ভাঙড় পাওয়ার গ্রিড: জমি আন্দোলনকারীদের এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিলেন রেজ্জাক

0
677
Bhangar
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়ে তৃণমূলের সভা মঞ্চ থেকে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটিকে আলোচনায় বসার জন্য এক মাসের চুড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক আবদুর রেজ্জাক মোল্লা।
জেলার তৃণমূলের প্রথম সারির প্রায় সমস্ত নেতৃত্বকে পাশে নিয়ে রেজ্জাকসাহেব বলেন, ‘ জানুয়ারি মাসের শেষ দিন  পর্যন্ত এক মাস সময় দিলাম আন্দোলনকারীদের। পাওয়ার গ্রিড চালু হবে এই আলোচনার শর্তে, আপনাদের সঙ্গে কথা বলবো, ঠিক করুন কোন দিন আলোচনায় বসবেন। মাছিভাঙাতে আমি সাইকেল করে একাই যাব।’
এমন বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে তিনি রীতি মতো আন্দোলনকারীদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে । আজ বিকালে পাওয়ার গ্রিডের অদূরে নতুনহাট বাজার এলাকার একটি মাঠে  একটি জনসভার আয়োজন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। রেজ্জাকসাহেব ছাড়াও ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন আরাবুল ইসলাম, নান্নু হোসেন, কাইজার আহমেদ, জেলা পরিষদের পূর্ত আধিকারিক আবু তাহের সরদার, অহিদুল ইসলাম, আব্দুর রহিম মোল্লা প্রমুখ ।
এ দিন মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লা জমি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প কেন্দ্রের প্রজেক্ট, রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রের কাছে হিসাব দিতে হবে । বাধা দিচ্ছেন কেন? আর চারটে খুঁটি পড়লেই পাওয়ার গ্রিড সম্পূর্ণ হবে। যাঁরা বাধা দিচ্ছেন কোন যুক্তিতে লড়াই করছেন । আলোচনার প্রথম শর্ত পাওয়ার গ্রিড বন্ধ করা যাবে না ।  সিপিএম মানুষকে কীভাবে ভুল বোঝায় তা সবাই জানে। এটা  কেন্দ্রীয় প্রজেক্ট তাই বিজেপি আসছে না এখানে । ২০১২ সাল থেকে পাওয়ার গ্রিড হচ্ছে ,তখন বাধা হয়নি কেন? ২০১৬ সালে ঘুম ভাঙল? ৯৭ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে পাওয়ার গ্রিডের।’
এ দিন আরাবুল ইসলাম বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ করে বলছি পাওয়ার গ্রিড হবে ,পাওয়ার গ্রিড আটকানোর জায়গা নেই । বিভিন্ন জায়গায় গুলি, বোমা দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে, এটা করতে দেব না ।পাওয়ার গ্রিড চালু করতে চাই।’
মঞ্চ থেকে আব্দুর রহিম মোল্লা জমির পরিমাণ সমেত জমিদাতাদের তালিকা প্রকাশ করেন। এই তালিকায় উত্তর গাজিপুরের জমি আন্দোলনকারী কালু শেখ নিজে যে চার বিঘা জমি দিয়েছেন পাওয়ার গ্রিডে তা প্রকাশ পায়। কাইজার আহমেদ ও নান্নু হোসেনরা বলেন, সিপিএম মদত দিচ্ছে ভাঙড়ের দু’টি বুথে, চক্রান্ত চলছে। এদিন সভা উপলক্ষে পাওয়ার গ্রিড এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়ন ছিল। বারুইপুর পুলিশ সুপার অরিজিত সিনহা নিজে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিটি গ্রামে পুলিশ মোতা্যেন ছিল। পুলিশের মতে, সভায় সাত-আট হাজার মানুষের সমাগম হয় ।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here