বিরোধিতা হলেও মোর্চার বন্‌ধে ভালোই সাড়া পাহাড়ে

0
112

আগেকার মতো একেবারে থমকে না গেলেও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ডাকা ১২ ঘন্টার বন্‌ধে  ভালোই সাড়া মিলল পাহাড়ে। বন্‌ধকে ঘিরে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটলেও মোর্চা আর শাসকদলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।

বুধবার সকাল থেকেই বন্‌ধের বেশ ভালো প্রভাব পড়ে পাহাড়ের তিন মহকুমা দার্জিলিং, কার্শিয়াং আর কালিম্পঙে। বন্‌ধকে ঘিরে উত্তেজনারও সৃষ্টি হয়। কার্শিয়াঙে পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় বন্‌ধ সমর্থকরা। পর্যটকদের দুটি ইনোভা গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। অন্যদিকে বন্‌ধ ব্যর্থ করতে মিছিল বের করেন তৃণমূলের সমর্থকরা। বন্‌ধ রুখতে শাসকদলের সদস্যরা যেমন পিকেটিং চালিয়েছেন, তেমনি বন্‌ধ সফল করতে চলে মোর্চার পিকেটিং। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন ছিল আধাসেনাও। অশান্তি সৃষ্টির জন্য ২৫০০ মোর্চা সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়।

এ দিন সকাল থেকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কালিম্পঙে ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব, কার্শিয়াং-এ ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ আর দার্জিলিঙে ছিলেন আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী জেমস কুজুর। বন্‌ধ রুখতে মানুষের কাছে আবেদন জানান তাঁরা। অন্যদিকে বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও সূত্রের খবর, পাহাড়ের বিভিন্ন সরকারি অফিসে এ দিন উপস্থিতির হার ছিল ৯৬ শতাংশ। তবে অশান্তি এড়াতে বন্ধ ছিল স্কুল এবং কলেজ। দার্জিলিঙের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, পাহাড়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের তিনটি মহকুমায় বেশ কিছু দোকানপাট খুলতে শুরু করে। রাস্তায় চলে বাসও।

এ দিকে পুলিশ প্রশাসন ও শাসকদলের আশ্বাস সত্ত্বেও পাহাড়ে যাওয়ার সাহস দেখাননি অধিকাংশ পর্যটক। বুধবার সকাল থেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নামেন বহু পর্যটক।  নির্বিঘ্নে দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং যাওয়ার জন্য এনজেপি স্টেশন-সহ দার্জিলিংগামী রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় সহায়তা কেন্দ্র খোলে তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার সকাল থেকেই স্টেশনে সহায়তা কেন্দ্রে হাজির ছিলেন শিলিগুড়ি পৌরনিগমের বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার-সহ তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী। যে সমস্ত পর্যটক পাহাড়ে যেতে চান, তাঁদের কোনো সমস্যা হবে না বলেই আশ্বস্ত করেন তাঁরা। পাশাপাশি স্টেশনেও পুলিশের তরফে পর্যটকদের আশ্বস্ত করা হয়। নিরাপত্তা দিয়ে পর্যটকদের দার্জিলিং পৌঁছেও দেওয়ার কথা জানায় পুলিশ।

আশ্বাস সত্ত্বেও ভীত অসংখ্য পর্যটক। বুধবার সকালে সপরিবার এনজেপিতে নামেন সঞ্জয় কুমার মিশ্র। দার্জিলিঙে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা তাঁদের। তাঁর কথায়, “পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তা দিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও পরিবার সঙ্গে থাকায় ভয় পাচ্ছি। ভাবছি, আজ শিলিগুড়িতে থাকব। আগামীকাল যাব দার্জিলিঙে।”

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here