‘মধু’মাসে মারমুখী মৌমাছিরা! মরল গরু-ছাগল, হাসপাতালে একাধিক

0
1617
bee attack1
Samir mahat
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম: মধু খেয়ে পালাচ্ছে মধু শিকারি বাজপাখি, হুলে আক্রান্ত নিরীহ গ্রামবাসীরা এমনকি প্রাণ যাচ্ছে অবলা গরু -ছাগলের। এই পরিস্থিতি নতুন নয়, চিরাচরিত। প্রতি বছর এই সময় জঙ্গলমহলের বিভিন্ন প্রান্তে ‘বাঘ’ মৌমাছির আক্রমণে আক্রান্ত হয় গ্রামবাসীরা।

গত শনিবার ঝাড়গ্রামের ভেঁটলিগ্রামে কম-বেশি ১১ জন গ্রামবাসী এই মৌমাছি আক্রমণের মুখে পড়েছে। একটি গরু ও একটি ছাগল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। কী ভাবে ঘটল এই ঘটনা! কে ঠিল ছুঁড়ল মৌচাকে!

আক্রান্তদের কথায়, এই বসন্তকালে বা মধুমাসে আমের মুকুল ও সজনে ফুলের মধু পেতে আগাম বিভিন্ন গ্রামের বড়ো গাছের ডালে চাক বসে বাঘ মৌমাছিদের। অধিকাংশ চাকেই মধু থাকে। এক ধরনের বাজপাখি আছে তারা আবার মধু শিকারি। তাদের মধু শিকারের কৌশল অদ্ভুত চালাকির। ডানায় কাঁটা আছে । মধু ভর্তি চাকের সামনে গিয়ে ডানার ঝাপটায় মাছি সরিয়ে চটজলদি মধু খেয়ে উড়ে পালায়। মানুষ,ছাগল-গরু অন্যান্যদের পাশ ঘেঁষে পালানোর উপায় বেছে নেয়। পিছনের ধাওয়া করা মৌমাছিরা তাকে না পেয়ে এদের উপর আক্রমণ করে। ভেঁটলি গ্রামের ক্ষেত্রেও ঘটেছে তাই। বেলা ১১ টা নাগাদ, সবাই কর্মব্যস্ত ছিলেন। ঝাঁক মৌমাছিরা প্রথমে উঠোনের সামনে একটি গাই গরু, একটি ছাগলকে বিঁধে মেরে ফেলে। তার পর সুষমা মাহাত ও প্রভাতি মাহাত দুই নাবালিককে আক্রমণ করে মৌমাছির দল। মা বিমলা শিশু অনুপকে কোলে নিয়েই আক্রান্তদের বাঁচাতে গেলে সবাই আক্রমণের স্বীকার হয়। আক্রান্তদের বেশির ভাগ হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এক গ্রামবাসী এখনও ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে সুত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, জঙ্গলমহলে এই ধরনের মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের কাজে পটু ছিল আদিজনজাতির একাংশ। কাঁচা বেগনা পাতা ও খড়ের মিশ্রিত ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে মৌচাক ভাঙত। গ্রামবাসীদের সতর্ক করেই এই কাজ তারা করত। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় ধোঁয়াতে আগুন ধরে কিছু মাছি মারা যেত। গ্রামবাসীরাই এই পদ্ধতি বন্ধ করে দেয়। অদ্ভুত ভাবে সজাদ হয়ে যায় এই মৌমাছিরা। মানুষের নাগালের বাইরে বড়ো গাছ বা জলের ট্যাঙ্কে দলবদ্ধ ভাবে চাক বাঁধতে শুরু করে।

bee attack3

ঝাড়গ্রামের সর্ডিহা রেল স্টেশনের ঢোকার মুখে বড় শিমুল গাছে এ ভাবেই বছরভর চাক বেঁধেছে মৌমাছিদের দল। এই চত্ত্বরে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গিয়েছে। এক অভিজ্ঞ প্রবীণ গ্রামবাসীর কথায়, “স্থানীয় ভাবে ওই পাখিকে আমরা শিঁকরা নামে চিনি, পায়রার চাইতে একটু বড়ো। ছাই রঙের দেখতে। ডানায় কাঁটা আছে। ডানার ঝাপটেই ছোঁ মেরে মুরগির বাচ্চা মেরে ফেলত পারে। এই এলাকায় বহু বছর ধরে শিঁকরার এই মধু চুরির জন্য বাঘ মৌমাছিরা অন্যদের আক্রান্ত করেছে। সে কারণেই গ্রামে এই সেয়ানা পাখি ঢুকলেই মুরগিরা ডেকে জানান দেয়। মৌমাছির হুলের বিঁধুনির থেকে রেহাইয়ের জন্য এই পাখি গ্রামে ঢুকলেই তাড়িয়ে দেওয়া হয়, তবুও চোরের মতো এসে বিপত্তি ঘটায়।”

স্থানীয় সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ বিমল মাহাত রসিকতার সঙ্গে বলেন, “এ না হয় প্রকৃতির নিয়মের ফলে, মানুষ ও অন্যরা আক্রান্ত, আমাদের বাস্তব জীবনে ও একই হাল, মধু খাবে মধু চোরেরা,হুল ফুটছে নিরীহদের গায়ে।”

ছবি: প্রতিবেদক

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here