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার ডাঃ  সুশান্ত রায় জানিয়েছেন, গ্রিলের বিষয়টা হাসপাতাল তৈরির দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন তাঁরা বলতে পারবেন। তবে হাসপাতালের কর্মীদের গাফিলতি ছিল না বলেই তাঁর দাবি। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসাধীন একজন রোগী এ রকম করবেন তা তো কর্মীরা বুঝতে পারেননি। যদিও ওয়ার্ডে থাকা রোগী এবং আত্মীয়রা কিন্তু অন্য কথা বলছেন। এক রোগীর আত্মীয়া টুম্পা দত্ত জানিয়েছেন, যখন স্যালাইনের নল খুলে ফেলে ওই যুবক তখন ওয়ার্ডবয়রা দেখলেও মাথা ঘামায়নি। তার পরেই এই ঘটনা।

ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ আসে। তারা যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। প্রশ্ন উঠছে, যুবক কি নেশাগ্রস্ত ছিলেন নাকি মানসিক ভারসাম্যহীন? না হলে এ রকম ঘটনা ঘটাবেন কেন? এত উঁচু থেকে পড়লেও যুবকের তেমন রক্তপাত হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ইন্টারনাল হেমারেজের কারণেই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে সে সম্পর্কে সঠিক জানতে সোমবার দেহের  ময়নাতদন্ত করা হবে।

তবে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের করুণ পরিণতি যে প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল, সাধারণ মানুষ চাইছেন তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সে ব্যাপারে কতটা উদ্যোগী হন তা সময় বলবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here