জলপাইগুড়িতে ঘুমপাড়ানি গুলিতে মৃত্যু দুই বাইসনের

0
84

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : প্রথমে অতর্কিতে হামলা, জখম বেশ কয়েকজন, পরে মৃত্যু দুই হামলাকারীর। 

না, কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা নয়। হামলাকারী দু’টি বিশালকায় বুনো বাইসন। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি ব্লকের রামশাই-র ঘটনা।

শীতের সকাল। সবে ঘুম ভেঙেছে গ্রামের মানুষের। হঠাৎই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় রামশাই-র কালামাটি ও খেমনহাট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।প্রথমে অনেকে বুঝতেই পারেননি কী হয়েছে। পরে জানা যায় দু’টি বিশালাকায় বাইসন ঢুকে পড়েছে এই দুটি এলাকায়। তার মধ্যে একটি বাইসন বেশ কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬টি বাড়ি। মলীন্দ্রনাথ বর্মন নামে এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁর বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাইসনের তাণ্ডবে। দু’ জন গ্রামবাসীও আহত হন তার আক্রমণে। অপরটি স্থানীয় একটি ছোট চা বাগানে ঢুকে পড়ে।

bison1
খবর পেয়ে সাউথ গরুমারা রেঞ্জ, রামশাই বিট ও বিছাভাঙ্গা বিটের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা প্রথমে বাইসন দু’টিকে জাল ফেলে কাবু করার চেষ্টা করেন। সেই সময় চা বাগানে থাকা বাইসনটি বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তার আক্রমণে বিছাভাঙ্গা’র বিট অফিসার প্রবীর কুমার সরকার গুরুতর ভাবে আহত হন। তিনি জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পালাতে গিয়ে আহত হন আরও দুই বনকর্মী। এর পর উপায়ান্তর না দেখে বাইসন দু’টিকে ঘুম পাড়ানি গুলি ছুঁড়ে কাবু করার চেষ্টা করা হয়। তবে ঘুমপাড়ানি গুলি ছোঁড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় বাইসন দু’টির।
bioson2
পশু চিকিৎসকদের মতে বাইসনদের হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়। তাই প্রথমে ছুটোছুটি এবং তার পর ঘুমপাড়ানি গুলির আঘাত সহ্য করতে না পেরেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণ (২) বিভাগের বনাধিকারিক নিশা গোস্বামী অবশ্য জানিয়েছেন, ময়না তদন্তের জন্য দু’টি বাইসনের দেহ গরুমারা জাতীয় উদ্যানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে বনাধিকারিকদের দাবি, ঘুমপাড়ানি গুলি না ছুঁড়লে আরও মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা ছিল। প্রায় ৭ ঘন্টা তাণ্ডবের পর রেহাই পেয়ে হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন কালামাটি ও খেমনহাটের বাসিন্দারা।
বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here