রাজারহাট-গোপালপুর পুর এলাকায় বেআইনি নির্মাণে তদন্তাদেশ মেয়রের

0
101

saibal-biswasশৈবাল বিশ্বাস

পুরোনো রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভা এলাকায় পুরসভার হিসাবের সঙ্গে নিবন্ধিকৃত নথির বিস্তর গরমিল ধরা পডেছে। অর্থাৎ রেজিস্টারে বাড়ির এক রকম মাপের উল্লেখ থাকলেও কম্পিউটারে অন্য‌ রকম তথ্য‌ ঢোকানো হয়েছে। ফলে একের পর এক জায়গায় পুরসভাকে ফাঁকি দিয়ে প্রোমোটাররা বেআইনি নির্মাণ করেছে। সম্প্রতি কয়েকটি বাড়ির রেজিস্টারে প্রাপ্ত মেমোর সঙ্গে কম্পিউটারে প্রাপ্ত নথি মিলিয়ে দেখতে গিয়ে এই অসঙ্গতি ধরা পড়ে। মেয়র সব্য‌সাচী দত্তর অনুমান, পুরসভার অসাধু কর্মচারীদের দিয়ে কম্পিউটার নথিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে অনুমোদন না থাকলেও নতুন মাপ দিয়ে বাড়ির নথিভুক্তকরণ ও অ্য‌াসেসমেন্ট হয়ে গিয়েছে। যেখানে নকশা অনুমোদন হয়েছে দোতলা বাড়ির জন্য‌ সেখানে বেমালুম পাঁচতলা বাড়ি উঠে গিয়েছে পুরকর্তৃপক্ষকে কাঁচকলা দেখিয়ে।

এই কেলেঙ্কারি নজরে আসায় পুরোনো রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার (এখন যেটি নতুন বিধাননগর পুরসভার অন্তর্গত) প্রতিটি বাড়ির কম্পিউটার নথি আর রেজিস্ট্রেশন মেমো পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রোমোটারের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশও পুরআধিকারিকদের দিয়ে রেখেছেন মেয়র। গত ১৯ জানুয়ারি মেয়র-ইন-কাউন্সিলের বৈঠকে এই নিয়ে উত্তেজিত আলোচনা হয়। মেয়র স্বয়ং এই পুকুরচুরির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, যে বা যাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। আগামী পুর অধিবেশনে এই নিয়ে আসর সরগরম হবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান। উল্লেখ্য‌, সব্য‌সাচীবাবু ব্য‌ক্তিগত উদ্য‌োগে বেআইনি নির্মাণের জন্য‌ ইতিমধ্য‌েই রাজারহাট নিউটাউন এলাকায় ৩৩ জন প্রোমোটারের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন। আগামী দিনে রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার বেশ কিছু প্রোমোটারের বিরুদ্ধে তিনি যে কড়া ব্য‌বস্থা নিতে চলেছেন তা বেশ স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

অনেকে আবার এই উদ্য‌োগের পিছনে অন্য‌ উদ্দেশ্য‌ও দেখতে পাচ্ছেন। সেটি একেবারেই শাসকদলের দলীয় কোন্দল। সেই সময় রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার চেয়ারম্য‌ান ছিলেন সিপিএমের তাপস চট্টোপাধ্য‌ায়। তিনি ঘটনাচক্রে এখন তৃণমূলে এবং পুরসভার ডেপুটি মেয়র। তাপসবাবুর সঙ্গে চিরকালই সব্য‌সাচী দত্তর সম্পর্ক ভালো নয়। তাপস চট্টোপাধ্য‌ায়ের দলে আসাটাও তাই সহজ হয়নি। অভিষেক বন্দ্য‌োপাধ্য‌ায়ের ব্য‌ক্তিগত উদ্য‌োগ ছাড়া এটা সম্ভব হত না। মেয়রের প্রোমোটারচক্রের পিছনে লাগার অন্য‌তম কারণই নাকি সেই সময় কী দুর্নীতি হয়েছিল তা খুঁজে বের করা। তাতে তাপসবাবু খানিকটা অপ্রস্তুত হতে পারেন। অবশ্য‌ মেয়রের অনুগামীরা বলছেন, শুধু রাজারহাট-গোপালপুরেই বিষয়টি থমকে থাকবে না। বিধাননগর এলাকাতেও তদন্ত হবে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here