বাংলায় প্রথম আপেল চাষ শুরু হল বাঁকুড়ার তিনটে ব্লকে

0
577
apple cultivation in bankura
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

“বাঁকুড়ার মাটিকে পেন্নাম করি দিনে দুপুরে।” পুণ্যভূমি বাঁকুড়া আর বাঁকুড়ার মাটি। এক সময় পিছিয়ে পড়া বাঁকুড়া আজ শস্যশ্যামলা। রুখা শুখা মাটিতেই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন আপেল চাষ।

বাঁকুড়ার বিভিন্ন অংশে উৎপাদিত মল্লিকা, আম্রপালি, আলফানসো প্রজাতির আম দেশের খাদ্যরসিক মানুষের মন জয় করেছে। সেই আম চাষে অভাবনীয় সাফল্য দেখে উৎসাহিত জেলা প্রশাসন অনাবাদী সরকারি খাস জমিতে আপেল চাষের উদ্যোগ নিল। সিমলাপাল ও ওন্দা ব্লকে সরকারি খাস জমিতে আপেল চাষ শুরু হয়েছে। একশো দিনের কাজ প্রকল্পে লাগানো গাছের পরিচর্যার কাজ চলছে। পরবর্তী সময়ে উৎপাদন শুরু হলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে এই কাজে যুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বাঁকুড়ায় মূলত সবুজ আপেল চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ এবং পড়শি বাংলাদেশে সবুজ আপেলের চাষ হয়। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখেছেন ওই সব এলাকার আবহাওয়া-জলবায়ুর সঙ্গে বাঁকুড়ার জলবায়ুর কিছুটা হলেও মিল রয়েছে। সেই কারণে এখানেও সবুজ আপেলের চাষ সম্ভব। রাজ্য সরকারের সদর দফতর নবান্নে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে প্রস্তাব পাঠানো হলে সেখান থেকে সহজেই সবুজ সংকেত মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্রের খবর, আপেল চাষের ব্যাপারে নবান্নের ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার পর বাঁকুড়া জেলার সিমলাপাল, ওন্দা ও রানিবাঁধ থেকে পাঁচ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল উত্তর প্রদেশের মেরঠে যায়। সেখানে থেকে তারা আপেল চাষের পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কৃষিশ্রমিক সিমলাপালের বামুনপাথরি গ্রামের বাসিন্দা সাহেব হাঁসদা বলেন, “সরকারি উদ্যোগে এখানে ৪৯৪টি আপেল গাছ লাগানো হয়েছে। একশো দিনের কাজ প্রকল্পে আমরা সেই গাছ পরিচর্যা ও দেখাশোনার কাজ করছি। আশা করছি এক বছরের মধ্যেই এই গাছে ফলন শুরু হবে।”

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here