মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য, দালালচক্র সক্রিয় জলপাইগুড়ি হাসপাতালে

0
80

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি হাসপাতাল থেকে সব রকম দালালচক্র উৎখাত করতে সক্রিয়। এই লক্ষ্যে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে সমস্ত পরিষেবা ‘ফ্রি’ করে দেওয়া হয়েছে। তাতেও যে দালালচক্রের রমরমা কমেনি, তা আরও এক বার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল। 

হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে রোগীদের কাছে বিলি করা হচ্ছে বেসরকারি ল্যাবরেটরির লিফলেট। সেই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে ওই নির্দিষ্ট ল্যাবরেটরিতে গিয়েই পরীক্ষানিরীক্ষা করানোর। 

সোমবার ৫ বছরের পুত্রসন্তানকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন ধুপগুড়ির প্রমিতা রায়। প্রথমে একজন শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখানোর পর তাঁকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে এক চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। বহির্বিভাগ থেকে শিশুটির আল্ট্রা সোনোগ্রাফির নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তাঁকে জানানো হয় যে হাসপাতালে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে না। প্রমিতা দেবীর অভিযোগ,

quate_f-1ওই ঘরে চিকিৎসকের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তি একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরির লিফলেট প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে জুড়ে দেন। সেই সঙ্গে তাঁরা আমায় পরিষ্কার জানান যে ৭০০ টাকা দিয়ে ওই ল্যাবরেটরি থেকেই ওই পরীক্ষা করাতে হবে।

স্বামী পরিত্যক্তা ওই অভাবী মহিলা এর পর দিশেহারা হয়ে পড়েন। কয়েক জন শুভানুধ্যায়ীর পরামর্শে তিনি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে গিয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। দৃশ্যতই স্তম্ভিত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার তৎক্ষণাৎ লিখিত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন প্রমিতা দেবীকে। যদিও বহির্বিভাগের ওই ঘরে থাকা চিকিৎসক সুরজিৎ পাল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি ওই ধরনের কোনো লিফলেট বা নির্দেশ দেননি, এমনকি কে দিয়েছে তা-ও নাকি তাঁর জানা নেই। যদিও প্রশ্ন থেকে যায়, তিনি যদি ওই নির্দেশ নাও দিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁর পাশে বসা ব্যাক্তি কে এবং কার নির্দেশে তিনি এই ঘটনা ঘটালেন?

তবে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযোগই তদন্ত করে দেখা হবে এবং কোনো ভাবেই এই দালালচক্র বরদাস্ত করা হবে না।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here