ভালোবাসার টানে আবার বইমেলায় কোস্তা রিকান দম্পতি

0
110

natuyaসুচন্দন নাটুয়া:

সুদূর কোস্তা রিকার রাজধানী শহর সান খোসে থেকে শুধুমাত্র ভালোবাসার টানে বইমেলায় হাজির হয়েছেন খাবিয়ের দে লা তেখা ও এলিজাবেথ দিয়াজ।

মধ্যবয়সি এই কোস্তা রিকান দম্পতির এই নিয়ে দ্বিতীয় বার কলকাতায় আসা। তবে এ বছর উচ্ছ্বাস তাঁদের অনেক বেশি, কারণ তাঁদের মাতৃভূমি কোস্তা রিকাই এ বার কলকাতা বইমেলার অতিথি দেশ।

কোস্তা রিকা থিম প্যাভিলিয়নে বসে তাই নিজের দেশের কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন তাঁরা। এলিজাবেথের কথায়, “প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর, বন্যপ্রাণ ও বৈচিত্র্যে ভরা আমার দেশ কোস্তা রিকা, মধ্য আমেরিকায় ৪ মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি ছোট্টো দেশ ৪১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় অতিথি দেশ হিসাবে স্থান পেয়েছে। আমি অত্যন্ত গর্বিত।”

এলিজাবেথের স্বামী খাবিয়ের দে লা তেখা পেশায় আর্কিটেক্ট, বর্তমানে ‘এদুকাতোদো কোস্তা রিকা’ নামক শিক্ষামূলক খেলনা, বইপত্র ও দ্রব্যাদির এক বিপণন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। তেখা বললেন, “কলকাতা মানে আনন্দের শহর, সংস্কৃতির পীঠস্থান। এখানে রয়েছে আধ্যাত্মিকতা আর শান্তি। অন্যকে সহজে আপন করে নিতে পারেন এখানকার মানুষজন। নিজের দেশ কোস্তা রিকার সঙ্গে এই শহরের অনেক মিল খুঁজে পাই।”

আর বাঙালি খাবারের কথা বললে তো মুহূর্তে জিভে জল এসে যায় – এমনটাই অকপটে স্বীকার করলেন তেখাদম্পতি। বললেন, মাছ আর মিষ্টি তাঁদের অত্যন্ত প্রিয়। তবে তার চাইতে বেশি প্রিয় এখানকার অতিথিবৎসল মানুষজন। কলকাতাবাসীর আতিথেয়তায় তাঁরা মুগ্ধ।

গত বছর ১৫ দিনের মতো সময় নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন তেখাদম্পতি। সঙ্গে ছিলেন ১৯ বছরের কন্যা অ্যাঞ্জেলা। তবে পড়াশোনার জন্য এ বার সে আসতে পারেনি। প্রিয় বইমেলা সে ভীষণ মিস করছে, জানালেন তাঁরা। চেনা শহর, চেনা বইমেলা। এক বছরের তফাতে এতটুকুও বদলায়নি। বরং ভিড়ে ঠাসা, উচ্ছ্বাস আর উন্মাদনা এবং এখানকার মানুষজন তাঁদের কাছে আরও আপন হয়ে উঠেছে।

গত বছর ঘুরে দেখেছেন শহর কলকাতা। দেখেছেন কলকাতার রাস্তাঘাট, জাদুঘর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, মাদার টেরেজার বাড়ি, নবসাজে সজ্জিত গঙ্গার তীর। সে বার রাজধানী দিল্লি শহর আর আগ্রার তাজমহল দেখারও সৌভাগ্য হয়েছিল তাঁদের। তবে এ বছর হয়তো অতটা ঘোরা সম্ভব হবে না। কারণ মাত্র ৭ দিনের ছুটি নিয়ে এসেছেন এ বার। তবে আর এক বার মাদার টেরেজার বাড়ি আর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ঘুরে যেতে চান।

বইমেলা সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তাঁরা বললেন, “এক কথায় অসাধারণ। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি আমরা যেন প্রতি বছর এই মিলনক্ষেত্রে শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সকলের সঙ্গে শামিল হতে পারি।”

ছবি : শৌর্য মেউর 

            

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here