গজলডোবার ‘বিতর্কিত’ ভোরের আলোতেই কেন পর্যটন সম্মেলন ডেস্টিনেশন ইস্ট?

0
558
gajoldoba destination east

শিলিগুড়ি: রাজ্যের পর্যটন দফতরের নিজস্ব সম্মেলন ডেস্টিনেশন ইস্টের জন্য এ বার বেছে নেওয়া হল উত্তরবঙ্গকে। শিলিগুড়ির গজলডোবায় নির্মীয়মান মেগা টুরিজম হাব ‘ভোরের আলো’তেই ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্যটন দফতর। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকারের এই নয়া উদ্যোগ নিয়ে যখন এখনও প্রতিবাদ আন্দোলন, এমনকী মামলা পর্যন্ত চলছে, তখন কেন পর্যটন দফতর এই বিকর্কিত স্থানটিকেই বেছে নিল।

এর আগে গত সাত বছর ধরে আয়োজিত হচ্ছে এই পর্যটন সম্মেলন। প্রতিবারই সম্মেলনের জন্য বেছে নেওয়া হয়ছে কলকাতা অথবা প্রতিবেশী কোনো রাজ্যের রাজধানীকে। কারণ এই সম্মেলনে বাংলা ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং বিহার সরকারি ভাবে অংশ নিয়ে থাকে। সম্মেলনের সহ আয়োজকের দায়িত্ব পালন করছে বণিকসভা কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ বা সিআইআই। দেশ-বিদেশ থেকে অগুন্তি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার প্রতিনিধিরা যোগ দেন এই সম্মেলনে। তা সত্ত্বেও কেন গ্রিন ট্রাইবুনালে মামলা চলা ভোরের আলোকেই বাছলেন উদ্যোক্তারা?

উত্তরে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম জানান, এই সম্মেলনের মাধ্যমেই উত্তরবঙ্গের পর্যটন-সহ সমস্ত শিল্পে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। ভোরের আলো প্রকল্পটির সঙ্গে সারা পৃথিবীর পরিচয় ঘটাবে এই সম্মেলন।

দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, কোনো নতুন প্রকল্প সম্পর্কে লগ্নিকারীকে বোঝানোর জন্য তাঁকে যদি স্পটে নিয়ে চলে আসা যায় তা হলে কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। প্রজেক্টরে দেখে কোনো প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা লাভ করার থেকে প্রকল্পে উপস্থিত হওয়াটা অনেকটাই কার্যকরী। তিনি জানান, আগামী ২১ জানুয়ারির ওই সম্মেলনে ৩০টি দেশের ৫২ জন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন গজলডোবায়।

পর্যটন দফতরের মতে, ডেস্টিনেশন ইস্টের মাধ্যমে ভোরের আলোর পাশাপাশি পাহাড়-সহ গোটা উত্তরবঙ্গকে তুলে ধরা যাবে। বিশেষ একটি গোষ্ঠীর হিংস্রাশয়ী আন্দোলনের জেরে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই সম্মেলনকে সামনে রেখে মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে। উত্তরবঙ্গে কোন কোন দেশ থেকে সব থেকে বেশি পর্যটক বেড়াতে আসেন, সেই তালিকা ঘেঁটেই আমন্ত্রিতের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

দফতরের আশা, এর আগের সব কটি সম্মেলন থেকেই প্রত্যক্ষ সফলতা পেয়েছে ডেস্টিনেসন ইস্ট। এ বারও তার অন্যথা ঘটবে না।

উল্লেখ্য, গজলডোবার নির্মীয়মাণ ওই প্রকল্পে ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে থেকে ২০০ কোটি টাকা ব্যয় ধার্য হয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়নে। মোট ২০৮ একর জমির উপর গড়ে উঠছে ভোরের আলো।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here