ভাঙড়-কাণ্ডে গ্রেফতার সিপিআই(এমএল) রেডস্টার নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরী

0
141

ভাঙড়:  ভাঙড়ের মাছিডাঙা গ্রাম থেকে গ্রেফতার হলেন সিপিআই (এম এল) রেডস্টার নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরী। ভাঙড়ের সাম্প্রতিক পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনে পুলিশ যে এফআইআর করেছিল, তাতে নাম ছিল শর্মিষ্ঠার। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকার মানুষকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   

মঙ্গলবার তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের নেতৃত্বে শতাধিক তৃণমূলকর্মী ভাঙড়ে ঢোকে। তারপরই অবরুদ্ধ হাড়োয়া রোডের ব্যারিকেডগুলি সরে গিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে এলাকায় ফের পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ ঢুকতে শুরু করে।

বুধবার সকাল থেকে ওই রুটে বাস চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক। ছাত্রছাত্রীরা স্থানীয় স্কুল-কলেজগুলিতে যাতায়াত করতে পারছে্ন। দীর্ঘদিন স্থানীয় হাটগুলি বন্ধ থাকলেও এ দিন থেকে ফের বাজারহাটের দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। 

এ দিন সকাল থেকেই টহলদারি পুলিশ গ্রামে গ্রামে মাইকে প্রচার চালাতে থাকে, বলতে থাকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। স্থানী‌য় মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত না হওয়ার জন্য পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে র‍্যাফও প্রচার চালাচ্ছে।

পুলিশ ও র‍্যাফের তিনটি ক্যাম্প বসেছে পাওয়ার গ্রিডের আশেপাশের এলাকায়। আরাবুল ইসলামের প্রভাবিত এলাকা গাজিপুর ছাড়াও নিরাপত্তারক্ষীদের ক্যাম্প বসানো হয়েছে্ বকডোবা ও শ্যামনগর এলাকায়।

এ দিকে পাওয়ার গ্রিড বাতিলে্র দাবিতে স্থানীয় স্তরে আন্দোলন কী ভাবে চালানো হবে, তা নিয়ে জমি-জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির ভিতর মতভেদ দেখা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, কমিটিতে সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরাই রয়েছেন। কমিটিতে থাকা তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা চাইছেন আন্দোলন তার জঙ্গি চেহারা থেকে সরে আসুক।

তবে মঙ্গলবারই আন্দোলনরতদের পক্ষে থাকা নকশালপন্থী সংগঠন সিপিআই (এমএল) রেডস্টারের পক্ষে প্রদীপ সিংহ চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের একটি চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন তৃণমূলে্র দুই বিতর্কিত নেতা আরাবুল ইসলাম ও সব্যসাচী দত্তে্র বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, এলা্কায় অশান্তি বাঁধানোর চেষ্টা করছেন ওই দুই নেতা। এর জেরে গুন্ডাবাহিনীর হাতে মহিলাদের শ্লীলতাহানির আশঙ্কা রয়েছে। তৃণমূলের ওই দুই নেতা ফের অশান্তি ছড়াতে কলকাঠি নাড়ছেন বলে প্রদীপবাবুর অভিযোগ। তবে ২৮ ঘণ্টা পরেও মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

অন্য দিকে, গুলি চালানোর ঘটনার পরে বহিরাগত গুন্ডাবাহিনীর হামলার ভয়ে গ্রামবাসীদের অনে্কেই রাত কাটিয়েছেন খেতে কিংবা কবরখানায়। গ্রামবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, ভয় এখনও কাটেনি। তবে শীতের রাতে ক’দিন আর খেতেখামারে গা-ঢাকা দিয়ে্ থাকা যায়! আজ খেকে রাতে ঘরেই শোবেন।

ইতিমধ্যে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি কী হতে পারে, সে ব্যাপারে্ জমি-জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির নেতারা এ দিন পরিষ্কার ভাবে কিছু জানাননি। আন্দোলনরতদের কোর কমিটির সদস্য মহাদেব মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা তিনি বলেন, সেটা ঠিক করবেন নেতৃত্ব। আমরা ওঁদের সিদ্ধান্তের জন্যে অপেক্ষা করছি।এর মধ্যেই অবশ্য গ্রেফতার হয়ে গেলেন শর্মিষ্ঠা।  

এ দিন ১৭টি সংগঠনকে নিয়ে গঠিত ভাঙড় আন্দোলন সংহতি কমিটির সভা ছিল কলকাতার ভারতসভা হলে। সংহতি কমিটির তরফে শংকর দাস জানিয়েছেন, ভাঙড়ের আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতায় অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দিনক্ষণ এখনও ঠিক করা হয়নি।

অন্য দিকে, পাওয়ার গ্রিডের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শংকর বলে্ছেন, আন্দোলন জারি আছে। তবে জঙ্গি চেহারা আপাতত নেই। এর অর্থ এই নয় যে, আন্দোলনকারীরা পিছু হঠছেন। আসলে এটাকে আন্দোলনের পর্যায় হিসাবে দেখাটাই ঠিক হবে।     

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here