উত্তরবঙ্গ জুড়ে বাঘের খোঁজ বাড়ানোর দাবি পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির

0
112

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ‘কাগুজে’ বাঘ এখন আর কাগজে আটকে নেই, চাক্ষুষ হয়েছে। ধরা দিয়েছে ক্যামেরায়। একবার নয়,নেওড়ার জঙ্গলে তিন-তিনবার বাঘের দেখা পাওয়ায় খুশি পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, শুধু নেওড়াভ্যালি নয়, উত্তরবঙ্গের সমস্ত বনাঞ্চলগুলিতে এবার আরও জোরদার সমীক্ষা করুক বন দফতর। এতে কোন জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা কত তা জানা যাবে।

বনবিভাগ বরাবর দাবি করে আসছে যে উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলগুলিতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। বিভিন্ন সময় শুমারিতে তার প্রমাণও মিলেছে। ১৯৯৮ ও ২০০৯ সালে নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে গণনায় ১৬ থেকে ১৮টি বাঘের অস্তিত্ব দাবি করেছিল বন দফতর। ২০১৫ সালে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের গণনাতেও বাঘ আছে বলে দাবি জানিয়েছিল বনবিভাগ। সাধারণত পায়ের ছাপ বা পাগমার্ক, বিষ্ঠা ইত্যাদি দেখেই গণনায় অনুমান করা হয় বাঘের সংখ্যা। তবে শুমারিতে দাবি করা হলেও উত্তরের কোনো বনাঞ্চলেই বাঘ চাক্ষুষ হয়নি এপর্যন্ত। তাই অনেকেই একে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দেন। আদৌ এইসব জঙ্গলে বাঘের অস্তিত্ব রয়েছে কিনা তা নিয়ে অনেক প্রশ্নও তুলেছেন বিভিন্ন পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। তবে নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানে ১ মাসে তিন-তিনবার বাঘের দেখা পাওয়ায় এখন আর সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই । পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির দাবি এবার আরও উদ্যোগী হোক বন দফতর। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজ রাউত জানিয়েছেন, নেওড়াভ্যালি ছাড়াও উত্তরের অন্যান্য জঙ্গলেও সমীক্ষা করুক বন দফতর, যাতে বাঘের ঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়। দার্জিলিং-এর সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান, মহানন্দা অভয়ারণ্য, জলপাইগুড়ির গরুমারা জাতীয় উদ্যান, আলিপুরদুয়ারের চাপড়ামাড়ি অভয়ারণ্য,জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে বাঘ থাকার দাবি দীর্ঘদিনের। পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির দাবি এইসব বনাঞ্চলে ‘ট্র্যাপ ক্যামেরা’ বসানো হোক, যাতে বাঘের ছবি সংগ্রহ করা যায়।

royal-840x480

এ বিষয়ে রাজ্যের বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ জানিয়েছেন,এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলগুলিতে ৮০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। ধীরে ধীরে তার সংখ্যা বাড়ানো হবে। বন্যপ্রাণ বিভাগের উত্তর মণ্ডলের বনপাল সুমিতা ঘটক জানিয়েছেন, ট্র‍্যাপ ক্যামেরার পাশাপাশি তারা বনাঞ্চলগুলিতে নজরদারিও বাড়িয়েছেন। তবে বনমন্ত্রীর দাবি, বাঘ সাধারণত মানুষ ও অন্যান্য পশুর থেকে দূরে, নিরিবিলি গহীন অরণ্যে থাকতে পছন্দ করে। তাই তার চাক্ষুষ দেখা পাওয়া দুর্লভ ব্যাপার। তবে সংখ্যা যাই হোক না কেন, উত্তরের বাঘ যে আর ‘কাগুজে’ নয় এই সারসত্য এবার প্রমাণিত। 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here