দুনিয়ার দক্ষিণ প্রান্তে বরফের সঙ্গে ৯ দিন

0
143

কলকাতা:  ২০১৫ সালের নভেম্বর মাস। জয়ন্ত রায়চৌধুরী এবং নমিতা রায়চৌধুরী, ভ্রমণপিপাসু এই দম্পতি বেরিয়ে পড়লেন অ্যান্টার্কটিকা অভিযানে।  ৯ দিনের অভিযান। সে সময় অ্যান্টার্কটিকার তাপমাত্রা -৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রওনা হলেন জাহাজে করে। উত্তাল মহাসাগর। যেই মহাসাগরের ঢেউ  জাহাজের ৬-৭ তলা পর্যন্তও উঠে আসে। জাহাজে ভাসতে ভাসতে হঠাৎই নমিতা দেবীর চোখে পড়ে বিশাল বড় সাদা একটা কিছু দূর থেকে ভেসে আসছে। কাছে আসতেই তিনি তো এক্কেবারে অবাক! জাহাজের ক্যাপ্টেন বললেন, এগুলিকে বলে আইসবার্গ। যার ৯% থাকে সমুদ্রের তলায়। আর বাকি ১% ভেসে থাকে। যেটি দৃশ্যমান। আর এই আইসবার্গসগুলির জন্য নাকি তাদের জাহাজকে দিক পরিবর্তন করতেও হয়েছে। কিছুদূর যেতেই দেখলেন সাদা চাদরের মতো বিস্তৃত বরফের উপর কালো পিঁপড়ের মতো কিছু আটকে রয়েছে। কাছে যেতে বুঝলেন সেগুলি পিঁপড়ে নয় পেঙ্গুইন। পেঙ্গুইন কলোনি সেটি। যেখানে ১০০০ রকমের পেঙ্গুইনের দেখা মেলা সম্ভব।

এমনই সব অভিজ্ঞতা নিয়ে রায়চৌধুরী দম্পতি লিখে ফেলেছেন গোটা একটা বই, ‘অ্যান্টার্কটিকা, অ্যান এক্সপিডিশন, দ্যাট এক্সিডস অল এক্সপেক্টেশনস’।

 আমাদের সকলেরই জানা দক্ষিণ মেরুতে ৬ মাস দিন থাকে আর ৬ মাস রাত। লেখকেরা যে সময়ে গিয়েছিলেন, সে সময় সেখানে হাজির ছিল দিন । বিকেল হলেই সূর্য পাহাড়ের এক কোণে লুকিয়ে পড়ত। তবে দিনের আলো থাকত পর্যাপ্ত। বরফের চাদরেই শোয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু সেই বরফ যে বড্ড পিচ্ছিল। কিছু রাখলেই গড়িয়ে সোজা সমুদ্রের জলে। কার্যত গাইডের কথামতো বরফ ভেঙ্গে খানিক গর্ত করে স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে ঢুকে পড়লেন তারা। সেখানে নাকি বেশি কথা বলা বারন। তাই চুপিসারেই সেইদিনটা কাটল তাদের। পরেরদিন সকালে উঠে যোগা করে নতুন দিন শুরু। শুরু নতুন অভিজ্ঞতার আস্বাদন ।

এমনই নানা চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে রয়েছে বইটি জুড়ে। শনিবার বইটি প্রকাশ করে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক জানালেন, ছোটবেলা থেকেই গল্পের বই পড়তে ভালোবাসেন তিনি। আর তা যদি ভ্রমণ কেন্দ্রিক হয় তাহলে তো আর কথাই নেই। তবে এই বইটি তাঁর কাছে খুব স্পেশাল। কারণ এটি তাঁর পিসি এবং পিসেমশায়-এর লেখা।

যৌথ প্রয়াসে বইটি লিখতে সময় লেগেছে প্রায় ১ বছর।

বইটির প্রকাশক এনভায়রন পাবলিকেশনস প্রাউভেট লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here