পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু, বিক্ষোভ সামাল দিতে নাগরাকাটায় র‍্যাফ

0
81

থানার লকআপে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায়। রবিবার সকালে তাস খেলার সময় নাগরাকাটার শুল্কাপাড়া হাটখোলা থেকে ভীমবাহাদুর ছেত্রী-সহ কয়েক জনকে ধরে নিয়ে যায় নাগরাকাটা থানার পুলিশ। বিকেলে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন ভীমবাহাদুর ছেত্রীকে শুল্কাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে জানা যায় অনেকক্ষণ আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতের ছেলে কৃষ্ণ ছেত্রীর অভিযোগ,  থানার লকআপে পুলিশের বেধড়ক  মারে মৃত্যু হয়েছে ভীমবাহাদুরের। যদিও নাগরাকাটা থানা সুত্রে জানানো হয়েছে, ওই ব্যক্তি লকআপে অসুস্থ হয়ে পড়ায়  তাঁকে শুল্কাপাড়া ব্লক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।  সেখানেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে জানান। অভিযোগ, এরপরই প্রথমে হাসপাতালে আসা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বচসা, পরে তাদের ওপর চড়াও হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ঢিলের আঘাতে আহত হয়েছেন দুই পুলিশকর্মী। এর পরে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় র‍্যাফ। জলপাইগুড়ি থেকেও বিশাল পুলিশবাহিনী পাঠানো হয়।

ভীমবাহাদুর ছেত্রীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি আনার সময় বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। মৃতদেহ আটকে দেন পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় শুল্কাপাড়া ব্লক হাসপাতালেই দেহ ময়নাতদন্ত করতে হবে বলে দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, জলপাইগুড়িতে দেহ নিয়ে গেলে ময়নাতদন্ত প্রভাবিত হতে পারে।পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে তাঁদের সরিয়ে দেয়। তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়, সোমবার সকালে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি আনা হবে। রাত পর্যন্ত উত্তেজনা থাকে নাগরাকাটায়।  

আগামীকাল জলপাইগুড়ি হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হবে। জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে জানিয়েছেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। তবে লকআপে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেই দাবি করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here