ব্যবসার সঙ্গে সংস্কৃতি, কলকাতাকে এক সূত্রে গেঁথে গেলেন গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূত

0
230
guatemalan ambassador in business meet
সপ্তমী ঘোষ

প্রথমে ভারতের সংস্কৃতিকে নিয়ে যেতে হবে গুয়াতেমালায়, তারই হাত ধরে যাবে ব্যবসা – কলকাতার পিয়ারলেস ইনে ব্যবসা সংক্রান্ত এক আলোচনাসভায় এই বক্তব্য সমর্থন করেন গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূত জিওভানি কাস্তিও। ভারত ও গুয়াতেমালাকে এক সূত্রে বাঁধে একটি শব্দ, ‘মায়া’। তাই ব্যবসায়িক সূত্রের পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে সাংস্কৃতিক বন্ধন – এই বার্তা দিয়েই দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানীকে এক সূত্রে বেঁধে ফেললেন গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূত।

কলকাতায় তিনদিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইন্দো হিস্প্যানিক ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাকাডেমির তৎপরতায় সস্ত্রীক কলকাতায় আসেন গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূত জিওভানি কাস্তিও। কলকাতায় এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় আগমন। এর আগে ২০১৭-এর আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন।

তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনের প্রথম ভাগে ছিল দ্য আসোসিয়েটেড চেম্বার্স অব কমার্স তথা অ্যাসোচ্যামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ব্যবসা সংক্রান্ত আলোচনাসভা। এই অনুষ্ঠানের প্রধান অংশগ্রহণকারী ছিলেন কলকাতার অন্যতম সফল মহিলা ব্যবসায়ী কেয়া শেঠ। তাঁর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রধান আধিকারিক। এ ছাড়া এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোচ্যামের সদস্যরা।

নানা ক্ষেত্র থেকে আগত ওই শিল্পপতিদের অনেকেই লাতিন আমেরিকা বিশেষ করে গুয়াতেমালার সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপনে উৎসাহী। রাষ্ট্রদূত জিওভানি কাস্তিওর সঙ্গে কথোপকথনে প্রথমেই জানতে চাওয়া হয় এই দেশের কোন জিনিসগুলি তাঁর দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। উত্তরে তিনি জানালেন, এ দেশের কারূশিল্পজাত দ্রব্য খুব ভালো ভাবে গৃহীত হবে তাঁর দেশের মানুষের কাছে। তাঁর সঙ্গে আরও গৃহীত হবে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল দ্রব্য। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, কফিপ্রেমী দেশের মানুষের কাছে এ দেশের চা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে। উত্তরে তিনি জানালেন, এ দেশের চায়ের প্রথম প্রেমিক তাঁর স্ত্রী। তাই মনে হয়, তাঁর দেশে চায়ের ব্যাপক প্রচার না থাকলেও ব্যবসায়িক ভাবে তা ছড়িয়ে পড়ার ভালোই সুযোগ রয়েছে।

গুয়াতেমালার সঙ্গে ভারতের ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক যোগসূত্রের কথা জানতে চাওয়া হলে রাষ্ট্রদূত জানালেন, তাঁর দেশ পৃথিবীর সব থেকে বড়ো এলাচ উৎপাদনকারী, আর ভারত পৃথিবীর সব থেকে বেশি এলাচ ভোগকারী। আর তাঁর দেশ থেকে এ দেশে খুব অল্প পরিমাণে কফিও এসে পৌঁছোয়।

তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভারতের সঙ্গে মধ্য আমেরিকার ব্যবসার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে গুয়াতেমালাকে কতটা ব্যবহার করা সম্ভব। কাস্তিও জানালেন, তাঁর দেশের হয়ে তিনি সব রকম ভাবে চেষ্টা করবেন এই যোগসূত্র স্থাপনে। এই দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগসূত্র স্থাপন খুবই কাম্য তাঁর কাছে। এ দেশে আসার আগে তিনি ভাবতেন, ভারত বলতে বোঝায় শুধু গান্ধী, কারি আর যোগ। এখানে আসার পর বুঝলেন, এর বাইরেও ভারত অনেকখানি। দিল্লির বাইরেও এ দেশে আছে কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বই শহর; মহাত্মা গান্ধী ছাড়াও আছেন মাদার তেরেসা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আরও অনেকে। একই ভাবে গুয়াতেমালাও শুধু ‘মায়া সভ্যতা’ নয়, তাঁর বাইরেও আছে বিশাল এক ক্ষেত্র। এই যোগসূত্র স্তাপনে তিনি দিল্লিতে ‘আমিগস দে গুয়াতেমালা’ বা গুয়াতেমালার বন্ধু বলে এক সংগঠন তৈরি করেছেন, যা কলকাতাতেও গঠিত হয়েছে ইন্দো হিস্প্যানিক ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাকাডেমির সৌজন্যে। তাই গুয়াতেমালার সঙ্গে কলকাতাকে এক সূত্রে বাঁধার খুঁটি তৈরি হয়ে গিয়েছে।

guatemalan ambassador in a function commemorating 50 years of nobel prize winning by poet miguel angel asturias
গুয়াতেমালার কবি মিগুয়েল আঙ্খেল আস্তুরিয়াসের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ৫০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সে দেশের রাষ্ট্রদূত।

এই দিন বিকেলে আইসিসিআর-এ ছিল তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ পর্ব — গুয়াতেমালার কবি মিগুয়েল আঙ্খেল আস্তুরিয়াসের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পঞ্চাশ বছর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান। এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল বেশ কয়েক দিন আগে। মে-জুন মাসে ইন্দো হিস্প্যানিক ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাকাডেমির সৌজন্যে আয়োজন করা হয়েছিল কবির দুটি কবিতার অনুবাদ ও গুয়াতেমালার ওপর স্প্যানিশ ভাষায় ‘আমার চোখে গুয়াতেমালা’ প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই প্রতিযোগিতায় জয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন স্বয়ং রাষ্ট্রদূত, সঙ্গে সব প্রতিযোগীদের জন্যই রইল শংসাপত্র।

এই তিন দিনের কলকাতা সফর শেষে এই শহর নিয়ে বলতে গিয়ে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে গেলেন রাষ্ট্রদূত ও তাঁর স্ত্রী। রাষ্ট্রদূত জিওভানি কাস্তিও জানালেন, এই শহরের মিষ্টি তাঁর কাছে সব থেকে বেশি উপাদেয় লেগেছে। তাঁর এ বারের যাত্রায় তিনি তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন অনেক মিষ্টি। জানালেন, এই শহরের মানুষ, সংস্কৃতি আর বন্ধুদের টানে ফিরে আসতে চান বারবার।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here