মাটির বিশ্বকর্মার জীবন্ত বাহন হাতির পুজো জলপাইগুড়িতে

0
108

নিয়ম মেনেই হয় বিশ্বকর্মা পুজো, তবে একটু অন্যরকম। এখনে দেবতা বিশ্বকর্মার পাশাপাশি পূজিত হন তাঁর বাহন গজরাজ। তবে তা মাটির তৈরি প্রতিমা নয়। এক্কেবারে আসল হাতি।

 জলপাইগুড়ির গরুমারা জাতীয় উদ্যান। এখানে তিনটি পিলখানা রয়েছে। গরুমারা, ধুপঝোড়া এবং মেদলা। এই তিনটি পিলখানায় মোট ১৯টি কুনকি হাতি রয়েছে। এরা বনদফতরের পোষা হাতি। বনদফতর তাদের দিয়ে পর্যটকদের ঘোরানো থেকে শুরু করে, জঙ্গল পাহারা দেওয়ার মত সব কাজই করায়। তবে তা বিনে পয়সায় নয়। এরা রীতিমত সরকারি কর্মচারী। এমনকি অবসর নেওয়ার পর পেনশনও পান।

hati-pujo-1

বিশ্বকর্মা পুজোর দিন এখানে উপরি পাওনা মহাসমারোহে হাতি পুজো। বিশ্বকর্মার বাহন হিসেবে মাহুতরা প্রতি বছর নিয়ম মেনে হাতিদের পুজো করে থাকেন। তাতে সামিল হন বনদফতরের আধিকারিক থেকে শুরু করে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও। 

তবে এ-বারে এই পুজোর বাড়তি আকর্ষণ ছোট্ট “তিতলি”। তিন মাস বয়সি এই খুদে হাতিকে কয়েক দিন আগে লোকালয় থেকে উদ্ধার করে এখানে আনা হয়েছে। শনিবার মেঘলাল, সূর্য, বাসন্তিদের সাথে সে-ও পূজিত হয়।

সকালে হাতিগুলিকে গরুমারা জঙ্গল সংলগ্ন মূর্তি নদী থেকে স্নান করিয়ে নিয়ে আসা হয়।। এরপর চলে পিলখানার “বিউটিপার্লার”-এ তাদের সাজগোজের পালা।

তারপর পুজো মন্ডপের সামনে নিয়ে আসা হয় তাদের। নিয়ম মেনে শুরু হয় পুজো। মাটির তৈরি বিশ্বকর্মার প্রতিমার পাশে দাঁড়িয়ে পুজো নেয় দেবতার জীবন্ত “বাহন”।

hati-pujo-2

পুজো শেষে চলে ভুরি-ভোজের পালা। ভোজের ব্যবস্থা ছিল হাতি ও মানুষ – দুজনের জন্যই। তবে অবশ্যই মেনু আলাদা। গজরাজদের জন্য থাকে চাল, কলাসহ অন্যান ফল। আর ভক্তদের জন্য খিচুরি, পাঁপড়, ফুলকপির ডালনা আর চাটনি।

তবে এ-বারে হাতিদের মেনুতে নতুন “ভোগের” সংযোজন বেবি ফুড, খুদে তিতলির জন্য। এত ছোট্ট হাতি অন্য কিছু খেতে পারে না, তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বেবি ফুডের ব্যাবস্থা।

সব শেষে সন্ধ্যা হলে গজরাজরা সারাদিনের আনন্দের অনুভুতি নিয়ে পিলখানায় ফিরে যান। পর্যটকেরাও ফিরে যান এক অদ্ভুত উৎসবমুখর পরিবেশের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে।

hati-pujo-3

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here